মোঃ জুয়েল খান খুলনা বিভাগীয় প্রতিনিধি।
খুলনা বিভাগে গড়ে ওঠা প্রতিটি জেলা এবং উপজেলায় গুচ্ছগ্রাম ও আশ্রয়ন কেন্দ্রগুলিতে বাসা বেঁধেছে অনিয়ম ও দুর্নীতির যে সকল ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে তার অধিকাংশ ঘরের ঝুলছে তালা। শুধুই তাই নয় এখানে রয়েছে নানা ধরনের অনিয়মের অভিযোগ, বরাদ্দকৃত ঘর গুলি টাকার বিনিময়ে ভাড়া দেওয়া সহ বিভিন্ন হাত বদল করার অভিযোগ রয়েছে। বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক বৈধতা প্রদানের মাধ্যমে যাকেই বরাদ্দ দেওয়া হয় তারই বসবাস করার কথা থাকলেও অনেক জেলায় এবং উপজেলা গুলিতে এর ব্যতিক্রম ঘটনা ঘটেছে। বিভিন্ন জেলা এবং উপজেলা ঘুরে দেখা যায় অধিকাংশ ঘরে শুধুই তালাই ঝুলছে না এর মধ্য থেকে বিক্রি করে অনেকে চলে গিয়েছেন এমনকি ভাড়াও দিয়েছেন বিভিন্ন মহল।
বাংলাদেশ সরকারের “গুচ্ছগ্রাম” ও “আশ্রয়ণ” প্রকল্পের আওতায় ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য ঘর নির্মাণ কার্যক্রম ১৯৯৭ সাল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় এবং বিভিন্ন পর্যায়ে এখনও চলমান আছে। এছাড়াও, মুজিববর্ষে (২০২০-২০২১) দেশব্যাপী ব্যাপক পরিসরে ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য ঘর নির্মাণ ও বিতরণের কাজ করা হয়েছে। সরকারিভাবে বরাদ্দকৃত এই ঘর বিক্রির কিংবা ভাড়া দেওয়ার কোন নীতিমালা না থাকলেও ব্যক্তিগত স্বার্থে তা বিক্রি এবং ভাড়া দিয়েছেন বিভিন্ন মহল।
সুবিধাভোগী ব্যক্তি শুধুমাত্র সেখানে বসবাসের অধিকার পান, কিন্তু জমির বা ঘরের মালিকানা পান না। তাই এটি বিক্রি, হস্তান্তর, বা ভাড়া দেওয়া সম্পূর্ণ অবৈধ। তবুও প্রশাসনের নাকের ডগা দিয়েই ঘর কুড়ায় বিক্রয় এবং ভাড়ার প্রতিযোগিতা। সরকারি বেশ কিছু প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ রয়েছে যে, গুচ্ছগ্রামের ঘর বিক্রি করলে বা অবৈধভাবে হস্তান্তর করলে সরকার বরাদ্দ বাতিল করে দেয় এবং ঘর উদ্ধার করে নতুন প্রকৃত ভূমিহীনদের বরাদ্দ দিয়ে থাকে। এমন অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হতে পারে। এমনকি আপনি যদি সেখানে বসবাস করতে না পারেন, তবে আপনাকে ঘরটি উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বা স্থানীয় প্রশাসনের কাছে নিঃশর্তভাবে সমর্পণ (সারেন্ডার) করতে হবে। এত বড় একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানেও নজরদারি নেই কারোরই।