• মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬, ০৯:৪৯ অপরাহ্ন
Headline
জমি নিয়ে দ্বন্দ্বে বন্ধ রাস্তা, দুর্ভোগে ৩০ পরিবার — দ্রুত সমাধানের দাবি স্থানীয়দের দীর্ঘবছর পর বালিয়াডাঙ্গী হাসপাতালে পুনরায় সিজার কার্যক্রম চালু ৫  ঠাকুরগাঁওয়ে পুষ্টিসমৃদ্ধ জিংক ব্রি ধান-১০২ শীর্ষক কৃষক মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হরিপুরে জিংক ব্রি ধান-১০২ শীর্ষক কৃষক মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত ভূতের ও জ্বীনের রাজত্ব যেন নরসিংপুর স্বাস্থ্য কেন্দ্রে তালাবদ্ধ ভবন, চরম ভোগান্তিতে হাজারো মানুষ। শিশু আবিরার আবদার পূরণ করছেন প্রধানমন্ত্রী: বগা সেতু পরিদর্শনে মন্ত্রী শেখ রবিউল ইসলাম চান্দিনায় বিশেষ অভিযানে ১০ কেজি গাঁজাসহ আটক ৩, দুইজন মাদক মামলায় গ্রেফতার জমি নিয়ে বিরোধে সাংবাদিকের পরিবারকে হত‍্যার হুমকি ঘাটাইলে ভূমি সেবা মেলার উদ্বোধন রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় তিন দিন ব্যাপী ভুমি সেবা মেলা

শিক্ষককে অপমানের ঘটনায় নতুন বিতর্ক: “ক্ষমা কি আন্তরিক, নাকি সুবিধাবাদী পদক্ষেপ

Reporter Name / ৭ Time View
Update : শুক্রবার, ৮ মে, ২০২৬

মোঃ হাফিজুল ইসলাম, সাতক্ষীরা :
সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক শহিদুল ইসলামকে অপমানের ঘটনাকে কেন্দ্র করে চলমান বিতর্কের মধ্যে রাজনৈতিক ও ছাত্র নেতৃত্বের প্রতিক্রিয়াও নতুন মাত্রা পেয়েছে।

কলেজ ছাত্রদলের সেক্রেটারি মোল্লা মোহাম্মদ শাহাজুদ্দীন এ বিষয়ে কঠোর মন্তব্য করেছেন।তিনি বলেন, “ক্ষমা চাওয়া তখনই মহত্ত্বের লক্ষণ হয়, যখন তা স্বেচ্ছায় এবং অনুশোচনা থেকে আসে। কিন্তু যখন কোনো ব্যক্তি শিক্ষকদের অপমান করে এবং শিক্ষার্থীদের বিশৃঙ্খলার পথে উসকে দেওয়ার মতো গুরুতর অপরাধ করেন, তখন বিপদে পড়ে ভোল পাল্টানোকে ক্ষমা নয়, বরং সুবিধাবাদ বলা হয়।”

তিনি আরও বলেন, সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের মতো একটি ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করার পর পরাজয় নিশ্চিত জেনে ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে যাওয়া কেবল নিজেকে বাঁচানোর ব্যর্থ চেষ্টা। এটি মূলত নৈতিক পরাজয় আড়াল করার একটি কৌশল বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ছাত্রদল সভাপতির মতে, সাধারণ শিক্ষার্থীরা এখন অনেক বেশি সচেতন। তারা বুঝতে পারে কোনটি প্রকৃত অনুশোচনা এবং কোনটি কেবল অস্তিত্ব রক্ষার অভিনয়।

এদিকে গত বৃহস্পতিবারের ঘটনায় সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের শিক্ষক শহিদুল ইসলামের সঙ্গে উগ্র ও অশালীন আচরণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকা উত্তাল হয়ে ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, কলেজ চলাকালে কোচিং সেন্টার খোলা রাখার বিষয়ে আপত্তি জানালে অভিযুক্ত সাবেক শিক্ষার্থী ও কোচিং পরিচালক কোচিং সজীবের মোবাইল ফোনে ওই শিক্ষকের সঙ্গে অশালীন আচরণ করেন। পরবর্তীতে কথোপকথনের একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়।

এর প্রতিবাদে শত শত শিক্ষার্থী কলেজের সামনে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন এবং অভিযুক্তের গ্রেপ্তারের দাবি জানান। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা সংশ্লিষ্ট কোচিং সেন্টার ঘেরাও করে ভাঙচুরের চেষ্টা চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে কোচিং সেন্টার থেকে একটি কম্পিউটার ও হার্ডডিস্ক জব্দ করে এবং প্রতিষ্ঠানটি সাময়িকভাবে সিলগালা করে দেয়।

এদিকে শুক্রবার বিভিন্ন ছাত্রনেতৃবৃন্দ তাদের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে পৃথকভাবে প্রতিবাদ জানিয়ে পোস্ট দেন। তারা দাবি করেন, শিক্ষকের মর্যাদা রক্ষা এবং শিক্ষাঙ্গনের শৃঙ্খলা বজায় রাখা সকলের দায়িত্ব। একই সঙ্গে তারা অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

শিক্ষক শহিদুল ইসলামকে কেন্দ্র করে দেওয়া কথিত ক্ষমা প্রার্থনা ও পাল্টা বক্তব্য ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে। একদিকে একাধিক সংগঠন এটিকে শিক্ষকের মর্যাদার ওপর আঘাত হিসেবে দেখছে, অন্যদিকে বিভিন্ন পক্ষ ঘটনাটিকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করছে।

ঘটনাটি ঘিরে এখনো ক্যাম্পাসজুড়ে উত্তেজনা ও মতবিনিময় চলমান রয়েছে


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা