শারদীয় দুর্গাপূজার আর মাত্র ১১ দিন বাকি। উৎসবকে ঘিরে ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে নানা প্রস্তুতি। পূজামণ্ডপ সাজানো থেকে শুরু করে আলোকসজ্জা, প্যান্ডেল নির্মাণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিমা শিল্পীরা। দিন-রাত পরিশ্রম করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ করতে ছুটছেন তারা।
প্রতিমা তৈরির কারখানাগুলোতে এখন যেন দম ফেলার সময় নেই। কোথাও চলছে মাটির কাজ, কোথাও প্রতিমার শরীরের শেষ মুহূর্তের গঠন ঠিক করা হচ্ছে। আবার কোনো কোনো স্থানে শিল্পীরা ব্যস্ত প্রতিমায় রঙের প্রলেপ, চোখ আঁকা, চুলের সাজ ও অলংকার তৈরির কাজে। ধীরে ধীরে মাটির কাঠামো থেকে পূর্ণাঙ্গ রূপ পাচ্ছে দেবী দুর্গা ও তাঁর পরিবার।
প্রতিমা তৈরির কাজ শুরু হয় বাঁশ ও খড় দিয়ে কাঠামো তৈরির মাধ্যমে। এরপর কয়েক ধাপে মাটি দিয়ে প্রতিমার অবয়ব তৈরি করা হয়। মাটি শুকিয়ে যাওয়ার পর চলে সূক্ষ্ম কাজ। সবশেষে রং, পোশাক, অলংকার ও অন্যান্য সাজসজ্জার মাধ্যমে প্রতিমাকে পূজার উপযোগী করে তোলা হয়। পুরো প্রক্রিয়াটিতে শিল্পীদের দক্ষতা, ধৈর্য ও দীর্ঘ অভিজ্ঞতার প্রয়োজন হয়।
শিল্পীরা জানান, পূজার সময় যত ঘনিয়ে আসে, কাজের চাপ ততই বাড়তে থাকে। অনেক সময় রাত পর্যন্ত কাজ করতে হয়। একটি প্রতিমা শুধু মাটি দিয়ে তৈরি কোনো অবয়ব নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে শিল্পীর দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা, সৃজনশীলতা ও শ্রম। প্রতিটি প্রতিমার মুখাবয়ব, চোখের দৃষ্টি, হাতের ভঙ্গি ও সাজসজ্জায় ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করা হয় নান্দনিকতা ও সৌন্দর্য।
এদিকে পূজার দিন ঘনিয়ে আসায় আয়োজকরাও প্রতিমা শিল্পীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিমা মণ্ডপে পৌঁছানো এবং পূজার অন্যান্য প্রস্তুতি সম্পন্ন করার জন্য চলছে সমন্বিত কার্যক্রম। অনেক মণ্ডপে ইতোমধ্যে প্রতিমার কাঠামোর কাজ শেষ হয়েছে। এখন চলছে রং ও সাজসজ্জার শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি।
প্রতিমা শিল্পীদের ব্যস্ততার পাশাপাশি পূজামণ্ডপগুলোতেও বাড়ছে কর্মচাঞ্চল্য। কোথাও প্যান্ডেল নির্মাণ, কোথাও আলোকসজ্জা, আবার কোথাও চলছে মণ্ডপের সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ। সব মিলিয়ে দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে বিভিন্ন এলাকায়।
প্রতিমা শিল্পীদের হাতের নিপুণ ছোঁয়ায় মাটির প্রতিমা ধীরে ধীরে হয়ে উঠছে পূজার মূল আকর্ষণ। আর মাত্র ১১ দিনের অপেক্ষা। এরপরই ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি ও পূজার নানা আয়োজনে মুখরিত হবে মণ্ডপগুলো। তাই শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততায় দিন-রাত এক করে কাজ করে চলেছেন প্রতিমা শিল্পীরা। তাঁদের শ্রম ও সৃজনশীলতায় পূর্ণতা পেতে যাচ্ছে এবারের শারদীয় দুর্গোৎসবের আয়োজন