• বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ১২:১৪ অপরাহ্ন
Headline
নাসিরনগরে নিজ বাবার লালসার শিকার ১৫ বছরের কিশোরী, অভিযুক্ত বাবা আটক, চাঁপাইনবাবগঞ্জে অবৈধ সীসা কারখানায় অভিযান, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন ও জরিমানা মধুপুরে সড়ক ভাঙ্গনরুধে ব্লক বসানোর ১৫ দিনের মধ্যেই ভেঙ্গে চুরমার দীর্ঘদিনের স্বপ্নের পূরন হতে চলছে ঠাকুরগাঁও বাঁশির জন্য। হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে কোটি টাকা ব্যয়ে নাঈম ক্রিকেট ও ফুটবল ইনডোরের উদ্ভোধন করেন এমপি রেজা কিবরিয়া মোল্লাহাটে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহ-২০২৬ উদ্বোধন ভূরুঙ্গামারীতে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে নবাগত ইউএনও’র মতবিনিময় দিনাজপুরের বিরামপুরে জামায়াতে ইসলামীর ইউনিয়ন পরিষদ প্রার্থীদের নাম ঘোষণা। চাঁপাইনবাবগঞ্জে পবিত্র ঈদ-উল-আজহা উদযাপন উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত চাঁপাইনবাবগঞ্জ ‘হলদে পাখি’ সম্প্রসারণে মতবিনিময় সভা

জামালপুরে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান: অস্থায়ী চেকপোস্টে যানবাহন তল্লাশি, জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার

মোঃ মাকসুদুর রহমান শাকিল  জামালপুর জেলা প্রতিনিধি: / ২১ Time View
Update : বুধবার, ২০ মে, ২০২৬

মোঃ মাকসুদুর রহমান শাকিল  জামালপুর জেলা প্রতিনিধি:

 

মাদক নির্মূলে সরকারের চলমান কঠোর অবস্থানের অংশ হিসেবে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, জেলা কার্যালয়, জামালপুর কর্তৃক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অদ্য ২০ মে ২০২৬ খ্রিস্টাব্দে সকালে জেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়কে অস্থায়ী চেকপোস্ট বসিয়ে যানবাহনে তল্লাশি এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

জানা গেছে, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, জেলা কার্যালয়, জামালপুরের উপপরিচালক জনাব মোহাম্মদ রুহুল আমিনের সার্বিক নির্দেশনায় এ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন পরিদর্শক জনাব বিদ্যুৎ বিহারী নাথ। এ সময় জামালপুর-ময়মনসিংহ মহাসড়ক এবং জামালপুর-ইসলামপুর সড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অস্থায়ী চেকপোস্ট স্থাপন করে বিভিন্ন ধরনের যানবাহনে তল্লাশি চালানো হয়।

অভিযান চলাকালে যাত্রীবাহী বাস, ট্রাক, মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার, সিএনজি অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহন থামিয়ে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। একই সঙ্গে যানবাহনের ভেতরে অবৈধ মাদকদ্রব্য বহন করা হচ্ছে কিনা তা নিবিড়ভাবে তল্লাশি করা হয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রেখে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে অভিযান পরিচালনা করেন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, দেশের তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াবহ ছোবল থেকে রক্ষা করতে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। এরই ধারাবাহিকতায় জেলার বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত অভিযান, চেকপোস্ট কার্যক্রম এবং সচেতনতামূলক কর্মসূচি পরিচালনা করা হচ্ছে।

অভিযান চলাকালে উপস্থিত সাধারণ জনগণের মাঝেও মাদকবিরোধী সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে বিভিন্ন দিকনির্দেশনামূলক পরামর্শ প্রদান করা হয়। কর্মকর্তারা বলেন, মাদক শুধু একজন ব্যক্তিকেই ধ্বংস করে না, এটি একটি পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্যও মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। তাই যুবসমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখতে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন ও প্রশাসনের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

এ সময় পথচারী, যাত্রী এবং স্থানীয় জনগণের উদ্দেশ্যে মাদকের কুফল সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। বিশেষ করে তরুণদের উদ্দেশ্যে বলা হয়, বন্ধুমহল কিংবা সামাজিক প্রভাবের কারণে কেউ যেন মাদকের প্রতি আকৃষ্ট না হয়। সন্দেহজনক কোনো ব্যক্তি বা মাদক ব্যবসায়ীর তথ্য থাকলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রশাসনকে অবহিত করার আহ্বান জানানো হয়।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা আরও জানান, মাদক কারবারিরা প্রতিনিয়ত কৌশল পরিবর্তন করে বিভিন্ন পরিবহনের মাধ্যমে মাদক পরিবহনের চেষ্টা করছে। এসব অপতৎপরতা প্রতিরোধে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি জেলার প্রবেশপথগুলোতে বিশেষ নজরদারি অব্যাহত রাখা হয়েছে।

জামালপুর-ময়মনসিংহ এবং জামালপুর-ইসলামপুর সড়ককে মাদক পরিবহনের সম্ভাব্য রুট হিসেবে বিবেচনা করে নিয়মিত তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে বলেও জানান সংশ্লিষ্টরা। ভবিষ্যতেও এ ধরনের বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে আশ্বাস দেন তারা।

স্থানীয় সচেতন মহল মাদকবিরোধী এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তারা মনে করেন, প্রশাসনের এমন তৎপরতা অব্যাহত থাকলে সমাজ থেকে মাদক নির্মূলে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। একই সঙ্গে তারা অভিভাবকদেরও সন্তানদের প্রতি আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।

এ বিষয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, জেলা কার্যালয়, জামালপুরের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মাদকের অপব্যবহার প্রতিরোধ এবং মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে প্রতিষ্ঠানটি সর্বদা নিরলস ও বদ্ধপরিকর। মাদকবিরোধী অভিযান, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং আইনি কার্যক্রম ভবিষ্যতেও আরও জোরদারভাবে পরিচালনা করা হবে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন, “মাদক একটি সামাজিক ব্যাধি। এটি প্রতিরোধে শুধু আইন প্রয়োগকারী সংস্থার উদ্যোগই যথেষ্ট নয়, বরং সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণ প্রয়োজন। পরিবার থেকেই সন্তানদের নৈতিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে এবং তাদের চলাফেরার প্রতি নজর রাখতে হবে।”

অভিযান শেষে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা পুনরায় মাদকবিরোধী কার্যক্রমে জনগণের সহযোগিতা কামনা করেন এবং যে কোনো ধরনের মাদক সংক্রান্ত তথ্য প্রশাসনকে জানাতে আহ্বান জানান। মাদকমুক্ত জামালপুর গড়তে প্রশাসনের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধিই সবচেয়ে বড় শক্তি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা