রায়পুর, রামগতি ও কমলনগরে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ অপারেশন সেবা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না পেয়ে বাড়ছে ভোগান্তি, লক্ষ্মীপুরের তিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিন ধরে অস্ত্রোপচার কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এতে স্বাভাবিক প্রসবের পাশাপাশি বিভিন্ন ছোট-বড় অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হওয়া রোগীদের পড়তে হচ্ছে নানা ভোগান্তিতে।
উপজেলা পর্যায়ে চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ থাকলেও অস্ত্রোপচার সেবা চালু না থাকায় অনেক রোগীকে জেলা সদর কিংবা বেসরকারি হাসপাতালে যেতে হচ্ছে।
জেলার রায়পুর, রামগতি ও কমলনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অস্ত্রোপচার সেবা বন্ধ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও জনবল সংকটের কারণে দীর্ঘ সময় ধরে এ কার্যক্রম চালু করা যাচ্ছে না।
রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অস্ত্রোপচারের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও সরঞ্জাম থাকলেও চিকিৎসক সংকটের কারণে দীর্ঘদিন ধরে অপারেশন কার্যক্রম বন্ধ। ফলে প্রসূতি রোগীসহ অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন এমন রোগীদের অন্যত্র পাঠাতে হচ্ছে।
রামগতি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও একই পরিস্থিতি। সেখানে দীর্ঘ সময় ধরে অস্ত্রোপচার কার্যক্রম বন্ধ থাকায় উপজেলা পর্যায়ে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগীদের অনেকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না পেয়ে অন্য হাসপাতালে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।
অন্যদিকে কমলনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২০২০ সালের নভেম্বরের পর থেকে অস্ত্রোপচার কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসক না থাকায় সেখানে অপারেশন সেবা পুনরায় চালু করা সম্ভব হয়নি বলে হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
স্বাস্থ্যসেবা নিতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসা রোগীদের অভিযোগ, জরুরি মুহূর্তে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হলে তাঁদের অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। এতে একদিকে যেমন অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় হচ্ছে, অন্যদিকে গুরুতর রোগী ও প্রসূতিদের ক্ষেত্রে সময়মতো চিকিৎসা পাওয়া নিয়ে তৈরি হচ্ছে উদ্বেগ।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, উপজেলা পর্যায়ের সরকারি হাসপাতালগুলোতে যদি অস্ত্রোপচার সেবা কার্যকর থাকে, তাহলে রোগীদের জেলা সদর বা দূরের হাসপাতালে ছুটতে হবে না। বিশেষ করে দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অস্ত্রোপচার সেবা চালু থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
স্বাস্থ্য বিভাগের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও জনবল নিয়োগ এবং অন্যান্য ঘাটতি পূরণ করা গেলে এসব হাসপাতালে অস্ত্রোপচার সেবা পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব। তবে দীর্ঘদিন ধরে সেবা বন্ধ থাকায় স্থানীয় জনগণের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে অবকাঠামো ও যন্ত্রপাতি থাকার পরও যদি জনবল সংকটে অস্ত্রোপচার সেবা চালু রাখা না যায়, তাহলে সরকারি বিনিয়োগের সুফল থেকেও স্থানীয় মানুষ বঞ্চিত হচ্ছেন। তাই দ্রুত প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও জনবল নিশ্চিত করে তিন হাসপাতালে অস্ত্রোপচার সেবা চালুর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
অপারেশন থিয়েটার চালুর জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসক পদায়নের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে প্রতিমাসে জানানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন রামগতি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা কামনাশিস মজুমদার। তিনি বলেন, সার্জারি, গাইনি ও অ্যানেসথেসিওলজিস্টসহ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সংকট রয়েছে। এ কারণে অপারেশন কার্যক্রম চালু করা যাচ্ছে না। এই উপজেলার অধিকাংশ মানুষ নিম্ন আয়ের। এই উপজেলায় বেসরকারি হাসপাতালও নেই। এ কারনে এখনকার মানুষ বেশি ভোগান্তির শিকার।
জানতে চাইলে লক্ষ্মীপুরের সিভিল সার্জন বাহারুল আলম বলেন, ‘স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক সংকটের বিষয়টি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে জানানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসক পদায়নের উদ্যোগের বিষয়টি শুনেছি। পদায়ন হলে অপারেশন থিয়েটার চালু করে অস্ত্রোপচার শুরু করা হবে।