মোহাম্মদ উল্লাহ, নোয়াখালী প্রতিনিধি
জন্মগতভাবে একটি হাত নেই। অনেকের কাছে যা হতে পারে জীবনের বড় বাধা, ছোট্ট মোস্তাকিমের কাছে তা যেন কেবলই একটি বাস্তবতা—যা তাকে দমিয়ে রাখতে পারেনি এতটুকুও। অদম্য ইচ্ছাশক্তি, প্রবল আত্মবিশ্বাস আর স্বপ্ন দেখার সাহস নিয়ে এগিয়ে চলছে নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার এই শিশু শিক্ষার্থী।
মো. মোস্তাকিম বর্তমানে সেনবাগ উপজেলার স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান Sayed Ruhul Amin Smrity Academy-এর প্লে-গ্রুপের শিক্ষার্থী। ছোট্ট বয়সেই তার অসাধারণ মানসিক দৃঢ়তা ও প্রাণবন্ত উপস্থিতি মুগ্ধ করেছে শিক্ষক, সহপাঠী, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের।
বিদ্যালয়ে প্রতিদিনের কার্যক্রমে অন্য শিশুদের মতোই সক্রিয় অংশগ্রহণ করে মোস্তাকিম। এক হাত না থাকলেও নিজের খাতা-কলম গুছিয়ে রাখা, ক্লাসে মনোযোগ দিয়ে পাঠ শোনা, শিক্ষকদের নির্দেশনা অনুসরণ করা—সবকিছুতেই তার রয়েছে প্রবল আগ্রহ ও আত্মনির্ভরশীল মানসিকতা। বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানান, কোনো কাজেই সে সহজে হতাশ হয় না; বরং প্রতিদিন নতুন উদ্যমে শেখার চেষ্টা করে।
একাডেমির এক শিক্ষক বলেন, “মোস্তাকিম খুবই প্রাণবন্ত ও মেধাবী একটি শিশু। তার মাঝে কখনো হতাশা দেখিনি। বরং সে সব সময় হাসিখুশি থাকে এবং নিজের সীমাবদ্ধতাকে জয় করার চেষ্টা করে। অন্য শিক্ষার্থীদের কাছেও সে অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে।”
২০০০ সালে প্রতিষ্ঠিত Sayed Ruhul Amin Smrity Academy দীর্ঘদিন ধরে সেনবাগে মানবিক, আধুনিক ও মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তুলতে কাজ করছে। অলাভজনক এই প্রতিষ্ঠানটি পরিচালিত হচ্ছে Sayed Harun Foundation-এর অর্থায়নে। শিক্ষা বিস্তার ও সমাজসেবামূলক নানা উদ্যোগের কারণে প্রতিষ্ঠানটি ইতোমধ্যে এলাকায় বিশেষ সুনাম অর্জন করেছে।
প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্টরা জানান, শিশুদের মানসিক বিকাশ ও মানবিক মূল্যবোধ গড়ে তোলার পাশাপাশি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের প্রতিও তারা সমান গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। মোস্তাকিমের মতো শিশুদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে শিক্ষকরা সবসময় উৎসাহ ও সহযোগিতা করছেন।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, বর্তমান সমাজে যেখানে অনেক শিশু সামান্য প্রতিবন্ধকতার কারণেই পিছিয়ে পড়ে, সেখানে মোস্তাকিমের জীবনসংগ্রাম ও আত্মবিশ্বাস অন্যদের জন্য শক্তিশালী অনুপ্রেরণা হয়ে উঠতে পারে। তার হাসিমাখা মুখ, সাহসী মানসিকতা এবং এগিয়ে চলার দৃঢ় প্রত্যয় ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রশংসা কুড়িয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে লিখছেন, “শারীরিক সীমাবদ্ধতা নয়, মানুষের সবচেয়ে বড় শক্তি তার মনোবল। ছোট্ট মোস্তাকিম সেটিই প্রমাণ করছে।”
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, সঠিক পরিচর্যা, ভালোবাসা ও উৎসাহ পেলে একদিন মো. মোস্তাকিম শুধু তার পরিবার বা বিদ্যালয়ের গর্বই নয়, পুরো নোয়াখালীর জন্য অনুপ্রেরণার প্রতীক হয়ে উঠবে।