ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার তালমা ইউনিয়নের পূর্ব সদরবেড়া গ্রামে প্রায় এক যুগ ধরে পলিথিনের তৈরি ঝুপড়ি ঘরে বসবাস করছে খগেন মন্ডলের পরিবার। দীর্ঘদিন ধরে মানবেতর জীবনযাপন করলেও এখনো তাদের ভাগ্যে জোটেনি একটি নিরাপদ পাকা বা আধাপাকা ঘর। অসহায় এই পরিবারটি সরকারি সহায়তায় একটি ঘর বরাদ্দ দেওয়ার দাবি জানিয়েছে।
খগেন মন্ডল জানান, স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পলিথিনের ঝুপড়ি ঘরেই বসবাস করছেন তিনি। বৃষ্টি হলে ঘরের ভেতরে পানি পড়ে যায়। ঝড়-বৃষ্টির সময় পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আতঙ্কের মধ্যে রাত কাটাতে হয়। অনিরাপদ এই ঘরে বসবাস করতে গিয়ে নানা দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তাদের।
খগেন মন্ডল বলেন, “সাংবাদিকরা বাড়িতে এসে ভিডিও করে নিউজ করেছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত কেউ আমাদের খোঁজখবর নেয়নি। আমি সরকারের কাছে একটি ঘর চাই। সরকার যদি আমাদের একটি ঘরের ব্যবস্থা করে দেয়, তাহলে পরিবার নিয়ে একটু শান্তিতে থাকতে পারব।”
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে খগেন মন্ডলের পরিবার অত্যন্ত কষ্টে বসবাস করছে। পলিথিনের তৈরি ঝুপড়ি ঘরটি বসবাসের জন্য খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে বর্ষা ও ঝড়-বৃষ্টির সময় তাদের দুর্ভোগ বেড়ে যায়। অসহায় পরিবারটির পাশে সরকারি ও স্থানীয় প্রশাসন দ্রুত এগিয়ে আসবে—এমন প্রত্যাশা তাদের।
তালমা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল হোসেন মিয়া বলেন, সাংবাদিকরা মোবাইলে ভিডিও প্রকাশের মাধ্যমে খগেন মন্ডলের পলিথিনের ঝুপড়ি ঘরে বসবাসের বিষয়টি জানতে পেরেছেন। তারা এর আগে কোনো দিন তার কাছে আসেননি।
চেয়ারম্যান কামাল হোসেন মিয়া বলেন, “আমি বিষয়টি দেখব। নিজে গিয়ে তাদের খোঁজখবর নেব এবং তাদের জন্য কী করা যায়, সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করব।”
নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা আফরিন বলেন, খগেন মন্ডলের পরিবার ইতোমধ্যে উপজেলা প্রশাসনের কাছে টিনের জন্য আবেদন করেছে। তাদের আবেদনের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে যত দ্রুত সম্ভব টিনের ব্যবস্থা করা হবে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহায়তার আশ্বাস পাওয়ায় কিছুটা আশার আলো দেখছে খগেন মন্ডলের পরিবার। তবে তাদের প্রত্যাশা, শুধু টিন নয়—সরকারি উদ্যোগে একটি নিরাপদ ও বসবাসযোগ্য ঘরের ব্যবস্থা হলে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাবেন তারা।
অসহায় খগেন মন্ডলের পরিবারের দাবি, দ্রুত সরকারি সহায়তায় একটি নিরাপদ ঘর পেলে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে অন্তত নিশ্চিন্তে বসবাস করতে পারবেন। এখন তাদের অপেক্ষা—কবে মিলবে মাথা গোঁজার নিরাপদ ঠাঁই।