দুই বছর বিরতির পর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আবারও অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আবহমান বাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ। আগামী ১২ সেপ্টেম্বর তিতাস নদীতে জমকালো এই নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত হবে। নির্ধারিত দিন সকাল ১১টা থেকে নৌকাবাইচ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
সোমবার (২৪ আগস্ট ২০২৬) দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত নৌকাবাইচের প্রস্তুতি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মো. আবুসাঈদ। সভা সঞ্চালনা করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রঞ্জন চন্দ্র দে।
সভায় নৌকাবাইচ আয়োজনের সার্বিক প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করা হয়। জেলা প্রশাসক মো. আবুসাঈদ ঐতিহ্যবাহী এ আয়োজনকে সুন্দর, সুশৃঙ্খল ও সফল করতে জেলাবাসীর সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করেন।
সভায় জেলা পরিষদ প্রশাসক সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মো. শরিফুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পিয়াস বসাক, জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মোবারক হোসাইন আকন্দ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাবেদ রহিম বিজন, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক তানিম সাহেদ রিপন, প্রবীণ সাংবাদিক পীযূষ কান্তি আচার্য, আল আমিন শাহীন ও অ্যাডভোকেট মো. ইসহাকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বক্তব্য দেন।
বক্তারা বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের শহর। নৌকাবাইচের মতো লোকজ আয়োজনের মধ্য দিয়ে এ অঞ্চলের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে আরও সমৃদ্ধ করা প্রয়োজন। তবে আয়োজনকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড বা বিশৃঙ্খলা বরদাশত করা হবে না।
জনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নৌকাবাইচে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর জন্য বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে নৌকায় কোনো ধরনের সাউন্ড সিস্টেম ব্যবহার না করা, বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে অতিরিক্ত নাচানাচি এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি থেকে বিরত থাকার নির্দেশ রয়েছে।
দুই বছর পর তিতাস নদীতে আবারও নৌকাবাইচ আয়োজনের খবরে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। ঐতিহ্যবাহী এ আয়োজন দেখতে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থীর সমাগম হবে বলে আশা করা হচ্ছে।