পটুয়াখালীর মহিপুরে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও টেকসই পরিবেশ গঠনে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্যে নারী কৃষকদের মাঝে চারাগাছ বিতরণ করা হয়েছে। কারিতাস বরিশাল অঞ্চলের মহিপুর অফিসে ‘বাংলাদেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠী পরিবেশবান্ধব কৃষি (ইকো-ইকোলজি) চর্চার মাধ্যমে জলবায়ু সহনশীল অভিযোজন কৌশল বৃদ্ধিতে সক্ষমতা অর্জন’ (একরাব) প্রকল্পের আওতায় এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
২৫ আগষ্ট (মঙ্গলবার) দুপুর ২:০০ টার সময় কারিতাস মহিপুর অফিসের আন্ধারমানিক প্রশিক্ষণ কক্ষে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। কারিতাস বরিশাল অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক মি. মার্সেল রতন গুদা’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আরিফুজ্জামান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ সন্মানীয় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কলাপাড়া উপজেলা কৃষি অফিসার আরাফাত হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন মহিপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী মোঃ ফজলু গাজী, কারিতাস কেন্দ্রীয় অফিস ঢাকার ইসিএফএস-এর ম্যানেজার মি. সুবাস এ. গমেজ, সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার মি. বিক্রম চন্দ্র বিশ্বাস,কারিতাস বরিশাল অঞ্চলের কলাপাড়া উপজেলার ইসিআরএবি ও ধরিত্রী প্রকল্পের জুনিয়র কর্মসূচি কর্মকর্তা মি.জর্জ বৈরাগী, কলাপাড়ার উপ-সহকারী কৃষি অফিসার জনাব মোঃ আশরাফ আলী,কারিতাস মহিপুর মহিপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মোঃ ইব্রাহিম খান,কুয়াকাটা রিপোর্টর্স ইউনিটির সভাপতি মিজানুর রহমান রিপন,কারিতাস এলসিএমও কর্মকর্তা মি.মংম্যা সহ কারিতাস মহিপুর অফিসের কর্মকর্তা বৃন্দ ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য ও চারাগাছ বিতরণের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে কারিতাস বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সিনিয়র কর্মসূচি কর্মকর্তা মি. বিক্রম চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, পরিবেশ সুরক্ষা ও কৃষিকে জলবায়ু সহনশীল করে তুলতে এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
পরবর্তীতে উন্মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। পরিবেশ সংরক্ষণে গাছের গুরুত্ব ও পরিচর্যা বিষয়ে বিশেষ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা জনাব মোঃ আশরাফ আলী এবং ইসিএফএস ম্যানেজার মি. সুবাস এ. গমেজ। এছাড়া কারিতাস বাংলাদেশ একরাব প্রকল্পের কার্যক্রম ও বৃক্ষরোপণের নানা দিক তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন মহিপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হাজী মো: ফজলু গাজী। চারাগাছগুলোর সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ ও বৃক্ষরোপণে নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে দিকনির্দেশনা মূলক বক্তব্য দেন উপজেলা কৃষি অফিসার জনাব আরাফাত হোসেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব মোঃ আরিফুজ্জামান জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় স্থানীয় পর্যায়ে কারিতাস বাংলাদেশের এমন উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং নারী কৃষকদের মাঝে এই চারাগাছ বিতরণ করেন।তিনি বলেন বাংলাদেশ সরকারের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আওতায় পাঁচ বছরে পঁচিশ কোটি গাছের চারা রোপণের কর্মসূচির সাথে বেসরকারি সংস্থা এগিয়ে এসেছেন। সংস্থাগুলো সরকারের উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে ইতিমধ্যে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করে। তারই ধারাবাহিকতায় কারিতাস মহিপুর শাখা নারী কৃষকদের মাঝে তিন হাজার চারাগাছ বিতরন করায় কারিতাস বাংলাদেশ কে ধন্যবাদ জানান। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আরিফুজ্জামান মহিপুর কারিতাস কার্যালয়ের সন্মুখে একটি নারিকেল গাছের চারা রোপণ করেন।
পরিশেষে সভাপতি মি. মার্সেল গুদা সমাপনী বক্তব্যে বলেন, কারিতাস বাংলাদেশ এর এমডি ঘোষিত আগামী পাঁচ বছরে পঁচিশ লক্ষ বৃক্ষরোপণের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। সরকারের উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে সে লক্ষ্যে আজ মহিপুর কারিতাস অফিসে নারী কৃষকদের মাঝে পাঁচ প্রকারের তিন হাজার গাছের চারা বিতরণ করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব থেকে রক্ষা, জলবায়ু অভিযোজন কৌশল বৃদ্ধিতে সক্ষমতা অর্জনে একরাব প্রকল্পের আওতায় প্রান্তিক জনগোষ্ঠী জীবন মান উন্নয়ন ও সবুজ বেষ্টনী গড়ে তুলতে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ব্যপক গুরুত্ব বহন করে। এরপর সভাপতি সকলের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।
কারিতাস বরিশাল অঞ্চলের মহিপুর অফিসের একরাব কর্মসূচির আওতায় চারাগাছ বিতরণ অনুষ্ঠানটি সন্ঞ্চালনা করেন কারিতাস বরিশাল অঞ্চলের ডিএম কর্মসূচি কর্মকর্তা মি. সম্রাট সেবাষ্টিয়ান।