মুশফিকুর রহমান, বোয়ালমারী (ফরিদপুর) প্রতিনিধি:
ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের জন্য বরাদ্দকৃত চাল বিতরণের আগেই ‘আত্মসাতের’ তকমা দিয়ে প্রশাসনের অভিযানের নামে অপমানের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) স্থানীয় ইমাম ও মুয়াজ্জিন পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে প্রশাসনের এমন আচরণকে ‘পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র’ ও ‘ওলামা সমাজকে হেয় প্রতিপন্ন করার অপচেষ্টা’ হিসেবে উল্লেখ করে তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার বিবরণ পেশ করেন বোয়ালমারী কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিব এবং উপজেলা ইমাম পরিষদের সভাপতি মাওলানা হুসাইন আহমাদ।
তিনি তার বক্তব্যে ও সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, বিগত বছরগুলোর ধারাবাহিকতায় এবারও বোয়ালমারী পৌরসভার পক্ষ থেকে উপজেলার ৬৩ জন মুয়াজ্জিনের জন্য ১২ বস্তা ৩০ কেজি চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। গত বুধবার (২০ মে) পৌর সচিব ডেকে নিয়ে আগামী রবিবারের মধ্যে মাস্টাররোল অনুযায়ী এই চাল বিতরণের জন্য ইমাম পরিষদের কাছে হস্তান্তর করেন। ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সামাজিক মর্যাদার কথা বিবেচনা করে লাইনে দাঁড় না করিয়ে সম্মানজনকভাবে বিতরণের উদ্দেশ্যে চালগুলো ইমাম পরিষদের উপদেষ্টা ও সাবেক পৌর কমিশনার সামাদ খানের ভবনের নিচতলায় অস্থায়ী কার্যালয়ে রাখা হয়।
ইমাম নেতৃবৃন্দের অভিযোগ, বিকেল ৪টায় চাল হস্তান্তরের মাত্র ৩ ঘণ্টার ব্যবধানে, কোনো রকম যাচাই-বাছাই না করেই সন্ধ্যা ৭টায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শিব্বির আহমেদের নেতৃত্বে সেখানে ‘চাল উদ্ধার অভিযান’ চালানো হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এটিকে ‘চাল আত্মসাৎ’ হিসেবে প্রচার করে ইমাম ও ওলামা সমাজকে জনসমক্ষে চরমভাবে অপমান ও হেয় করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, এর আগে পৌর সচিব কর্তৃক ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ঈদের সম্মানির টাকা বিতরণে ঘুষ চাওয়ার একটি ঘটনা ঘটেছিল। সেই ঘটনার জের ধরে পৌর সচিব পরিকল্পিতভাবে এই চাল বিতরণের নাটক সাজিয়ে প্রশাসনকে বিভ্রান্ত করেছেন বলে আমরা মনে করি।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ইমাম পরিষদের সেক্রেটারি হাফেজ সাহেব আলী এবং উপদেষ্টা সামাদ খান বলেন, “পৌর কর্তৃপক্ষের দেওয়া চাল বিতরণের প্রস্তুতির মাঝেই এই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযান চালানো হয়েছে। সামাদ খানকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করা এবং ইমাম সমাজকে কলঙ্কিত করাই ছিল এর মূল উদ্দেশ্য।”
ওলামা সমাজকে এই অপমানের পেছনে জড়িতদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তারা। অন্যথায় আগামীতে কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবেন বলে হুঁশিয়ারি দেন নেতৃবৃন্দ।
উল্লেখ্য, গত বুধবারের অভিযান প্রসঙ্গে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শিব্বির আহমেদ জানিয়েছিলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে চালগুলো উদ্ধার করা হয়েছে এবং পৌর কর্তৃপক্ষের এভাবে চাল হস্তান্তর করা ঠিক হয়নি।
আজকের সংবাদ সম্মেলনে উপজেলার বিভিন্ন মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।