পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার বলরামপুর ইউনিয়নের চুচুলী কোনপাড়া ২নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা, স্থানীয়ভাবে পরিচিত বটতলী বাজারের সুপরিচিত ব্যবসায়ী মোঃ ধজিবুর ইসলাম এর পিতা, মোঃ মজিবর রহমান স্থানীয় পরিচয়ে (বৈশাখু) আর নেই। শুক্রবার ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে তিনি ইন্তেকাল করেন।
মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল আনুমানিক ৮৫ বছর।
ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।
মরহুম মোঃ মজিবর ছিলেন একজন সাধারণ জীবনযাপনকারী ও ধর্মপ্রাণ মানুষ। নিজের কর্মজীবন ও পারিবারিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি তাঁর সামর্থ্য অনুযায়ী ইসলামকে ধারণ ও লালন করার চেষ্টা করেছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, মোঃ মজিবর নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করতেন এবং জামাতের সঙ্গে সালাত আদায়ে ছিলেন অভ্যস্ত। জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত নামাজের প্রতি তাঁর এই অনুরাগ ছিল চোখে পড়ার মতো।
মৃত্যুর আগের দিনও মসজিদে
মরহুমের জীবনের শেষ দিনের ঘটনাগুলো যেন তাঁর ধর্মীয় জীবনের একটি স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে রয়ে গেল।
বৃহস্পতিবার বিকেলে স্থানীয় বটতলী বাজারের পরিবারের বাজার শেষ করেন তিনি। এরপর চুচুলী সরকারপাড়া জামে মসজিদে গিয়ে সালাত আদায় করেন। স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা যায়, তিনি ওই মসজিদে নামাজের আজানও দেন।
এরপর রাতেও তিনি এশার নামাজ আদায় করেন।
কেউ হয়তো জানতেন না—এটাই হতে যাচ্ছে তাঁর জীবনের শেষ এশার নামাজ।
এশার নামাজ আদায় করে তিনি বাড়িতে ফিরে যান। এরপর রাত পেরিয়ে আসে শুক্রবার। আর শুক্রবার ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে তিনি তাঁর রবের ডাকে সাড়া দিয়ে এই দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে চলে যান।
ফজরের নামাজ আর পড়া হলো না
প্রতিদিনের মতো হয়তো তাঁরও ফজরের নামাজের জন্য জাগার কথা ছিল। কিন্তু আল্লাহর হুকুমে সেই নামাজ আর তাঁর পড়া হলো না।
যে মানুষটি মৃত্যুর আগের সন্ধ্যায় মসজিদে গিয়ে সালাত আদায় করেছেন, আজানের সঙ্গে মানুষের নামাজের আহ্বান জানিয়েছেন এবং রাতে এশার নামাজ পড়ে ঘরে ফিরেছেন—পরদিন ভোরেই তিনি চলে গেলেন এমন এক জগতে, যেখান থেকে আর কেউ ফিরে আসে না।
এটাই দুনিয়ার বাস্তবতা।
গতকাল যিনি ছিলেন আমাদের মাঝে, আজ তিনি মাটির ঘরের বাসিন্দা।
ইসলামকে যতটুকু পেরেছেন, লালন করেছেন
মরহুম মোঃ মজিবর তাঁর জীবদ্দশায় ইসলামকে যতটুকু পেরেছেন, নিজের জীবনাচরণে ধারণ ও লালন করার চেষ্টা করেছেন—এমনটাই জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের প্রতি তাঁর নিয়মিততা, জামাতে সালাত আদায়, মসজিদের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা এবং জীবনের শেষ দিনেও নামাজ আদায় করার ঘটনা তাঁর ধর্মীয় জীবনের প্রতি ভালোবাসারই পরিচয় বহন করে।
একজন মানুষের পুরো জীবনকে হয়তো কয়েকটি ঘটনায় তুলে ধরা সম্ভব নয়। কিন্তু তাঁর জীবনের শেষ মুহূর্তগুলোর কিছু ঘটনা মানুষের মনে গভীরভাবে দাগ কাটে।
মৃত্যুর আগের দিনও বাজারের কাজ শেষ করে মসজিদে যাওয়া, নামাজ আদায় করা, আজান দেওয়া, রাতে এশার নামাজ পড়া—এরপর শুক্রবার ভোরে ইন্তেকাল—সবকিছু মিলিয়ে তাঁর বিদায়টি পরিবারের পাশাপাশি স্থানীয় মুসল্লি ও শুভাকাঙ্ক্ষীদেরও আবেগাপ্লুত করেছে।
শুক্রবারে ইন্তেকাল
মরহুমের ইন্তেকালের দিনটিও ছিল শুক্রবার। ইসলামী সংস্কৃতিতে শুক্রবার একটি মর্যাদাপূর্ণ দিন।
মোঃ মজিবরের ইন্তেকাল শুধু একটি পরিবারের জন্য শোকের ঘটনা নয়; এটি আমাদের প্রত্যেকের জন্য একটি শিক্ষা।
জীবন যত দীর্ঘই হোক, একদিন না একদিন সবাইকে ফিরে যেতে হবে মহান আল্লাহর কাছে।
ব্যবসা থাকবে, ঘরবাড়ি থাকবে, আপনজন থাকবে, পরিচিত মানুষ থাকবে—কিন্তু মানুষটি আর থাকবে না।
তাই মরহুমের জীবন থেকে আমাদের শিক্ষা নেওয়া উচিত—যতদিন জীবন আছে, ততদিন আল্লাহর ইবাদত, নামাজ ও নেক আমলের প্রতি যত্নবান হওয়া।
আজ তিনি চলে গেছেন। কাল হয়তো আমাদের কারও পালা।
জানাজার নামাজ আজ
মরহুম মোঃ মজিবর (বৈশাখু)-এর জানাজার নামাজ আজ শুক্রবার জুমার নামাজের পর দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে চুচুলী কোনপাড়া গোরস্থানে অনুষ্ঠিত হবে।
পরিবারের পক্ষ থেকে আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী, ব্যবসায়ী, শুভাকাঙ্ক্ষী ও সর্বস্তরের মুসল্লিদের জানাজায় উপস্থিত হয়ে মরহুমের জন্য দোয়া করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।