• মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬, ০৭:৪২ অপরাহ্ন
Headline
কালীগঞ্জে বোয়ালী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকার সীমাহীন অনিয়ম ও দূর্ণীতি নাসিরনগর উপজেলাবাসীকে পবিত্র ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন কেএম বশির উদ্দিন তুহিন। পটুয়াখালীতে বর্ণাঢ্য আয়োজনে ভূমিসেবা মেলা শুরু: তিন দিনব্যাপী সেবা পাবেন নাগরিকরা জনকল্যাণে নিবেদিতপ্রাণ মোজ্জাম্মেল হোসেন মোল্লাকে শিবালয় উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চায় স্থানীয় জনতা চাঁপাইনবাবগঞ্জে গৃহ শিক্ষিকার বস্তাবন্দী মরদেহ উদ্ধার, আটক ২ ঠাকুরগাঁওয়ে বিভিন্ন আয়োজনে তিন দিনব্যাপী ভূমিসেবা মেলার উদ্বোধন তেতুলিয়া বালু ভর্তি মাহিন্দ্র ট্র্যাক্টর উল্টে চালকের সহকারী মৃত্যু পঞ্চগড়ে চেয়ারম্যান মিলন সাহেবের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগে মানববন্ধন,  বালিয়াডাঙ্গীতে ৩ দিন ব্যাপী ভূমিসেবা মেলা! 

সিংগাইরে নির্মাণাধীন সেতুর ডেক স্ল্যাবে ফাটল: ‘মেডিসিনেই ঠিক হবে’ দাবি প্রজেক্ট ইঞ্জিনিয়ারের

Reporter Name / ১১ Time View
Update : বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিংগাইর (মানিকগঞ্জ):
মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার চান্দহর এলাকায় ধলেশ্বরী নদীর ওপর নির্মাণাধীন একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুর ডেক স্ল্যাবে বড় ধরনের ফাটল দেখা দিয়েছে। কাজ শেষ হওয়ার আগেই এমন দৃশ্য সামনে আসায় সেতুর নির্মাণমান, তদারকি ও প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের ধীরগতির কাজ, মেয়াদোত্তীর্ণ প্রকল্প এবং নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রীর কারণেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশল কর্তৃপক্ষ বিষয়টিকে গুরুত্বহীন হিসেবে দেখছেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চান্দহর বাজারসংলগ্ন নির্মাণাধীন সেতুর ডেক স্ল্যাবের বিভিন্ন স্থানে লম্বালম্বিভাবে ফাটল তৈরি হয়েছে। কোথাও কোথাও ফাটল এতটাই স্পষ্ট যে খালি চোখেই তা সহজে বোঝা যায়। স্থানীয়দের দাবি, ঢালাইয়ের অল্প সময়ের মধ্যেই এসব ফাটল দৃশ্যমান হয়। অথচ কাজের মান যাচাই বা পুনরায় ঢালাইয়ের উদ্যোগ না নিয়ে দায়সারাভাবে কাজ চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

এলাকাবাসীর ভাষ্য, সেতুটি শুধু একটি অবকাঠামো নয়, বরং সিংগাইরের দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি ইউনিয়নের মানুষের প্রধান যোগাযোগের ভরসা। তাই নির্মাণের শুরু থেকেই প্রকল্পটি নিয়ে মানুষের আগ্রহ ছিল। কিন্তু বছরের পর বছর পেরিয়ে গেলেও সেতুর কাজ শেষ না হওয়া এবং এখন ফাটল দেখা দেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (LGED) সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের ৩০ জানুয়ারি প্রায় ৩৪ কোটি ৮৬ লাখ ৩৩ হাজার ৫৩০ টাকা ব্যয়ে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু করে মেসার্স নাভানা কনস্ট্রাকশন লিমিটেড। দুই বছরের মধ্যে, অর্থাৎ ২০২০ সালের ২৯ জানুয়ারির মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় দুই দফা মেয়াদ বাড়ানো হয়।

এরপরও কাজ অসমাপ্ত রেখে ২০২১ সালের ৩০ জুন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি সরে যায়। পরে প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে চুক্তি বাতিল করে নতুন দরপত্র আহ্বান করা হয়। পুনরায় কাজের দায়িত্ব পায় ফরিদপুরভিত্তিক জান্নাত কনস্ট্রাকশন। নতুন করে ৩৪ কোটি ৮৬ লাখ ৩৩ হাজার ৫৩০ টাকা ব্যয় নির্ধারণ করা হয়। কার্যাদেশ অনুযায়ী ২০২৫ সালের ১৯ জানুয়ারির মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময় পার হয়ে আরও পাঁচ মাস অতিবাহিত হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, আনুষ্ঠানিকভাবে মেয়াদ বৃদ্ধি না করেই নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

নির্মাণকাজে ফাটলের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রকল্পের প্রজেক্ট ইঞ্জিনিয়ার মো. সাজিদুল ইসলাম বিষয়টি স্বীকার করলেও একে বড় কোনো ত্রুটি হিসেবে মানতে রাজি নন। তিনি বলেন, “ঢালাইয়ের পর এ ধরনের সামান্য ফাটল হতে পারে। এটা বড় কোনো সমস্যা নয়। মেডিসিন বা কেমিক্যাল গ্রাউটিং করলেই ঠিক হয়ে যাবে।”

তবে তার এই বক্তব্যে স্থানীয়দের মধ্যে আরও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাদের প্রশ্ন, একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুর মূল কাঠামোতেই যদি ফাটল দেখা দেয়, তাহলে শুধু কেমিক্যাল ব্যবহার করে কতটা নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব?

সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং সংশ্লিষ্ট একাধিক বিশেষজ্ঞের মতে, ডেক স্ল্যাব একটি সেতুর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সেখানে ফাটল সৃষ্টি হলে বৃষ্টির পানি ও আর্দ্রতা সহজেই ভেতরের রডে পৌঁছাতে পারে। এতে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রডে মরিচা ধরে কাঠামোগত দুর্বলতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফাটল কেন সৃষ্টি হয়েছে, তা নির্ণয়ে কারিগরি তদন্ত জরুরি। শুধু কেমিক্যাল প্রয়োগ করে ফাটল ঢেকে দেওয়া দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হতে পারে না। প্রয়োজন হলে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ পুনর্নির্মাণেরও সুপারিশ আসতে পারে।

চান্দহর বাজারের ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, বছরের পর বছর ধরে ভোগান্তি সহ্য করেও তারা একটি নিরাপদ সেতুর আশায় ছিলেন। কিন্তু এখন যে পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে, তাতে উদ্বোধনের আগেই সেতুর ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

তাদের দাবি, পুরো প্রকল্পের নির্মাণমান নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে হবে। পাশাপাশি দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং কাজের গুণগত মান নিশ্চিত না করা পর্যন্ত নির্মাণকাজ বন্ধ রাখারও দাবি জানিয়েছেন তারা।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, যথাযথ তদন্ত ও কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে এই সেতু বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

সেতুর কাজ তদারকির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সিংগাইর এলজিইডির উপসহকারী প্রকৌশলী মো. নজরুল ইসলাম বলেন, “এটি কোনো ফাটল নয়, মূলত ‘এয়ার স্যাক’ (Air sac)। রোদের তাপমাত্রা বেশি থাকার কারণে কংক্রিটের উপরিভাগ কিছুটা ফেটেছে। এর ওপরে যখন আমরা আরও একটি সারফেস (Surface layer) করব, তখন এগুলো আর দেখা যাবে না।”


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা