ফকিরহাট প্রতিনিধি
খুলনার বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট উপজেলায় পরিচালিত “দি কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লীগ অব বাংলাদেশ লিঃ (কালব)” এবং এর আওতাধীন ফকিরহাট উপজেলা শিক্ষক-কর্মচারী কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়নের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত সুদ আদায়, সদস্যদের অর্থ আত্মসাৎ, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও বিভিন্ন অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটি মূলত শিক্ষক ও শিক্ষা কর্মচারীদের সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে থাকেন এবং দীর্ঘমেয়াদী লোন দিয়ে থাকেন শিক্ষক-শিক্ষিকা ছাড়া কোন সাধারণ মানুষকে লোনের আওতায় আনা হয়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, অনেক সদস্যের জমাকৃত অর্থ অফিসিয়াল হিসাবে জমা না দিয়ে তা আত্মসাৎ করা হয়েছে।
এছাড়া ঋণের বিপরীতে অস্বাভাবিক হারে সুদ ও মুনাফা আদায়ের অভিযোগও উঠেছে। জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটি মাসিক ২ শতাংশ হারে সুদ গ্রহণ করে, যা বার্ষিক হিসাবে প্রায় ২৪ শতাংশে দাঁড়ায়। একাধিক ভুক্তভোগীর দাবি, প্রতিষ্ঠানের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে তাদের নীতিমালা অনুযায়ী সর্বোচ্চ ৩৭ শতাংশ পর্যন্ত সুদ নেওয়ার অনুমতি রয়েছে। এত উচ্চ সুদের হার সাধারণ শিক্ষক শিক্ষিকার জন্য বড় ধরনের আর্থিক চাপ সৃষ্টি করছে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।
শিক্ষকদের অভিযোগ, অতিরিক্ত সুদের চাপে পড়ে বহু নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবার আর্থিক সংকটে পড়েছে। বিশেষ করে গ্রামের সহজ-সরল শিক্ষকদের বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগের, অভিযোগসহ মামলা দেওয়ার ভয় দেখানো এবং মানসিকভাবে হয়রানি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এক ভুক্তভোগী, যিনি স্থানীয় একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী, অভিযোগ করে বলেন— প্রায় পাঁচ বছর আগে তিনি ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা ঋণ গ্রহণ করেন এবং ইতোমধ্যে প্রায় ১ লাখ টাকা পরিশোধ করেছেন। কিন্তু সম্প্রতি তাকে নোটিশ দিয়ে জানানো হয়েছে, এখনো তার কাছে ২ লাখ ৪৭ হাজার টাকা বকেয়া রয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা পরিশোধ না করলে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হবে বলেও ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, সমবায় প্রতিষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত সাধারণ মানুষের আর্থিক সহযোগিতা নিশ্চিত করা। কিন্তু কোনো প্রতিষ্ঠান যদি অতিরিক্ত সুদ, অনিয়ম ও ভয়ভীতির মাধ্যমে সদস্যদের হয়রানি করে, তাহলে তা সমবায়ের মূল নীতি ও উদ্দেশ্যের পরিপন্থী।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
ভুক্তভোগীরা বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সমবায় অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।