গাজীপুরের কালিয়াকৈর শিল্পাঞ্চলে অবৈধভাবে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় চার্জ দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় বাড়ছে চাপ। শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুতের খুঁটি থেকে অবৈধ সংযোগ নিয়ে গড়ে উঠেছে অটোরিকশার চার্জিং গ্যারেজ। এসব গ্যারেজে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চার্জ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
সারাদেশে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সংখ্যা প্রায় ৫৫ লাখ বলে বিভিন্ন হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিটি অটোরিকশায় সাধারণত ৪ থেকে ৬টি ১২ ভোল্টের ব্যাটারি থাকে। দীর্ঘ সময় চার্জ দেওয়ার কারণে এসব যানবাহন থেকে বিদ্যুতের ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, একটি অটোরিকশার ব্যাটারি চার্জ দিতে প্রায় ১১০০ ওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ প্রয়োজন হতে পারে। প্রায় ৮ ঘণ্টা চার্জ দিলে খরচ হতে পারে ৯ ইউনিটের কাছাকাছি। বিপুলসংখ্যক অটোরিকশা নিয়মিত চার্জ দেওয়ার কারণে স্থানীয় বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ছে।
তবে সবচেয়ে বড় অভিযোগ, অনেক অটোরিকশা গ্যারেজে বৈধ মিটারের পরিবর্তে বিদ্যুতের খুঁটি থেকে অবৈধভাবে সংযোগ নেওয়া হচ্ছে। ফলে ব্যবহৃত বিদ্যুতের বিপরীতে সরকার নিয়মিত রাজস্ব পাচ্ছে না। একই সঙ্গে অবৈধ সংযোগের কারণে বৈধ গ্রাহকদের বিদ্যুৎ সরবরাহেও চাপ তৈরি হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
কালিয়াকৈর শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ছোট-বড় গ্যারেজে সারিবদ্ধভাবে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা রাখা হয়েছে। দিনের বিভিন্ন সময়ে এসব অটোরিকশায় ব্যাটারি চার্জ দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কোথাও কোথাও বিদ্যুতের খুঁটি থেকে সরাসরি সংযোগ নিয়ে গ্যারেজে বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হচ্ছে।
এক গবেষণায় সারাদেশে প্রায় ২০ লাখ অটোরিকশার হিসাব পাওয়ার কথা জানিয়েছে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিপিডি। প্রতিটি অটোরিকশা একবার চার্জ দেওয়ার জন্য গড়ে ১০০ টাকা করে নেওয়া হলে প্রতিদিন বিপুল অঙ্কের অর্থ লেনদেন হয়। বছরে এই খাতের লেনদেন কয়েক হাজার কোটি টাকায় পৌঁছায় বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অবৈধ অটোরিকশার চার্জিং গ্যারেজ শুধু বিদ্যুতের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করছে না, এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ, রাজস্ব ফাঁকি ও নিরাপত্তাঝুঁকি। এসব গ্যারেজে অতিরিক্ত বৈদ্যুতিক লোডের কারণে তার ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম অতিরিক্ত গরম হয়ে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।
তাদের মতে, শুধু সড়কে অটোরিকশা চলাচল নিয়ন্ত্রণ করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। অবৈধ চার্জিং গ্যারেজ শনাক্ত করে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা, নিয়মিত অভিযান পরিচালনা এবং বৈধ মিটারের আওতায় এনে বিদ্যুৎ ব্যবহারের ব্যবস্থা করতে হবে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, কালিয়াকৈরে অবৈধ অটোরিকশা চার্জিং গ্যারেজের বিরুদ্ধে কার্যকর অভিযান চালানো হলে একদিকে যেমন বিদ্যুতের অপচয় ও অবৈধ সংযোগ কমবে, অন্যদিকে সরকারের রাজস্বও বাড়বে।
তবে সারাদেশে অটোরিকশার বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণ, মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ৫ শতাংশ ব্যবহারের দাবি এবং রাজস্ব ক্ষতির অঙ্ক—এসব পরিসংখ্যান সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা ও গবেষণা সূত্রের মাধ্যমে যাচাই করে প্রকাশ করা প্রয়োজন।