ঠাকুরগাঁওয়ের নেকমরদের আলোচিত মুক্তা রায়ের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে ইসলাম ধর্ম নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য এবং মুসলিম নারীর সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠে।
এসব অভিযোগের পর শালিসি বৈঠকে নিজের ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চেয়েছেন মুক্তা রায়।
একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার বিষয়ে লিখিত মুচলেকায় স্বাক্ষর করেছেন তিনি।
মুচলেকায় উল্লেখ করা হয়, ভবিষ্যতে ইসলাম ধর্ম, আল্লাহ ও আল্লাহর রাসূল (সা.) সম্পর্কে অনলাইনে কিংবা অফলাইনে কোনো ধরনের কটূক্তি বা উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকবেন মুক্তা রায়।
এতে আরও বলা হয়, যারা ঘটনাটি প্রকাশ করেছেন কিংবা বিষয়টি নিরসনের উদ্যোগ নিয়েছেন, তাদের কাউকে কোনো ধরনের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া যাবে না।
এ ধরনের কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে তার দায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকেই নিতে হবে।
মুচলেকায় ভবিষ্যতে কোনো মুসলিম নারীর সঙ্গে অসামাজিক কর্মকাণ্ড বা সম্পর্কে না জড়ানোর অঙ্গীকারও করা হয়।
এ ছাড়া মুচলেকায় উল্লেখ করা হয়, এসব কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে নিজের জানমালের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হলে তার দায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকেই নিতে হবে।
কোনো মুসলিম জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ, এর দায়ভার নেবে না বলে মুচলেকায় উল্লেখ করা হয়।
শালিসি বৈঠকে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার বিভিন্ন উপজেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।
উপস্থিতদের মধ্যে ছিলেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার সহ-সভাপতি ও রাণীশংকৈল উপজেলা শাখার সভাপতি মাওলানা সামসুদ্দিন, ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মুফতি শরিফুল ইসলাম, পীরগঞ্জ উপজেলা শাখার সভাপতি মুফতি তমিজ উদ্দিন এবং রাণীশংকৈল উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাওলানা রাজেকুল ইসলাম রাজুসহ বিভিন্ন উপজেলার নেতৃবৃন্দ।
এ সময় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল রানীশংকৈল উপজেলা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমির আহমেদ বাবু, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার যুব বিভাগের সভাপতি শাহ জালাল জুয়েল এবং স্থানীয় সমাজসেবক আলহাজ্ব আনিসুর রহমান সহ রাণীশংকৈল থানার পুলিশ সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।
শালিসি বৈঠকে মুক্তা রায় নিজের ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চান এবং লিখিত মুচলেকায় স্বাক্ষর করেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন