• বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ১২:১৪ অপরাহ্ন
Headline
নাসিরনগরে নিজ বাবার লালসার শিকার ১৫ বছরের কিশোরী, অভিযুক্ত বাবা আটক, চাঁপাইনবাবগঞ্জে অবৈধ সীসা কারখানায় অভিযান, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন ও জরিমানা মধুপুরে সড়ক ভাঙ্গনরুধে ব্লক বসানোর ১৫ দিনের মধ্যেই ভেঙ্গে চুরমার দীর্ঘদিনের স্বপ্নের পূরন হতে চলছে ঠাকুরগাঁও বাঁশির জন্য। হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে কোটি টাকা ব্যয়ে নাঈম ক্রিকেট ও ফুটবল ইনডোরের উদ্ভোধন করেন এমপি রেজা কিবরিয়া মোল্লাহাটে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহ-২০২৬ উদ্বোধন ভূরুঙ্গামারীতে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে নবাগত ইউএনও’র মতবিনিময় দিনাজপুরের বিরামপুরে জামায়াতে ইসলামীর ইউনিয়ন পরিষদ প্রার্থীদের নাম ঘোষণা। চাঁপাইনবাবগঞ্জে পবিত্র ঈদ-উল-আজহা উদযাপন উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত চাঁপাইনবাবগঞ্জ ‘হলদে পাখি’ সম্প্রসারণে মতবিনিময় সভা

টাঙ্গাইলে কালের গর্ভে বিলীন হচ্ছে ঐতিহ্যবাহী পাটি শিল্প

গৌরাঙ্গ বিশ্বাস,বিশেষ প্রতিনিধি: / ২৫ Time View
Update : বুধবার, ২০ মে, ২০২৬

গৌরাঙ্গ বিশ্বাস,বিশেষ প্রতিনিধি:

কালের আবর্তে হারিয়ে যেতে বসেছে টাঙ্গাইল জেলার শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী পাটি শিল্প। একসময় জেলার ঘরে ঘরে তৈরি হতো বেতের তৈরি শীতল পাটি। গ্রামীণ জনপদের মানুষের দৈনন্দিন জীবন, বিয়ে-শাদি, ধর্মীয় অনুষ্ঠান কিংবা গরম দুপুরের শীতল আরামে পাটির ছিল ব্যাপক ব্যবহার। কিন্তু আধুনিকতার ছোঁয়া ও প্লাস্টিকজাত পণ্যের আগ্রাসনে এখন বিলুপ্তির পথে এ শিল্প।

এক সময় টাঙ্গাইল জেলার কালিহাতী, ঘাটাইল, মির্জাপুর, নাগরপুর, দেলদুয়ার, বাসাইল, ভূঞাপুর, গোপালপুর, সখীপুর, ধনবাড়ী, মধুপুর ও টাঙ্গাইল সদরসহ বিভিন্ন উপজেলার গ্রামাঞ্চলে পাটি শিল্প ছিল একটি লাভজনক ও সম্ভাবনাময় কুটির শিল্প। বিশেষ করে কালিহাতী উপজেলার বাংড়া, সিলিমপুর, খিলদা, ধুনাইল, এলেঙ্গা, লাঙ্গলজোড়া, ঘূনি, সালেংকা, পাটিতাপাড়া, পিচুটিয়া, আউলটিয়া ও মহিষজোড়াসহ হিন্দু অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে ছিল পাটি শিল্পের সবচেয়ে বড় কেন্দ্র।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একসময় এ শিল্পের সঙ্গে জড়িয়ে ছিল প্রায় দুই লক্ষাধিক শ্রমিক ও কারিগর। উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে ছিল বেতের ক্ষেত। সেই বেত সংগ্রহ করে তৈরি হতো শীতল পাটি, বুকা পাটি, ছাইলা ও আতি। স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে এসব পণ্য পৌঁছে যেত ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে।

তবে সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে কমতে থাকে পাটির চাহিদা। বর্তমানে প্লাস্টিকের তৈরি পাটি ও আধুনিক সামগ্রীর সহজলভ্যতার কারণে ঐতিহ্যবাহী বেতের পাটির বাজার প্রায় হারিয়ে গেছে। ফলে পাটি শিল্পের সঙ্গে জড়িত অসংখ্য পরিবার এখন মানবেতর জীবনযাপন করছে। অনেকে পেশা বদল করেছেন, আবার অনেক পরিবার জীবিকার সন্ধানে পাড়ি জমিয়েছেন ভারতে।

উপজেলা পাটি শিল্প সমিতির সাধারণ সম্পাদক হরে কৃষ্ণ পাল বলেন, একসময় এই শিল্পে দুই লক্ষের বেশি মানুষ কাজ করতো। এখন বাজার সংকুচিত হয়ে গেছে। সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণ ও সরকারি সহায়তা পেলে এ শিল্প আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারে।

সিলিমপুর গ্রামের পাটি কারিগর কালা চাঁদ বাবু বলেন, “সরকারের সহযোগিতা পেলে আমরা টিকে থাকতে পারবো। এখন খুব কষ্টে দিন পার করছি।”

পিচুটিয়া গ্রামের কারিগর সুশান্ত চন্দ্র ধর বলেন, এই পাটির কাজ ছাড়া আর কিছু শিখিনি। এটা করেই সংসার চলে। সরকার পাশে না দাঁড়ালে এ শিল্প একদিন পুরোপুরি বিলীন হয়ে যাবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, টাঙ্গাইলের ঐতিহ্যবাহী এ শিল্পকে রক্ষা করতে হলে প্রয়োজন সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা, সহজ শর্তে ঋণ, প্রশিক্ষণ এবং দেশ-বিদেশে বাজার সম্প্রসারণের উদ্যোগ। তা না হলে অচিরেই টাঙ্গাইলের ঐতিহ্যবাহী পাটি শিল্প শুধুই ইতিহাস আর স্মৃতির পাতায় স্থান পাবে।

গৌরাঙ্গ বিশ্বাষ
,বিশেষ প্রতিনিধি
০১৭১২৭২০৭৮৭


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা