সীতাকুণ্ডের গুলিয়াখালী সমুদ্রসৈকতের মূল পর্যটন এলাকায় কোনো ধরনের দোকান বা স্থাপনা নির্মাণ করতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ফখরুল ইসলাম। পর্যটকদের চলাচল, ছবি তোলা ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগের জায়গা দখল করে কোনো স্থাপনা নির্মাণ করা হলে প্রয়োজনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় গুলিয়াখালী সমুদ্রসৈকতে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন ইউএনও মো. ফখরুল ইসলাম।
সৈকত দখল করে স্থাপনা নির্মাণের চেষ্টা প্রসঙ্গে ইউএনও বলেন, কেউ কেউ সৈকতের জায়গা দখলের চেষ্টা করছেন। ইতোমধ্যে বিদ্যমান স্থাপনা উচ্ছেদের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বড় ধরনের প্রয়োজন হলে তিনি নিজেই উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।
নির্দিষ্ট অর্থের বিনিময়ে সৈকতে দোকান বসানোর উদ্যোগের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সমুদ্রসৈকতের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে এখানে কোনো ধরনের দোকান করার অনুমতি দেওয়া হবে না। সৈকতের মূল পর্যটন স্পটে কেউ দোকান বসাতে পারবেন না।
তবে পর্যটন ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনে মূল পর্যটন স্পট থেকে দূরবর্তী কোনো স্থানে পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রেখে দোকান স্থাপনের বিষয় বিবেচনা করা যেতে পারে বলে জানান তিনি।
ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও দেশব্যাপী পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির অংশ হিসেবে সীতাকুণ্ডের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান পরিষ্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে গুলিয়াখালী সমুদ্রসৈকতকে আরও পরিচ্ছন্ন, সুন্দর ও আকর্ষণীয় করে তুলতে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
ইউএনও জানান, কর্মসূচিতে স্কাউট, উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। সৈকতে পর্যাপ্ত ডাস্টবিন না থাকায় পুনর্ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক দিয়ে ডাস্টবিন স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি প্লাস্টিকের ব্যবহার কমাতে কাপড়ের ব্যানার ব্যবহার করা হচ্ছে।
পরিচ্ছন্নতা অভিযানকে একদিনের কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধ না রাখার কথা জানিয়ে ইউএনও মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা একটি ধারাবাহিক কর্মসূচি। আজকের অভিযান এখানেই শেষ নয়। সামনে থেকে প্রতি শনিবার সীতাকুণ্ড উপজেলার বিভিন্ন পর্যটন স্পট ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এ ধরনের পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হবে।
তিনি জানান, পর্যায়ক্রমে পাহাড়সহ উপজেলার অন্যান্য পর্যটন স্পটও এ কর্মসূচির আওতায় আনা হবে। পাশাপাশি উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ একটি করে বাজারকে পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির আওতায় নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন ইউনিয়নের বাজারে ইতোমধ্যে কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং শনিবার দিনব্যাপী এ অভিযান চলবে।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে গুলিয়াখালী সমুদ্রসৈকতে একটি কেওড়া গাছের চারা রোপণ করেন ইউএনও মো. ফখরুল ইসলাম। এ সময় পরিবেশ রক্ষা, প্লাস্টিক বর্জন এবং নির্দিষ্ট স্থানে আবর্জনা ফেলার আহ্বান জানানো হয়।