সরকারি ছুটির দিনেও ধামইরহাটে শিক্ষকদের কনওগাঁর ধামইরহাটে সরকারি ছুটির দিনেও অবাধে চলছে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কোচিং সেন্টার। এদিকে সরকারি নিয়ম নীতি উপেক্ষা করে একটি ছোট্ট কক্ষে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ জন শিক্ষার্থীদের নিয়ে ক্লাস ও পরীক্ষা নিচ্ছেন চন্ডিপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোঃ কামরুজ্জামান
উপজেলা প্রশাসনের নাকের ডগায় দিন রাত চলছে তাদের এ অবৈধ ব্যবসা। সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও শিক্ষা অফিসের ছত্রছায়ায় শিক্ষকরা কোচিং বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
পৌরসভার বীজভান্ডার থেকে নিমতলী মোড়ে আবাসিক এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে জনভোগান্তি সৃষ্টি করছেন স্হানীয় সরকারি ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষলরা।
চক ময়রাম সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক তপন চন্দ্র মন্ডল স্কুলের ক্লাসে যেমন ইচ্ছে তেমন পড়ালেও নিজস্ব প্রাইভেট ব্যাচেই শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ করতে উদ্বুদ্ধ করেন।
নিমতলী বাজারের বালিকা স্কুল রোডে চক ময়রাম সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোঃ এবাদত হোসেন ও খন্ডকালীন সহকারী শিক্ষক সাবিহা ইয়াসমিন শ্রেণিকার্যক্রমের বিপরীতে নিজস্ব প্রাইভেট বাণিজ্যের প্রতি বিশেষ মনোনিবেশ করে থাকেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ রয়েছে।
ন্যাশনাল কোচিং সেন্টার নামক একটি প্রতিষ্ঠানে মোঃ আলমগীর হোসেন আরাফ নামে একজন কোচিং সেন্টারের সাথে সংশ্লিষ্ট ও তাকে সহযোগিতা করেন এবং নিয়মিত ক্লাস নেন আরও দুইজন প্রাইমারির শিক্ষক।
এখানে তিনি ‘চ্যালেঞ্জের সঙ্গে জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ প্রাপ্তির নিশ্চয়তা’ দিয়ে নিজ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের কোচিং করান।
এছাড়াও ধামইরহাট উপজেলার রঘুনাথপুর কামিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক মোঃ হারুন অর রশিদ মাদ্রাসা ছুটির পর মাদ্রাসা কক্ষে ভেড়ম দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পড়ান এবং এখান থেকে কমিশন পান স্কুলের প্রধান শিক্ষক। রঘুনাথপুর কামিল মাদ্রাসার আরেক সহকারী শিক্ষক মোঃ হাফিজ ইসলাম প্রায়ই কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকে নিজস্ব কোচিং সেন্টারে অবস্থান করেন।
শনিবার (১৫ ই আগস্ট) সকালে সরকারি ছুটির দিনে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় নিজস্ব
কোচিং সেন্টারের ১ টি কক্ষে প্রায় ৫০ জন শিক্ষার্থীকে ক্লাস করাচ্ছেন ধামইরহাট সিদ্দিকীয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক মোঃ আইয়ুব হোসেন।
সরকারি ছুটির দিনে কেন কোচিং সেন্টার খোলা রয়েছে, জানতে চাইলে শিক্ষক তপন চন্দ্র বলেন, আজই শেষ ক্লাস নেওয়া হচ্ছে। বাচ্চাদের সাজেশন দিয়েই ছুটি দেওয়া হবে। এছাড়াও সরকারি বিদ্যালয়ে কর্মরত শিক্ষকরা কী প্রাইভেট বা কোচিং করাতে পারেন- এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, প্রশাসন, সাংবাদিক ও শিক্ষকদের সঙ্গে সুসম্পর্ক রেখেই আমি কোচিং সেন্টার চালাই।
এ ব্যাপারে, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুল্লাহ আল মামুন মুঠোফোনে কল করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী তাহমিনা শারমিন সঙ্গে মুঠোফোন কথা হলে তিনি মিটিংয়ে আছেন বলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।