জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, গত ছয় মাসে সরকার কয়েকটি কার্ড দেওয়া ছাড়া জনগণকে আর কিছুই দিতে পারেনি। সরকার জনগণের সঙ্গে ভাঁওতাবাজি ও প্রতারণা করছে এবং দেওয়া প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘন করছে।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড পৌর সদরের উত্তর বাজার এলাকায় জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যজোটের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গণভোটের পক্ষে অবস্থান নিয়ে জনগণের কাছ থেকে ভোট আদায় করে এখন সরকার গণভোটের রায়ের বিরোধিতা করছে। জনগণ তাদের ক্ষমা করবে না। জনগণের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা রাজপথে থাকবেন।
তিনি বলেন, “আমরা রাস্তায় নেমেছি গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন করার জন্য। রাস্তায় নেমেছি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়ন করার জন্য। আমরা রাস্তায় নেমেছি আপনাদের ঘরে গ্যাস ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য। রাস্তায় নেমেছি আপনাদের ঘরে বিদ্যুৎ ও বাতি জ্বালানোর ব্যবস্থা করার জন্য।”
দাবি পূরণ করে তারা ঘরে ফিরবেন বলেও মন্তব্য করেন জামায়াতের আমির।
সীতাকুণ্ডের স্থানীয় বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান জনগণের উদ্দেশে প্রশ্ন রাখেন, তারা ২৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ ও গ্যাস পাচ্ছেন কি না। একই সঙ্গে তিনি সীতাকুণ্ডে চাঁদাবাজি, মাদক ও সন্ত্রাস রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নও করেন।
দেশে মাদকের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, দেশ মাদকে ভরে গেছে এবং এতে যুবসমাজ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। তিনি যুবসমাজকে রক্ষা এবং দেশকে বাঁচানোর আহ্বান জানান।
ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, তারা জনতার বিজয়ের বিষয়ে আশাবাদী। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে তারা সব দাবি আদায় করবেন। জনগণ তাদের সঙ্গে রয়েছে এবং তারা গন্তব্যে পৌঁছাবেন।
পথসভায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নেতৃবৃন্দসহ ১১ দলীয় ঐক্যজোটের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
পথসভা শেষে হাজারো গাড়ির বহর নিয়ে নেতৃবৃন্দ চট্টগ্রামের লালদিঘির উদ্দেশে রওনা হন।