• শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:১৯ পূর্বাহ্ন
Headline
তানোর ভূমি অফিসে ঘুষের অভিযোগ, কর্মচারী ইমরুল কাশেম সাময়িক বরখাস্ত রক্তের সন্ধানে ছুটে চলেন এম. এ. আমির বাঘার জননী ক্লিনিকে সিজারিয়ানের পর নবজাতকের মৃত্যু নতুন কমিটি নিয়ে যুবদলে বিভক্তি, দুমকিতে সংঘর্ষ-ভাঙচুর নওগাঁয় ট্রাফিক পুলিশের বিশেষ অভিযান, মোটরসাইকেল চালকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা শ্রীপুরে ইসলামী আন্দোলনের নবগঠিত কমিটির শপথ ও পরিচিতি সভা কালীগঞ্জের (জামালপুরে) জামাইয়ের হাতে শশুর খুন জুমার নামাজ পড়তে যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় যুবকের মৃত্যু সীতাকুণ্ডে সাগর উপকূলে অজ্ঞাত ব্যক্তির পচনশীল মরদেহ উদ্ধার কচুয়া পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের কড়ইয়া প্রধান সড়ক বেহাল, চরম দুর্ভোগে জনজীবন

রক্তের সন্ধানে ছুটে চলেন এম. এ. আমির

শাহরিয়ার খান নাফিজ, হবিগঞ্জ প্রতিনিধি; / ২০ Time View
Update : শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬

হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার স্বস্তিপুর গ্রামের সন্তান এম. এ. আমির মানবতার সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করে প্রশংসনীয় ভূমিকা রেখে চলেছেন। মানুষের জীবন বাঁচানোর অন্যতম মহৎ কাজ রক্তদান ও রক্ত সংগ্রহের মাধ্যমে তিনি নিয়মিত অসহায়, দরিদ্র ও মুমূর্ষু রোগীদের পাশে দাঁড়াচ্ছেন।

রক্তের প্রয়োজন এমন রোগীদের জন্য সময়মতো রক্তের ব্যবস্থা করা অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে জরুরি মুহূর্তে রক্ত না পেয়ে অনেক রোগী ও তাঁদের স্বজনদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়। এমন পরিস্থিতিতে মানবিকতার জায়গা থেকে এগিয়ে আসছেন এম. এ. আমির। নিজে রক্তদানের পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী রক্তদাতা খুঁজে দেওয়া, রক্ত সংগ্রহ এবং রোগীর স্বজনদের সহযোগিতা করে যাচ্ছেন তিনি।

মানবিক এই কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকার সুবাদে ন্যাশনাল ব্লাড ফাউন্ডেশন সিলেটের লিডার্স প্যানেলের একজন সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন এম. এ. আমির। সংগঠনটির মানবিক কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে তিনি রক্তদানের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করা এবং জরুরি সময়ে রক্তের ব্যবস্থা করতে ভূমিকা রাখছেন।

এম. এ. আমিরের কাছে রক্তদান শুধু একটি সামাজিক কর্মকাণ্ড নয়; বরং এটি একজন মানুষের জীবন বাঁচানোর সুযোগ। একজন সুস্থ মানুষ স্বেচ্ছায় রক্তদান করলে সেই রক্ত কোনো মুমূর্ষু রোগীর জীবন রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তাই তিনি নিজে রক্তদানের পাশাপাশি অন্যদেরও স্বেচ্ছায় রক্তদানে উৎসাহিত করার চেষ্টা করেন।

অনেক সময় কোনো রোগীর স্বজন যখন জরুরি রক্তের জন্য বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করেও রক্তের ব্যবস্থা করতে পারেন না, তখন তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন তিনি। রক্তের গ্রুপ অনুযায়ী সম্ভাব্য রক্তদাতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় রক্ত সংগ্রহে সহযোগিতা করাই তাঁর মানবিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম দিক।

সমাজে স্বেচ্ছায় রক্তদানের সংস্কৃতি আরও বিস্তৃত করতে তরুণ সমাজকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন এম. এ. আমির। তাঁর মতে, একজন মানুষের সামান্য সহযোগিতাও অন্য একজন মানুষের জীবনে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। রক্তদানের মাধ্যমে কোনো আর্থিক লাভ না থাকলেও এর মাধ্যমে একজন মানুষের জীবন বাঁচানোর যে তৃপ্তি পাওয়া যায়, সেটিই সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।

তিনি মনে করেন, সমাজের সচেতন মানুষ যদি নিজ নিজ অবস্থান থেকে মানবিক কাজে এগিয়ে আসেন, তাহলে রক্তের সংকটে অনেক মানুষের দুর্ভোগ কমানো সম্ভব। বিশেষ করে তরুণদের নিয়মিত স্বেচ্ছায় রক্তদান ও রক্তদাতা সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে একটি মানবিক সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।

স্বস্তিপুর গ্রামের সন্তান এম. এ. আমিরের এমন উদ্যোগ স্থানীয়ভাবে প্রশংসা কুড়িয়েছে। নিজ এলাকার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন স্থানের মানুষের জন্য রক্ত সংগ্রহে সহযোগিতা করার মাধ্যমে তিনি মানবিকতার একটি সুন্দর দৃষ্টান্ত তৈরি করছেন।

মানুষের বিপদের সময়ে পাশে দাঁড়ানোই প্রকৃত মানবতা। আর সেই মানবতার পথেই এগিয়ে চলেছেন হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার স্বস্তিপুর গ্রামের সন্তান এম. এ. আমির। তাঁর রক্তদান ও রক্ত সংগ্রহের এই উদ্যোগ সমাজের অন্যদেরও মানবিক কাজে অনুপ্রাণিত করবে—এমনটাই প্রত্যাশা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা