অপূর্ব সরকার, পটুয়াখালী প্রতিনিধি:
পটুয়াখালীর লেবুখালী-বাউফল-গলাচিপা- আমড়াগাছিয়া সড়কের (জেড-৮৮০৬) ১৪তম কিলোমিটারে লোহালিয়া নদীর ওপর প্রস্তাবিত ৯ম চীন মৈত্রী বগা সেতুর সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল ইসলাম।
মঙ্গলবার (১৯ মে) দুপুরে মন্ত্রী প্রস্তাবিত সেতু এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সেতুটি নির্মিত হলে দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন গতি আসবে। বিশেষ করে পটুয়াখালীর বাউফল, গলাচিপা,বদশমিনা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার মানুষের যাতায়াত সহজ হবে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে। একই সঙ্গে পর্যটন ও কৃষিখাতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
সেতু বিভাগের তথ্যমতে, প্রস্তাবিত সেতুর দৈর্ঘ্য হবে ১ দশমিক ৩৪৮ কিলোমিটার এবং প্রস্থ ১৫ দশমিক ০২ মিটার। নদীর ওপর মূল সেতুর পাশাপাশি সংযোগ সড়ক ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে রাজধানী ঢাকার সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ আরও দ্রুত ও সহজ হবে।
পরিদর্শন শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মন্ত্রী শেখ রবিউল ইসলাম বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন কর্মযজ্ঞ অব্যাহত রয়েছে। দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবির পাশাপাশি শিশু আবিরার ”বগা সেতু চাই” ভিডিও বার্তার পরিপ্রেক্ষিতে বগা সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সম্ভাব্যতা যাচাই শেষে দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়নের কার্যক্রম শুরু করা হবে।
এ সময় পটুয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এয়ার ভাইস মার্শাল (অব:) আলতাফ হোসেন চৌধুরী, পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনের সংসদ সদস্য ড. সফিকুল ইসলাম মাসুদসহ সেতু বিভাগের সচিব, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা, প্রকৌশলী এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয় বাসিন্দারাও সেতু নির্মাণের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানান।
অন্যদিকে, স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে বগাপ্রান্তে উপজেলা বিএনপির একটি পক্ষ অবস্থান নিলেও নিরাপত্তাজনিত কারণে সেখানে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য থামা হয়নি।
পরে মন্ত্রী চরগরবদি ইসলামি দাখিল মাদ্রাসা মাঠে নির্মাণাধীন বগা সেতুর অ্যাপ্রোচ সড়কের নিকট সমাবেশে অংশ নেন। এ সময় স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের ব্যানার ও দাওয়াত সংক্রান্ত বিষয়ে কিছুটা অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলে উপস্থিত কয়েকজন দাবি করেন।
তবে সংশ্লিষ্টরা জানান, পরিদর্শন কার্যক্রম নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ীই সম্পন্ন হয়েছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল।