পাবনা সদর থানা সংলগ্ন একটি খোলা জায়গা থেকে শিকল ভেঙে চার চাকার বক্স আকৃতির একটি ভ্রাম্যমাণ দোকান চুরির অভিযোগ উঠেছে। এতে পরিবারের একমাত্র জীবিকার অবলম্বন হারিয়ে চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন মো. সিয়াম হক পিয়ুস (২২) নামের এক তরুণ।
চুরির ঘটনায় গত ৫ অক্টোবর পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী সিয়াম হক পিয়ুস। তিনি পাবনা সদর উপজেলার শালগাড়িয়া এলাকার বাসিন্দা।
অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, সিয়াম হক পিয়ুস ভ্রাম্যমাণ গার্মেন্টস পণ্যের ব্যবসা করেন। শারীরিক অসুস্থতার কারণে কিছুদিন ধরে তিনি নিয়মিত ব্যবসা পরিচালনা করতে পারছিলেন না। এ অবস্থায় স্থানীয় কয়েকজনের পরামর্শে দোকানটি নিরাপদে রাখার জন্য পাবনা সদর থানার পাশে ফার্স্ট কেয়ার হাসপাতাল ও কৌশিক ডেন্টাল কেয়ারের মাঝামাঝি একটি সরকারি খোলা জায়গায় রেখে দেন।
সিয়ামের দাবি, গত ২৫ সেপ্টেম্বর সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে তিনি দোকানটি নির্ধারিত স্থানে রেখে শিকল ও লোহার পেরেক দিয়ে তালাবদ্ধ করে যান। এরপর অসুস্থতার কারণে নিয়মিত সেখানে গিয়ে দোকানটির খোঁজখবর নিতে পারেননি।
পরে গত ৪ অক্টোবর দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি দেখতে পান, সেখানে তার ভ্রাম্যমাণ দোকানটি নেই। এরপর আশপাশের বিভিন্ন স্থান ও সম্ভাব্য এলাকায় খোঁজাখুঁজি করেও দোকানটির সন্ধান পাননি। স্থানীয় লোকজনের কাছেও বিষয়টি জানতে চান তিনি।
সিয়ামের অভিযোগ, গত ২৫ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টা থেকে ৪ অক্টোবর দুপুর ১২টার মধ্যে কোনো একসময় দুর্বৃত্তরা শিকল ভেঙে তার চার চাকার বক্স আকৃতির ভ্রাম্যমাণ দোকানটি চুরি করে নিয়ে যায়।
ভুক্তভোগী সিয়াম হক পিয়ুস বলেন, “অনেক কষ্ট করে ভ্রাম্যমাণ দোকানটি তৈরি করেছিলাম। অসুস্থতার কারণে ব্যবসা চালাতে না পারলেও দোকানটি নিরাপদে রেখে দিয়েছিলাম। এখন সেটিও চুরি হয়ে গেছে। পরিবার চালানোর একমাত্র অবলম্বন হারিয়ে খুব বিপদে পড়েছি।
তিনি আরও জানান, ভ্রাম্যমাণ দোকানটি হারিয়ে বর্তমানে তিনি মারাত্মক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। দোকানটি উদ্ধার না হলে নতুন করে ব্যবসা শুরু করাও তার জন্য কঠিন হয়ে পড়বে।
লিখিত অভিযোগে সিয়াম হক পিয়ুস ঘটনাটি তদন্ত করে চুরি যাওয়া ভ্রাম্যমাণ দোকানটি উদ্ধার এবং চুরির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশ প্রশাসনের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন।
ঘটনার বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।