• বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ০১:১৪ পূর্বাহ্ন
Headline
মহিপুরকে উপজেলা ঘোষণার দাবিতে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানির নতুন এমডি আমজাদ হোসেন ত্রিদিব দত্ত শিমুল হাবিলাসদ্বীপ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি নির্বাচিত  কটিয়াদীতে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, বনগ্রামে উত্তেজনা ও থমথমে পরিস্থিতি ১৯ পিস ইয়াবাসহ ৪ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার কচুয়ায় চান্দিনা উপজেলা এনসিপিতে একযোগে যোগদান, ৫০-এর অধিক আলেমসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণ।  নওগাঁর ধামইরহাটে পুকুরে বিষ প্রয়োগের অভিযোগ, প্রায় ৩০ লাখ টাকার ক্ষতির আশঙ্কা ​ভোলাহাটে হেরোইন ও গাঁজাসহ মা-ছেলেসহ একই পরিবারের ৩ জন আটক ‎যশোরে গাঁজা ও চোরাচালানী মালামালসহ আটক-১ পাঁচবিবিতে ওয়ার্ড ফেস্টিভাল ফুটবল টুর্নামেন্টের চুড়ান্ত খেলা অনুষ্ঠিত 

কলাগাছ কেটে কৃষকের বিরুদ্ধে থানায় মিথ্যা অভিযোগ, তদন্তে পুলিশ

Reporter Name / ২৬ Time View
Update : মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২৬

চরফ্যাশন (ভোলা) প্রতিনিধি: মনির হোসেন বিল্লাহ

 

ভোলা জেলার শশীভূষণ থানাধীন হাজারীগঞ্জ ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে টিউবওয়েল দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে টাকা নেওয়ার পরও দীর্ঘ সাত মাস অতিবাহিত হলেও টিউবওয়েল সরবরাহ না করায় টাকা ফেরত চাইতে গিয়ে হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন কৃষক আব্দুল করিম আখন।

 

ভুক্তভোগী করিম আখন জানান, স্থানীয় দুলাল চৌধুরীর ছেলে কবির তার কাছ থেকে একটি টিউবওয়েল দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে টাকা নেন। তার দাবি, শুধু তার কাছ থেকেই নয়, আরও কয়েকজনের কাছ থেকেও একইভাবে টাকা নেওয়া হয়েছে। প্রথমে দুই মাসের মধ্যে টিউবওয়েল দেওয়ার কথা বলা হলেও সাত মাস পার হয়ে গেলেও তা সরবরাহ করা সম্ভব হয়নি। পরে টাকা ফেরত চাইলে বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

 

করিম আখন বলেন, “টাকা ফেরতের দাবি তোলার পর সরকারি রাস্তার পাশের কলাগাছ কাটার ঘটনাকে কেন্দ্র করে আমাকে জড়িয়ে শশীভূষণ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অথচ এ ঘটনার সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।”

 

তিনি আরও বলেন, “আমার জমির সামনের খালের পাড়ের খাস জায়গা আমরা দীর্ঘদিন ধরে ভোগ করে আসছি। এ নিয়ে আগে কখনও কোনো বিরোধ হয়নি। কিন্তু টিউবওয়েলের টাকা ফেরত চাইতেই আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার শুরু হয়।”

 

করিম আখনের অভিযোগ, ঈদের পরদিন ২৯ মে রাতে কে বা কারা কলাগাছ কেটেছে, সে বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য বা প্রমাণ না থাকা সত্ত্বেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তার নাম উল্লেখ করে বিভিন্ন প্রচারণা চালানো হয়েছে। এতে তার সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার কামনা করেছেন।

 

এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল কাদের, মনজু, আব্বাস সিকদার, ইউনুস মাওলানা, আলাউদ্দিন আখন, মোহাম্মদ আলী, আব্দুল জাহের সিকদার ও জাহের আখন জানান, করিম আখন একজন সাধারণ, শান্তিপ্রিয় ও পরিশ্রমী কৃষক। কৃষিকাজ ও সবজি চাষের মাধ্যমেই তিনি জীবিকা নির্বাহ করেন। এলাকায় তার বিরুদ্ধে আগে কোনো ধরনের অভিযোগ শোনা যায়নি বলেও জানান তারা।

 

অভিযোগের বিষয়ে দুলাল চৌধুরী বলেন, “সন্দেহের ভিত্তিতে আমি শশীভূষণ থানায় করিম আখনের নামে একটি অভিযোগ করেছি। একটি তালগাছের তাল বিক্রি নিয়ে তার ছেলে মনিরের সঙ্গে আমার ছেলের তর্ক-বিতর্ক হয়েছিল। সেই কারণেই আমার সন্দেহ হয়েছে।”

 

অন্যদিকে, কবিরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে তার স্ত্রী টিউবওয়েলের জন্য টাকা নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, “আমার স্বামী জানিয়েছেন, আরও এক থেকে দুই মাসের মধ্যে টিউবওয়েল দেওয়া হবে।”

 

এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের প্রকৃত সত্য উদঘাটনে প্রশাসনের নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।

 

এ বিষয়ে শশীভূষণ থানার এএসআই খলিল হোসেন বলেন, “থানায় একটি অভিযোগ হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তবে কে বা কারা গাছ কেটেছে, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। উভয় পক্ষকে থানায় ডাকা হয়েছে। তদন্ত শেষে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

 

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটিত হবে এবং নির্দোষ কেউ যেন হয়রানির শিকার না হন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা