• রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৪৯ অপরাহ্ন
Headline
গোয়ালঘরের দেয়াল কেটে বিদেশি দুই গরু চুরি গঙ্গাচড়ায় অবৈধ বালু উত্তোলনের সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিক কে হত্যার চেষ্টা মামলা প্রত্যাহার ও মুক্তির দাবিতে আসাদ সবুজের পাশে সাংবাদিকরা ন্যায্য অধিকার ও বৈষম্যহীন মর্যাদার দাবিতে মানিকগঞ্জে মাদ্রাসা শিক্ষকরা পটুয়াখালীতে ১২ বছরের শিশুকে অপহরণ, ৮ ঘণ্টায় উদ্ধার অপারেশনের জন্য ছুটতে হচ্ছে জেলা সদরে, ভোগান্তিতে লক্ষ্মীপুরের রোগীরা যবিপ্রবিতে শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ, কানের পর্দা ক্ষতিগ্রস্তের দাবি ‘শিক্ষা শিল্পের ঐকতান’: ইবিতে কর্মসংস্থান নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক উন্নয়ন সভা ও আটা বিতরণ অদম্য মেধাবী নিরবের চোখে বুয়েট, পথে বড় বাধা আর্থিক সংকট

ঋণের চাপেও বিদেশি ঋণ পরিশোধে রেকর্ড গড়ল সরকার

অনলাইন ডেস্ক / ৩১ Time View
Update : মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম পাঁচ মাসে বিদেশি ঋণের আসল ও সুদ বাবদ রেকর্ড ২০৪ কোটি ৭৬ লাখ মার্কিন ডলার পরিশোধ করেছে বাংলাদেশ সরকার। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ২৫ হাজার ১৬৩ কোটি টাকা।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) হালনাগাদ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ থেকে জুলাই পর্যন্ত পাঁচ মাসে বিদেশি ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে এটি এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ পরিমাণ। গত বছরের একই সময়ে সরকার বিদেশি ঋণের আসল ও সুদ বাবদ ১৮৯ কোটি ৭১ লাখ ডলার পরিশোধ করেছিল। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে ঋণ পরিশোধ বেড়েছে ১৫ কোটি ৪ লাখ ডলার বা প্রায় ১ হাজার ৮৪৯ কোটি টাকা।

ইআরডির তথ্য বলছে, চলতি বছরের মার্চ-জুলাই সময়ে বিদেশি ঋণের আসল বাবদ ১৩৫ কোটি ২৪ লাখ ডলার এবং সুদ বাবদ ৬৯ কোটি ৫২ লাখ ডলার পরিশোধ করা হয়েছে। এ হিসাবে পাঁচ মাসে প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ৪১ কোটি ডলারের বিদেশি ঋণ পরিশোধ করতে হয়েছে সরকারকে।

সরকারের নীতিনির্ধারকদের মতে, বিগত সময়ে বড় অবকাঠামো ও মেগা প্রকল্পের জন্য নেওয়া বিভিন্ন বিদেশি ঋণের গ্রেস পিরিয়ড শেষ হওয়ায় বর্তমানে আসল ও সুদ পরিশোধের চাপ বেড়েছে। একই সময়ে এসব ঋণের কিস্তি পরিশোধযোগ্য হওয়ায় সরকারের ওপর আর্থিক চাপও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন অবকাঠামো ও মেগা প্রকল্পের জন্য ব্যাপক ঋণ নেওয়া হয়েছে। তবে ঋণ গ্রহণের সময় প্রকল্পের ‘ভ্যালু ফর মানি’, সুদের হার এবং ঋণের বিপরীতে প্রত্যাশিত অর্থনৈতিক সুফল যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, বিদ্যুৎ খাতেও ক্যাপাসিটি চার্জসহ বিভিন্ন কারণে বিপুল আর্থিক দায় ও ভর্তুকির বোঝা তৈরি হয়েছে। এখন আগের সময়ের এসব দায় বর্তমান সরকারকে সামলাতে হচ্ছে।

তিতুমীর বলেন, ‘আমরা একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি পেয়েছি। তারপরও সরকার অগ্রাধিকার দিয়ে নিয়মিতভাবে এসব দায় পরিশোধ করে যাচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার দেশি ও বিদেশি—উভয় ধরনের ঋণ গ্রহণের ক্ষেত্রে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। নতুন ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে বিনিয়োগের সম্ভাব্য রিটার্ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক সুফল বিবেচনা করা হচ্ছে।

ইআরডির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশের বিদেশি ঋণ পরিশোধের চাপ ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে বিদেশি ঋণ পরিশোধের পরিমাণ ছিল ২৬৭ কোটি ডলার। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তা বেড়ে ৩৩৭ কোটি ডলারে এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৪০৯ কোটি ডলারে দাঁড়ায়। সর্বশেষ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিদেশি ঋণ পরিশোধের পরিমাণ আরও বেড়ে ৪৪৯ কোটি ডলারে পৌঁছেছে।

অর্থনীতিবিদ ও নীতিনির্ধারকদের মতে, বিদেশি ঋণ পরিশোধের বর্তমান চাপের একটি বড় কারণ হলো আগের বছরগুলোতে নেওয়া বড় প্রকল্প ঋণের গ্রেস পিরিয়ড শেষ হয়ে যাওয়া। ফলে একই সময়ে ঋণের আসল ও সুদ পরিশোধের চাপ বাড়ছে।

এ পরিস্থিতিতে সরকার একদিকে পুরোনো ঋণের দায় নিয়মিত পরিশোধ করছে, অন্যদিকে নতুন ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা, অর্থনৈতিক সম্ভাব্যতা, বিনিয়োগের সুফল এবং ভবিষ্যতে ঋণ পরিশোধের সক্ষমতাকে গুরুত্ব দিচ্ছে।

সরকারের নীতিনির্ধারকদের আশা, নিয়মিতভাবে বিদেশি ঋণ পরিশোধের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী ও ঋণদাতাদের কাছে বাংলাদেশের আর্থিক সক্ষমতা এবং বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখা সম্ভব হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা