কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি:
কিশোরগঞ্জ জেলায় সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) এর টিকার ঘাটতি দেখা দেওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন অভিভাবকরা। জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও ইউনিয়নের কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে গিয়ে টিকা না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরছেন শত শত পরিবার। বিশেষ করে নবজাতক ও শিশুদের নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে জনস্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিয়েও।
আজ জেলার বেশ কয়েকটি কমিউনিটি ক্লিনিক ঘুরে দেখা যায়, অনেক অভিভাবক শিশুদের কোলে নিয়ে সকাল থেকেই টিকা কেন্দ্রে অপেক্ষা করছেন। কিন্তু প্রয়োজনীয় টিকা না থাকায় তাদের খালি হাতেই ফিরে যেতে হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন সময় ও অর্থের অপচয় হচ্ছে, অন্যদিকে শিশুদের নির্ধারিত সময়ের টিকা না পাওয়ায় অভিভাবকদের মাঝে আতঙ্ক ও হতাশা বাড়ছে।
বাজিতপুর উপজেলার বাসিন্দা ও সংবাদকর্মী জাহাঙ্গীর আলম জানান, তার চার মাস বয়সী ছেলে সন্তানকে এখন পর্যন্ত নির্ধারিত টিকা দিতে পারেননি। একাধিকবার কমিউনিটি ক্লিনিকে গিয়েও টিকা না পাওয়ায় তিনি চরম উদ্বেগে রয়েছেন। তিনি বলেন,
“শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য টিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বারবার ঘুরেও টিকা না পাওয়ায় আমরা খুব হতাশ। সন্তানকে রোগ থেকে নিরাপদ রাখতে না পারার ভয় সবসময় কাজ করছে।”
একই ধরনের অভিযোগ করেছেন আরও অনেক অভিভাবক। তারা জানান, স্বাস্থ্যকর্মীরা টিকা সংকটের কথা জানিয়ে পরে আসতে বলছেন। কিন্তু কবে নাগাদ টিকা পাওয়া যাবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারছেন না সংশ্লিষ্টরা।
জেলার বিভিন্ন কমিউনিটি ক্লিনিকের স্বাস্থ্যকর্মীরা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরেই কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইপিআই টিকার সরবরাহ কম রয়েছে। ফলে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী শিশুদের টিকা প্রদান সম্ভব হচ্ছে না। এতে মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবাও ব্যাহত হচ্ছে।
এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. অভিজিত শর্ম্মা টিকার ঘাটতির বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, শুধু কিশোরগঞ্জ নয়, বর্তমানে সারাদেশেই ইপিআই টিকার কিছু ঘাটতি রয়েছে। আশা করছি আগামী এক মাসের মধ্যেই পরিস্থিতির উন্নতি হবে এবং টিকার সরবরাহ স্বাভাবিক হয়ে আসবে।”
স্বাস্থ্যসচেতন মহল বলছে, শিশুদের নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটলে হাম, পোলিও, ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও নিউমোনিয়ার মতো বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ রোগের আশঙ্কা বাড়তে পারে। তাই দ্রুত টিকার সরবরাহ নিশ্চিত করে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এদিকে, দীর্ঘ অপেক্ষার পরও টিকা না পেয়ে হতাশ অভিভাবকদের একটাই প্রশ্ন— শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার এই গুরুত্বপূর্ণ সেবা কবে স্বাভাবিক হবে