মো :মঈনউদ্দিন উজ্জ্বল মাধবপুর প্রতিনিধি:
ফ্যামিলি কার্ড শুমারি-২০২৬ উপলক্ষে হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ৬নং শাহজাহানপুর ইউনিয়নে সুপারভাইজার ও তথ্য সংগ্রাহক নিয়োগকে ঘিরে নানা প্রশ্ন ও অভিযোগ উঠেছে। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির শর্ত, প্রার্থীদের অভিজ্ঞতা, একই পরিবারের একাধিক সদস্যের নিয়োগ এবং ওয়ার্ডভিত্তিক প্রার্থী নির্বাচনের বিষয় নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা চলছে।
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির ‘অযোগ্যতা’ অংশে উল্লেখ করা হয়েছে, “সরকারি/আধাসরকারি সংস্থায় নিয়মিত বেতনে কর্মরত” ব্যক্তিরা আবেদন করার যোগ্য নন। তবে প্রকাশিত চূড়ান্ত তালিকায় সুরমা চা বাগান আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা জিনাত মজুমদারকে সুপারভাইজার পদে নির্বাচিত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। ফলে বিজ্ঞপ্তির শর্ত যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।
এছাড়া একই তালিকায় জিনাত মজুমদারের ভাই মো. বোরহান ইসলাম মজুমদার (আকিব) তথ্য সংগ্রাহক পদে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। একই পরিবারের দুই সদস্যের নিয়োগের বিষয়টিও স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে একই পরিবারের সদস্য হওয়া নিজেই নিয়োগের অনিয়ম প্রমাণ করে না—এ ক্ষেত্রে নির্বাচন প্রক্রিয়ার নীতিমালা ও মূল্যায়ন গুরুত্বপূর্ণ।
অন্যদিকে, সুপারভাইজার পদে অপেক্ষমাণ তালিকায় রজত রায়ের নাম রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, তাঁর পূর্ববর্তী কোনো শুমারিতে কাজের অভিজ্ঞতা নেই। অথচ একই ইউনিয়নের একাধিক প্রার্থী পূর্ববর্তী সরকারি শুমারিতে দায়িত্ব পালন করলেও তারা চূড়ান্ত বা অপেক্ষমাণ তালিকায় স্থান পাননি বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে অভিজ্ঞ প্রার্থীদের মূল্যায়ন নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এছাড়া শাহজালাল সরকারি কলেজের খণ্ডকালীন শিক্ষক হৃদয় মিয়াকে তথ্য সংগ্রাহক পদে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করা হয়েছে। তাঁর ক্ষেত্রেও নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত যোগ্যতা ও অযোগ্যতার শর্ত প্রযোজ্য কি না, তা যাচাইয়ের দাবি উঠেছে।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তথ্য সংগ্রাহক পদে নির্বাচিত ১২ জনের মধ্যে ৭ জনই ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বলে জানা গেছে। অথচ ৬নং শাহজাহানপুর ইউনিয়নে মোট ৯টি ওয়ার্ড রয়েছে। বিশেষ করে ২ নম্বর ওয়ার্ডে একাধিক আবেদনকারী ও পূর্ববর্তী শুমারিতে দায়িত্ব পালনকারী অভিজ্ঞ প্রার্থী থাকলেও চূড়ান্ত কিংবা অপেক্ষমাণ কোনো তালিকায় ওই ওয়ার্ডের প্রার্থীর নাম না থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
শুধু শাহজাহানপুর ইউনিয়ন নয়, মাধবপুর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের আবেদনকারীদের মধ্যেও একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে। তাদের দাবি, পূর্ববর্তী শুমারিগুলোতে অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দেওয়া হলেও ফ্যামিলি কার্ড শুমারি-২০২৬-এর নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অভিজ্ঞ প্রার্থীদের যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি।
এ অবস্থায় স্থানীয়দের প্রশ্ন—নিয়োগে যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা, নীতিমালা ও সমান সুযোগের নীতি কতটা অনুসরণ করা হয়েছে?
তারা নিয়োগ প্রক্রিয়ার পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন তালিকা, নম্বর বিভাজন ও নির্বাচন পদ্ধতি প্রকাশের পাশাপাশি অভিযোগগুলো যাচাই করে প্রয়োজনে তদন্ত এবং স্বচ্ছ ব্যাখ্যা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নিয়োগ কর্তৃপক্ষ ও নির্বাচিত প্রার্থীদের বক্তব্য জানা গেলে প্রতিবেদনে তা সংযোজন করা হবে।