ফলন ভালো, বাড়তি খরচে বোয়ালমারীর পাটচাষীদের কপালে ভাঁজ!
মুশফিকুর রহমান, বোয়ালমারী (ফরিদপুর) প্রতিনিধি:
বোয়ালমারীর মাঠজুড়ে এখন পাটের সবুজের সমারোহ। অনুকূল আবহাওয়া ও তুলনামূলক কম পোকামাকড়ের আক্রমণে এ বছর পাটের ফলনও হয়েছে ভালো। তবে বাম্পার ফলনেও স্বস্তিতে নেই উপজেলার পাটচাষিরা। শ্রমিকের বাড়তি মজুরি, সার-কীটনাশকসহ কৃষি উপকরণের মূল্যবৃদ্ধিতে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার শঙ্কায় রয়েছেন তারা।
বোয়ালমারী উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ১৬ হাজার ১১২ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। প্রতি হেক্টরে গড়ে ২ দশমিক ১৫ টন পাট উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। গত মৌসুমের তুলনায় এবার ফলনও ভালো হয়েছে। বিশেষ করে পোকামাকড়ের উপদ্রব কম থাকায় পাটগাছ হয়েছে সতেজ ও সবল।
তবে ভালো ফলনের পাশাপাশি বেড়েছে কৃষকের দুশ্চিন্তাও। পাট কাটা, বহন ও জাগ দেওয়ার কাজে শ্রমিকের মজুরি বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যয় অনেকটাই বেড়েছে। একই সঙ্গে সার, কীটনাশক ও অন্যান্য কৃষি উপকরণের দাম বৃদ্ধিও বাড়তি চাপ তৈরি করেছে। এছাড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পর্যাপ্ত পানি না থাকায় পাট জাগ দেওয়ার ক্ষেত্রেও সমস্যায় পড়ছেন কৃষকরা।
কৃষকদের দাবি, পাট উৎপাদনে শুরু থেকেই খরচ বেশি হয়েছে। ফলে বাজারে পাটের দাম প্রত্যাশিত পর্যায়ে না থাকলে ভালো ফলন হয়েও তারা লাভের মুখ দেখবেন না। এমনকি উৎপাদন খরচ তুলে মূলধন ফেরত পাওয়াও কঠিন হয়ে পড়তে পারে। তাই বাম্পার ফলনের পাশাপাশি পাটের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
শেখর ইউনিয়নের বাজিতপুর গ্রামের কৃষক মো. আতিয়ার রহমান বলেন, ‘এবার পাটের ফলন ভালো হয়েছে। তবে পানি সংকটের কারণে পাট পচাতে কিছুটা সমস্যা হয়েছে। এর মধ্যে বাতাসে পাটগাছ পড়ে যাওয়ায় কাটার সময়ও বাড়তি কষ্ট হচ্ছে।’
দুর্গাপুর গ্রামের কৃষক রুবেল শেখ বলেন, ‘এবার পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। কিন্তু শ্রমিকের অতিরিক্ত মজুরির কারণে উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে গেছে। বাজারে পাটের ন্যায্যমূল্য না পেলে ভালো ফলনও আমাদের জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াবে।’
বোয়ালমারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলভীর রহমান বলেন, ‘এ বছর উপজেলায় পাটের ফলন ভালো হয়েছে এবং পোকামাকড়ের তেমন উপদ্রব হয়নি। তবে বিপণন ও বাজারদরের বিষয়টি কৃষি বিভাগের সরাসরি নিয়ন্ত্রণে নেই। কৃষকরা যাতে ন্যায্যমূল্য পান, সে বিষয়ে সরকারের ঊর্ধ্বতন মহলের সঙ্গে কথা বলা হবে।’