বান্দরবান প্রতিনিধি :
বান্দরবানে পর্নোগ্রাফি আইনে দায়ের করা একটি মামলাকে কেন্দ্র করে আপসচাপ, পুলিশি ভূমিকা ও আর্থিক লেনদেন নিয়ে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। একই ঘটনায় অনুসন্ধান করতে গিয়ে এক সাংবাদিকের বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে, যা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ: হুমকি ও জোরপূর্বক আপস
ভুক্তভোগী হাসিনা আক্তার (৫০) অভিযোগ করেন, তার ছোট মেয়ে সাদিয়া খান টুম্পা (২৬) ও মেয়ের জামাতা মিসকাতুন নবী মিসকাত (২৭) আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে ৩ লাখ টাকা দাবি করেন। এ ঘটনায় তিনি বান্দরবান সদর থানায় পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা দায়ের করেন।
পরে অভিযুক্তরা জামিনে মুক্ত হয়ে মামলা তুলে নিতে চাপ দেয় বলে দাবি করেন তিনি।
থানায় ডাকা, না গেলে বাড়ি ঘেরাওয়ের অভিযোগ
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, থানায় না যাওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে ২৭ এপ্রিল রাতে পুলিশ তাদের বাড়ি ঘিরে ফেলে এবং দীর্ঘ সময় আটকের চেষ্টা চালায়। যদিও কাউকে আটক করা হয়নি।
থানায় ‘আপসচাপ’ ও আর্থিক সমঝোতার অভিযোগ
পরদিন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে থানায় গেলে তাকে জোর করে আপস করানো হয় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী। তার ভাষ্য অনুযায়ী, চাপ প্রয়োগ করে স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয় এবং একটি কক্ষ ছাড়ার শর্তে ৪ লাখ টাকার সমঝোতা চাপিয়ে দেওয়া হয়।
তিনি দাবি করেন, ইতোমধ্যে ২ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে এবং বাকি অর্থ পরিশোধের কথা রয়েছে—যা স্বেচ্ছায় নয়, বরং চাপের মুখে হয়েছে।
বান্দরবান সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহেদ পারভেজ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কাউকে আটক বা আপস করানো হয়নি এবং বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন।
অনুসন্ধান করায় সাংবাদিকের বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ
এদিকে, ঘটনাটি নিয়ে তথ্য সংগ্রহ ও অনুসন্ধান করতে গিয়ে প্রতিবেদকের বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট ওসি এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিবেদকের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়ার চেষ্টা এবং আটকের উদ্যোগ নিয়েছেন। এতে স্থানীয় সাংবাদিক মহলে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
নিরাপত্তা চেয়ে আদালতে জিডি
এ পরিস্থিতিতে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে প্রতিবেদক আজ (৪ মে) বান্দরবান চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডিতে তিনি উল্লেখ করেন, পেশাগত দায়িত্ব পালনের কারণে তার বিরুদ্ধে হয়রানি ও নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়েছে এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি সুরক্ষা কামনা করেন।
এ বিষয়ে বান্দরবান জেলা পুলিশ সুপার আবদুর রহমান জানান,এনার জামাই কে মেরে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে, জামাই থানায় অভিযোগ দিয়েছে, ৯৯৯ এ কল করেছে, সেই প্রেক্ষিতে চেয়ারম্যান সহ থানায় ডাকা হয়েছে। আটক রাখার বিষয় সত্য নয়।তিনি আরো বলেন, কাউকে অন্যায় ভাবে হয়রানি করা হবে না।