মোঃ হাসান,স্টাফ রিপোর্টার,বান্দরবান
বান্দরবান সীমান্তঘেঁষা চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের আওতাধীন পদুয়া রেঞ্জের বড়দুয়ারা ও হাঙর বিটে দীর্ঘদিন ধরে চলছে বনভূমি দখল, প্লট বাণিজ্য, অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ ও বালু উত্তোলনের মতো নানা অনিয়ম—এমন অভিযোগ উঠেছে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, বড়দুয়ারা বিটের বিভিন্ন এলাকায় বন বিভাগের জমিতে গড়ে উঠেছে কয়েক শতাধিক বসতঘর। সামাজিক বনায়ন প্রকল্পের গাছ কেটে লুট ও বনভূমি দখল করে সেখানে বসতি স্থাপন করা হয়েছে কয়েক শতাধিক। স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রভাবশালী একটি চক্র বনভূমি দখল করে শতক হিসেবে জমি বিক্রি করছে। পরে ক্রেতারা সেখানে ঘর নির্মাণ করছেন—কখনো গোপনে, আবার কখনো বন বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তাকে ‘ম্যানেজ’ করেই এসব কার্যক্রম চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
গত পাঁচ থেকে ছয় বছরে এ এলাকায় বনভূমিতে বসতি স্থাপনের হার সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, বন বিভাগের নিরবতা কিংবা সীমিত অভিযানের সুযোগে দখলদাররা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
অন্যদিকে, পদুয়া রেঞ্জের হাঙর বিট নিয়েও রয়েছে গুরুতর অভিযোগ। স্থানীয়দের দাবি, বিট কর্মকর্তার মৌখিক অনুমতিতে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে সংরক্ষিত বনভূমি থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। সীমান্তবর্তী ভাগ্যকুল এলাকায় পাহাড় কেটে মাটি ও বালু লুটের ঘটনাও চোখে পড়েছে। মাঝে মধ্যে অভিযান চালিয়ে কয়েকটি মামলা দায়ের করা হলেও তা অধিকাংশ সময় ধামাচাপা পড়ে যায় বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
সম্প্রতি বড়দুয়ারা বিটের হলুদিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে বন বিভাগ আগর গাছ জব্দ করে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। এসময় সেখান থেকে একটি ঘরও উচ্ছেদ করা হয়।
তবে অভিযুক্তদের একজন মো. হামিদ অভিযোগ করে বলেন, “অন্য দখলদারদের ক্ষেত্রে এক রকম আর আমাদের ক্ষেত্রে আরেক রকম আচরণ করা হচ্ছে। আমার ঘরবাড়ি উচ্ছেদ করা হয়েছে, আমি জেলও খেটেছি। অথচ আশপাশে শত শত ঘর রয়েছে—সেগুলোর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।”
তিনি আরও দাবি করেন, তাকে উচ্ছেদের আগে কোনো নোটিশ দেওয়া হয়নি। গাছ কাটার অভিযোগে ঘরসহ ভেঙে দেওয়া হল—এটা সম্পূর্ণ অমানবিক,” বলেন তিনি।
এ বিষয়ে বন বিভাগের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, নিয়ম মেনেই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে পদুয়া রেঞ্জ কর্মকর্তার মো. রিয়াদুর রহমান ভূঁইয়ার মোবাইল ফোনে বারবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেন নি।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের উপ-বনসংরক্ষক মোহাম্মদ সোহেল রানা বলেন, “উত্থাপিত সব অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ছবি ক্যাপশন:
পদুয়া রেঞ্জের বড়দুয়ারা ও হাঙর বিট এলাকায় বনভূমি উজাড়ের চিত্র—একদিকে কাটা গাছের স্তূপ, অন্যদিকে পাহাড় কেটে মাটি ও বালু উত্তোলন; পরিবেশ ধ্বংসের ভয়াবহ