চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বঙ্গোপসাগরের উপকূল থেকে আনুমানিক ৪৫ বছর বয়সী এক অজ্ঞাত পুরুষের পচনশীল মরদেহ উদ্ধার করেছে কুমিরা নৌ পুলিশ। দীর্ঘসময় পানিতে থাকার কারণে মরদেহটির মুখমণ্ডলসহ শরীরের বিভিন্ন অংশ বিকৃত ও পচনশীল হয়ে পড়েছে। এখন পর্যন্ত স্থানীয়দের কেউ মরদেহটি শনাক্ত করতে পারেননি।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকাল আনুমানিক ১১টা ১০ মিনিটের দিকে উপজেলার ৬ নম্বর বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের বাঁশবাড়িয়া ফেরিঘাটের দক্ষিণ পাশে বঙ্গোপসাগরের উপকূলে ভাসমান অবস্থায় মরদেহটি দেখতে পাওয়া যায়।
পরে বিষয়টি সীতাকুণ্ড মডেল থানার ডিউটি অফিসারের মাধ্যমে কুমিরা নৌ পুলিশ ফাঁড়িকে জানানো হয়। সংবাদ পেয়ে কুমিরা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির এসআই (নিঃ) মো. আবদুল ওয়াহেদ সঙ্গীয় পুলিশ সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় তারা মরদেহটি সাগরের পাড়ে তুলে আনেন।
পুলিশ মরদেহটি পরীক্ষা করে ছবি ধারণের পাশাপাশি ঘটনাস্থলে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। সুরতহাল প্রতিবেদনে মরদেহটি আনুমানিক ৪৫ বছর বয়সী একজন পুরুষের বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশের প্রতিবেদনে বলা হয়, মরদেহটির মুখমণ্ডল বিকৃত হয়ে গেছে। ঠোঁট, গলা, কাঁধ থেকে হাতের আঙুল পর্যন্ত এবং বুক, পেট, পিঠ, কোমর থেকে পা পর্যন্ত শরীরের বিভিন্ন অংশ পচনশীল অবস্থায় রয়েছে। শরীরের অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গও পচে যাওয়ায় পরিচয় শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। পচনশীলতার কারণে মৃত ব্যক্তির গায়ের রংও নির্ণয় করা সম্ভব হয়নি।
মরদেহটির উচ্চতা আনুমানিক ৫ ফুট ৪ ইঞ্চি। পরনে ছিল নীল রঙের হাফপ্যান্ট এবং লাল রঙের গেঞ্জি। স্থানীয় লোকজনের মধ্যে কেউ মরদেহটি দেখে তার পরিচয় শনাক্ত করতে পারেননি।
শরীরে দৃশ্যমান আঘাতের চিহ্ন নেই
নৌ পুলিশের সুরতহাল প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, মৃতদেহের শরীরের কোথাও দৃশ্যমান কোনো জখমের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে কী কারণে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে, তা প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পুলিশের প্রাথমিক অনুসন্ধান অনুযায়ী, শুক্রবার সকাল ১১টা ১০ মিনিটের আগে যেকোনো সময় অজ্ঞাত কারণে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।
পরে কনস্টেবল মো. লুৎফর রহমানের মাধ্যমে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। বর্তমানে মরদেহটি চমেক হাসপাতালের মর্গে রয়েছে।
পরিচয় শনাক্তে পুলিশের চেষ্টা অব্যাহত
কুমিরা নৌ পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া ব্যক্তির পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। মরদেহটির পরিচয় শনাক্ত করা গেলে তার পরিবার, ঠিকানা এবং মৃত্যুর বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানা যেতে পারে।
এ ঘটনায় সীতাকুণ্ড মডেল থানায় মৃত্যু সংবাদ পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা রুজুর প্রক্রিয়া চলছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে মরদেহটির পরিচয় শনাক্তে স্থানীয়দের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে। কেউ নিখোঁজ স্বজনের সঙ্গে মরদেহটির বর্ণনা ও পোশাকের মিল খুঁজে পেলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে।