• মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪৮ অপরাহ্ন
Headline
তেঁতুলিয়ায় শিক্ষার্থীকে জিপিএ-৫ ও বিয়ের প্রলোভনে শারীরিক সম্পর্কের অভিযোগ,শিক্ষক পলাতক সেনবাগ ফাজিল মাদ্রাসায় নবম শ্রেণীতে বিজ্ঞান বিভাগ চালুর উদ্যোগ,বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে আনুষ্ঠানিক আবেদন জমা শিকল ভেঙে ভ্রাম্যমাণ দোকান চুরি, দিশেহারা সিয়াম পঞ্চগড়ে আলোচিত আলামিন হত্যা মামলার পলাতক আসামি নাইমুজ্জামান গ্রেপ্তার পবিপ্রবি ভিসির ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয় পরিদর্শন নয়াপাড়ায় যৌথ অভিযানে হ্নীলার ৪ যুবক উদ্ধার, সন্দেহভাজন আটক শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ সাফল্য নিয়ে গুজিয়া কনফিডেন্সে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা আটোয়ারীতে নবাগত ইউএনও নিরুপমা রায়ের সঙ্গে সুধীজন-গণমাধ্যমের মতবিনিময় শিক্ষার্থীদের মাঝে স্কুল ড্রেস বিতরণ করলেন মেম্বার পদপ্রার্থী রফিকুল ইসলাম আসাদ সবুজের ঘটনায় কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়ায় বরগুনা বিএমএসএফ শাখা স্থগিত

ঐতিহ্য হারানোর পথে মধুপুরের আনারস লোশকান,সারের দাম ও বাজারজাতকরণে দিশেহারা চাষী

হাফিজুর রহমান (মধুপুর) টাঙ্গাইলপ্রতিনিধি; / ৪১ Time View
Update : শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬

আনারসের দেশ হিসেবে খ্যাত টাঙ্গাইলের মধুপুরে এখন কৃষকের মুখে হাসি নেই। লোশকান, সারের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, ভাঙা যাতায়াত ব্যবস্থা আর বাজারজাতকরণের উচ্চ ব্যয়ের চাপে পিষ্ট হয়ে আনারস চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন এখানকার অধিকাংশ কৃষক।

মধুপুরের জলছত্র, গারো বাজার ও ২৫ মাইল এলাকায় প্রতিদিন সকাল থেকে চাষীরা তাদের কষ্টে ফলানো আনারস নিয়ে হাটে আসেন। কিন্তু ক্ষেত থেকে বাজারে আনার আগেই শুরু হয় খরচের হিসাব। প্রতি ট্রিপে গাড়ি ভাড়া, রাস্তার বেহাল দশায় পরিবহন খরচ, তার উপর হাটে ঢুকতেই গুনতে হয় “লোকশান” নামের চাঁদা।

চাষীদের অভিযোগ, চাষাবাদে ব্যবহৃত সার, কীটনাশক ও শ্রমিকের মজুরি আগের তুলনায় কয়েকগুণ বেড়েছে। একটি আনারস ফলাতে ১৮ মাস সময় লাগে। এরপর বাজারে গিয়েও পাওয়া যায় না প্রকৃত মূল্য। পাইকারিতে আকারভেদে একটি আনারস ১৫ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হলেও লোশকান ও পরিবহন খরচ বাদ দিলে হাতে থাকে সামান্য।

“আগে আনারস করেই সংসার চলত। এখন যা খরচ, তাতে লাভ তো দূরের কথা, আসলই ওঠে না। বাধ্য হয়ে অনেকেই জমিতে এখন কলা আর পেঁপে লাগাচ্ছে,” বলছিলেন জলছত্র হাটে আসা এক চাষী।

মধুপুরের আনারস শুধু দেশেই নয়, এর স্বাদ ও গন্ধের জন্য সুনাম ছিল বিদেশেও। ২০২৪ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর মধুপুরের আনারস জিআই পণ্যের স্বীকৃতিও পায়। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চাষীদের উৎপাদন খরচ কমানো, লোশকান বন্ধ এবং যাতায়াত ও বাজারজাতকরণে সরকারি সহায়তা না দিলে অদূর ভবিষ্যতে “আনারসের রাজধানী” মধুপুর তার ঐতিহ্য হারাবে।

চাষীদের দাবি, দ্রুত সময়ের মধ্যে সারের দাম নিয়ন্ত্রণ, হাটে চাঁদাবাজি বন্ধ ও রাস্তাঘাটের উন্নয়ন করা না হলে মধুপুরের মাটি থেকে একদিন হারিয়ে যাবে সোনালি আনারসের গল্প।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা