নিজস্ব প্রতিবেদক, কিশোরগঞ্জ
কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলা স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে ঘিরে নানা অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও জনভোগান্তির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা, ভুক্তভোগী পরিবার ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা দাবি করেছেন, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাসেবার ঘাটতি, চিকিৎসকদের অনুপস্থিতি এবং প্রশাসনিক জটিলতার কারণে সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়ছেন। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হোসেনপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক সংকট, প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের অভাব এবং রোগীদের দীর্ঘ অপেক্ষা নিয়ে মানুষের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। অনেক রোগীকেই উন্নত চিকিৎসার জন্য কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতাল কিংবা বিভাগীয় শহরে যেতে হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) ডা. তানভীর হাসান সম্প্রতি হাসপাতালের পরিবেশ ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, হাসপাতালকে আরও আধুনিক ও রোগীবান্ধব করতে কাজ চলছে। তবে স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, দৃশ্যমান কিছু উন্নয়ন হলেও মৌলিক স্বাস্থ্যসেবার মান এখনো প্রত্যাশিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি।
এদিকে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে ঘিরেও বিভিন্ন অভিযোগ উঠেছে। কয়েকটি পরিবার দাবি করেছে, ফরেনসিক রিপোর্ট ও লাশ হস্তান্তর প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
কিছু সামাজিক ও মানবাধিকারকর্মী অভিযোগ করেছেন, সরকারি হাসপাতালের কিছু চিকিৎসক নির্ধারিত সময়ের বাইরে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে বেশি সময় দিচ্ছেন, যার ফলে সরকারি সেবায় প্রভাব পড়ছে। যদিও চিকিৎসকদের একটি অংশ বলছেন, জনবল ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণেই চাপ সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।
স্থানীয়দের আরেকটি বড় দাবি হলো, হোসেনপুরে দ্রুত একটি আধুনিক ময়নাতদন্ত কেন্দ্র (লাশকাটা ঘর) স্থাপন করা। তাদের মতে, এতে তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রম আরও সহজ ও দ্রুত হবে।
সচেতন মহল বলছে, স্বাস্থ্যসেবায় আস্থা ফিরিয়ে আনতে হলে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং প্রশাসনিক সংস্কারের কোনো বিকল্প নেই। একই সঙ্গে চিকিৎসা ও বিচারব্যবস্থাকে রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত প্রভাবমুক্ত রাখার দাবিও জানিয়েছেন তারা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সংবিধানে স্বাস্থ্যসেবা নাগরিকের মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃত। তাই প্রত্যন্ত অঞ্চলেও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। স্থানীয় বাসিন্দাদের আশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে এবং জনভোগান্তি কমাতে প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়ন করবে।