কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার শৌলমারী ইউনিয়নের বড়াই কান্দি গ্রামে জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে নিজেদের বসতঘরে আগুন দিয়ে চাচাতো ভাইসহ ১২-১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মামলার আসামিরা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বড়াই কান্দি গ্রামের সাইফুর রহমানের সঙ্গে তার চাচাতো ভাই মো. ফুলবাবু, জমির উদ্দিন, লুৎফর রহমানসহ অন্যান্য স্বজনের দীর্ঘদিন ধরে জমি-জমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি সাইফুর রহমানের বসতবাড়িতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিপক্ষকে সামাজিকভাবে হেয় করা এবং আইনি হয়রানির উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে নিজেদের বসতঘরে আগুন দেওয়া হয়ে থাকতে পারে। পরে ওই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে চুরি, স্বর্ণালঙ্কার লুট ও শ্লীলতাহানিসহ বিভিন্ন অভিযোগ আনা হয়।
ঘটনার পর জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করা হলে রৌমারী ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। স্থানীয়দের দাবি, ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুনের সামান্য নমুনা দেখতে পান এবং ঘটনাটি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করেন। তবে এ বিষয়ে ফায়ার সার্ভিসের লিখিত বক্তব্য বা তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি।
পরবর্তীতে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিজ্ঞ আমলী আদালত, রৌমারী থানায় চাচাতো ভাই মো. ফুলবাবু, জমির উদ্দিন, লুৎফর রহমানসহ ১২-১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয় বলে জানা গেছে।
মামলার আসামি ও স্থানীয়দের দাবি, অগ্নিকাণ্ডের সময় তাদের কেউ ঘটনাস্থলে ছিলেন না। জমি সংক্রান্ত পূর্ববিরোধের জের ধরে তাদের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলা করা হয়েছে। মামলায় চুরি, স্বর্ণালঙ্কার লুট ও শ্লীলতাহানির অভিযোগও তারা অস্বীকার করেছেন।
ভুক্তভোগী শাহাজামাল ও তার পরিবারের সদস্যরা বলেন, জমি সংক্রান্ত বিরোধের কারণে তারা নির্দোষ হয়েও আইনি হয়রানির শিকার হচ্ছেন। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত হলে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং মামলার অভিযোগের সত্যতা স্পষ্ট হবে বলে তারা আশা করছেন।
এলাকাবাসীও ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ, ঘটনাস্থলে কারা উপস্থিত ছিলেন এবং মামলায় আনা অভিযোগগুলোর সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
তবে নিজেদের ঘরে ইচ্ছাকৃতভাবে আগুন দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে সাইফুর রহমানের বক্তব্য এবং মামলার তদন্তের অগ্রগতি তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা তদন্ত ও আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।