• বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ১০:৩২ পূর্বাহ্ন
Headline
দিঘলিয়ায় জাতীয় মৎস্য পক্ষ উদযাপন কমিটির তিনদিনের কর্মসূচির সমাপ্তি অনুষ্ঠিত লামায় কমিউনিটি নেতৃবৃন্দের সম্পৃক্ততায় বন্যা সচেতনতা সভা তেঁতুলিয়ায় পূবালী ব্যাংকের কম্পিউটার লিটারেসি সেন্টার উদ্বোধন পরশুরামে জাতীয় মৎস্য পক্ষ ২০২৬-এর সমাপনী সভা ও কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত বীর উজলীতে স্কুলছাত্র নিখোঁজ, রক্তমাখা পোশাক উদ্ধার কালিয়াকৈরে এক বৃদ্ধের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয় আখাউড়ার খড়মপুর মাজারের দানবাক্স গুণে মিলল ১ কোটি ৩ লাখ টাকার বেশি হেলমেট-লাইসেন্স ছাড়াই বাইক চালানো: সিংড়ায় ৪ আরোহীকে জরিমানা তেঁতুলিয়ায় পূবালী ব্যাংকের CSR উদ্যোগে কম্পিউটার লিটারেসি সেন্টার উদ্বোধন সংকীর্ণ খালে বালুবাহী বড় জাহাজ, আতঙ্কে নগরকান্দার নাউডুবির মানুষ

কাবিখার চাল উত্তোলন নিয়ে মুখোমুখি প্রকল্প সভাপতি ও পিআইও

সবীর আহমেদ ফোরকান,পরশুরাম প্রতিনিধি / ৩৬ Time View
Update : মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬

ফেনীর পরশুরাম উপজেলার বক্সমাহমুদ ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কেতরাঙ্গা গ্রামে কাবিখা (গম) প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন না করেই সরকারি বরাদ্দের বিপরীতে চাল উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রকল্পের আওতায় রাস্তা সংস্কারের কথা থাকলেও বাস্তবে ওই রাস্তার অধিকাংশ কাজ তারা নিজেদের অর্থায়নে করেছেন। এ ঘটনায় প্রকল্পের বাস্তবায়ন, বরাদ্দের বিপরীতে চাল উত্তোলন এবং উত্তোলিত চালের ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

এলাকায় স্থাপিত প্রকল্পের সাইনবোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার (কাবিখা-গম) সাধারণ কর্মসূচির আওতায় দ্বিতীয় পর্যায়ে প্রকল্পটি নেওয়া হয়। প্রকল্পের নাম ‘৭নং ওয়ার্ড কেতরাঙ্গা গ্রামের ইদ্রিসের বাড়ির পার্শ্বে আগ্রের ব্রিজগামী রাস্তায় মাটি ভরাট’। প্রকল্পটির বিপরীতে ৭ দশমিক ১৭০ মেট্রিক টন গম বরাদ্দ দেখানো হয়েছে। কাজ শুরুর তারিখ ১ জানুয়ারি ২০২৬ এবং সম্ভাব্য সমাপ্তির তারিখ ৩১ মার্চ ২০২৬।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্পের নামে সাইনবোর্ড স্থাপন করা হলেও বরাদ্দের তুলনায় দৃশ্যমান কোনো কাজ হয়নি। যে সড়কে মাটি ভরাটের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, সেটির অধিকাংশ সংস্কার এলাকাবাসী নিজেদের অর্থায়নে করেছেন বলে দাবি তাদের।

স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রকল্প কমিটির সভাপতি আব্দুল মান্নান মানিক একটি স্ক্যাভেটর দিয়ে রাস্তার ওপর সামান্য মাটি ছিটিয়ে দেন এবং কয়েকটি গর্ত ভরাট করেন। তবে প্রকল্পের বরাদ্দের তুলনায় ওই কাজকে খুবই সামান্য বলে দাবি স্থানীয়দের।

এদিকে পরশুরাম খাদ্য গুদামের তথ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট বরাদ্দের বিপরীতে ৩১ মার্চ ২০২৬ তারিখে ৩ দশমিক ১৬০ মেট্রিক টন এবং ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে ২ দশমিক ৫০৪ মেট্রিক টন চাল উত্তোলন করা হয়েছে। দুই দফায় মোট ৫ দশমিক ৬৬৪ মেট্রিক টন, অর্থাৎ ৫ হাজার ৬৬৪ কেজি চাল উত্তোলন করা হয়েছে। বর্তমানে সরকারি কর্মসূচিতে গমের পরিবর্তে চাল দেওয়া হয়ে থাকে।

এ অবস্থায় স্থানীয়দের প্রশ্ন, প্রকল্পের কাজ যদি যথাযথভাবে বাস্তবায়ন না হয়ে থাকে এবং রাস্তার অধিকাংশ কাজ এলাকাবাসী নিজেদের অর্থায়নে করে থাকেন, তাহলে সরকারি বরাদ্দের বিপরীতে উত্তোলন করা চাল কোথায় এবং কীভাবে ব্যবহার করা হয়েছে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি আব্দুল মান্নান মানিক বলেন, তিনি প্রকল্পের বিষয়ে কিছুই জানেন না। তিনি শুধু সই করেছেন বলে দাবি করেন। উত্তোলিত চাল কোথায় গেছে, সে বিষয়েও তিনি কিছু জানেন না বলে জানান।

অন্যদিকে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) রাজীব আহমেদ বলেন, প্রকল্প কমিটির সভাপতি আব্দুল মান্নান মানিকই প্রকল্পের কাজ করেছেন এবং তাঁর স্বাক্ষরের মাধ্যমে চাল উত্তোলন করা হয়েছে। সভাপতি এখন কেন প্রকল্পের বিষয়ে জানেন না বলছেন, তা তাঁর বোধগম্য নয় বলে জানান তিনি।

পিআইও রাজীব আহমেদ আরও দাবি করেন, প্রকল্পের কাজ যথাযথভাবে সম্পন্ন হয়েছে। কাজ শুরুর আগে এবং কাজ শেষ হওয়ার পরের ছবি তাদের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে বলেও জানান তিনি।

প্রকল্পের বাস্তবায়ন, বরাদ্দের বিপরীতে চাল উত্তোলন এবং উত্তোলিত চালের ব্যবহার নিয়ে স্থানীয়দের অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নথিপত্র ও প্রকল্প-সংক্রান্ত ছবি যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠেছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা