• মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬, ১০:৩৯ অপরাহ্ন
Headline
জমি নিয়ে দ্বন্দ্বে বন্ধ রাস্তা, দুর্ভোগে ৩০ পরিবার — দ্রুত সমাধানের দাবি স্থানীয়দের দীর্ঘবছর পর বালিয়াডাঙ্গী হাসপাতালে পুনরায় সিজার কার্যক্রম চালু ৫  ঠাকুরগাঁওয়ে পুষ্টিসমৃদ্ধ জিংক ব্রি ধান-১০২ শীর্ষক কৃষক মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হরিপুরে জিংক ব্রি ধান-১০২ শীর্ষক কৃষক মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত ভূতের ও জ্বীনের রাজত্ব যেন নরসিংপুর স্বাস্থ্য কেন্দ্রে তালাবদ্ধ ভবন, চরম ভোগান্তিতে হাজারো মানুষ। শিশু আবিরার আবদার পূরণ করছেন প্রধানমন্ত্রী: বগা সেতু পরিদর্শনে মন্ত্রী শেখ রবিউল ইসলাম চান্দিনায় বিশেষ অভিযানে ১০ কেজি গাঁজাসহ আটক ৩, দুইজন মাদক মামলায় গ্রেফতার জমি নিয়ে বিরোধে সাংবাদিকের পরিবারকে হত‍্যার হুমকি ঘাটাইলে ভূমি সেবা মেলার উদ্বোধন রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় তিন দিন ব্যাপী ভুমি সেবা মেলা

ভূতের ও জ্বীনের রাজত্ব যেন নরসিংপুর স্বাস্থ্য কেন্দ্রে তালাবদ্ধ ভবন, চরম ভোগান্তিতে হাজারো মানুষ।

​সুমন আহমদ,সিলেট প্রতিনিধি: / ২৯ Time View
Update : মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬

​সুমন আহমদ,সিলেট প্রতিনিধি:

সীমান্তঘেঁষা সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার ২নং নরসিংপুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটি এখন স্থানীয়দের কাছে এক মূর্তমান আতঙ্ক ও চরম হতাশার নাম। তদারকির অভাব, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্বেচ্ছাচারিতা এবং বছরের পর বছর সংস্কার না করায় সরকারি এই চিকিৎসালয়টি যেন রূপ নিয়েছে ভূত ও জ্বীনের রাজ্যে। দিনের আলোতেই যেখানে গা ছমছমে পরিবেশ বিরাজ করে, সেখানে রাতের দৃশ্য আরও ভয়াবহ। ফলে চিকিৎসা সেবা তো দূরের কথা, সাধারণ মানুষ এখন এই কেন্দ্রের সীমানায় পা রাখতেও ভয় পাচ্ছেন। সম্পূর্ণ পরিত্যক্ত ও ভুতুড়ে এই আবহের কারণে ইউনিয়নের অন্তত ৩০ থেকে ৪০ হাজার মানুষ মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা থেকে পুরোপুরি বঞ্চিত হচ্ছেন।

​সরেজমিনে নরসিংপুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায় এক অভাবনীয় ও দুঃখজনক দৃশ্য। মূল ফটক থেকে শুরু করে ভবনের চারপাশ লতাপাতা, জঙ্গল আর শ্যাওলার আস্তরণে ঢেকে গেছে। ভবনের প্রধান প্রবেশদ্বারে ঝুলছে মরচে পড়া একটি বিশাল তালা। চারপাশের নোংরা পরিবেশ দেখে বোঝার উপায় নেই যে এটি একটি সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র। প্রবেশদ্বারের ঠিক সামনেই শুকনো পাতা ও ময়লা-আবর্জনার স্তূপ জমে রয়েছে। শুধু তাই নয়, কে বা কারা সরকারি এই প্রাঙ্গণটিকে ডাম্পিং স্টেশন বানিয়ে বিভিন্ন নির্মাণ সামগ্রী, ভাঙা ইট ও বালুর বস্তা এলোমেলোভাবে ফেলে রেখেছে। ভবনের দেওয়ালে দেওয়ালে দীর্ঘদিনের জমে থাকা জলীয় বাষ্প ও শ্যাওলার নোংরা কালো আবরণ পুরো পরিবেশকে অস্বাস্থ্যকর ও ভুতুড়ে করে তুলেছে। সরকারি এই সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের চাক্ষুষ সৌন্দর্য ও ন্যূনতম স্বাস্থ্যকর পরিবেশ এখন সম্পূর্ণ বিনষ্ট।

​স্থানীয় গ্রামীণ জনপদের দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত মানুষের প্রাথমিক চিকিৎসার একমাত্র ভরসাস্থল ছিল এই কেন্দ্রটি। প্রত্যেক এই অঞ্চলের মানুষ সামান্য জ্বর, সর্দি, কাশি কিংবা প্রসূতি মায়েদের জরুরি পরামর্শের জন্য এখানে ছুটে আসতেন। কিন্তু সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ ও নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা না থাকায় এটি এখন সাপের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, দিনের বেলাই এখানে ভূত-প্রেতের মতো পরিবেশ থাকে। আমরা চিকিৎসা নিতে আসব কী, এই দিক দিয়ে হেঁটে যেতেই ভয় লাগে। আর দায়িত্বপ্রাপ্তদের উদাসীনতা ও অবহেলার তো কোনো শেষ নেই। রোগীরা এখানে এসে কোনো ডাক্তার বা নার্স পান না, উল্টো নোংরা ও তালাবদ্ধ পরিবেশ দেখে ফিরে যেতে বাধ্য হন।

চিকিৎসা নিতে এসে ফিরে যাওয়া চরম ভুক্তভোগী স্থানীয় বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, আমি আমার পরিবারের একজন অত্যন্ত গুরুতর রোগীকে নিয়ে জরুরি প্রাথমিক চিকিৎসার আশায় এই কেন্দ্রে গিয়েছিলাম। যাতায়াত খরচ আর কষ্ট করে যাওয়ার পর দেখি পুরো স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটি ভেতর ও বাইর থেকে তালাবদ্ধ। কোনো মানুষ তো দূরের কথা, একটা পাহারাদারও নেই। চারদিকের জঙ্গল আর ময়লা দেখে মনে হলো যেন বহু বছর ধরে এখানে কোনো মানুষের পা পড়েনি। বাধ্য হয়ে অনেক বেশি টাকা খরচ করে দূরবর্তী হাসপাতালে যেতে হয়েছে। এই দুর্ভোগের শেষ কোথায়?

নরসিংপুর ইউনিয়নের একজন স্থানীয় ইউপি সদস্য ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করে প্রশাসনের চরম ব্যর্থতার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন:- আসলে এটি আমাদের পুরো ইউনিয়নের জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক এবং দুঃখের বিষয়। সরকারের লাখ লাখ টাকা খরচ করে এই অবকাঠামো তৈরি করা হয়েছে জনগণের সেবার জন্য। কিন্তু এখানকার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা রীতিমতো অফিস টাইমে কোনো অফিসই করেন না। তারা তাদের নিজস্ব স্বাধীনতায় চলেন। মন চাইলে মাসে দু-একদিন আসেন, আবার মন না চাইলে মাসের পর মাস তালা বন্ধ থাকে। ফলে প্রায় সময়ই গ্রামীণ খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ জরুরি স্বাস্থ্যসেবা ও বিনামূল্যে পাওয়ার যোগ্য সরকারি ওষুধ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারি না থাকায় এরা কাউকেই তোয়াক্কা করে না।

স্হানীয়রা দাবি করে জানান:- ​ইউনিয়নের সচেতন সমাজ, শিক্ষক ও যুবসমাজ জরুরি ভিত্তিতে এই স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটির চারপাশের জঙ্গল কেটে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা, জরাজীর্ণ ভবনটি দ্রুত সংস্কার করা এবং এখানে নিয়মিত সরকারি নিয়ম অনুযায়ী মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তারা অবিলম্বে এখানে স্থায়ী জনবল পদায়ন এবং কর্তব্যরতদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার জোর দাবি জানান।

​নরসিংপুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের সার্বিক অব্যবস্থাপনা, নিয়মিত তালাবদ্ধ থাকা এবং চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হওয়ার বিষয়ে বক্তব্য জানতে কেন্দ্রে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তার সাথে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। পরবর্তীতে সরাসরি যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও পাওয়া যায়নি, যার কারণে তার আনুষ্ঠানিক বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

​অসহায় গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় অবিলম্বে এই ভুতুড়ে দশা কাটিয়ে নরসিংপুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটিকে কার্যকর ও সচল করতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছেন ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা