গাজীপুরের টোক-কাপাসিয়া এলাকায় অবস্থিত পোশাক প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ডি এন্ড এস প্রিটি ফ্যাশন লিমিটেডের এডমিন ম্যানেজার যোগেশ চন্দ্র সাহার বিরুদ্ধে ছুটি না দেওয়া, গালিগালাজ, বেতন বকেয়া রাখা এবং শ্রমিকদের সঙ্গে শারীরিক ও মানসিকভাবে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগে কারখানার সাধারণ শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।
শ্রমিকদের অভিযোগ, অসুস্থতার কারণে কারখানার নিজস্ব মেডিকেল অফিসার ছুটি মঞ্জুর করলেও এডমিন ম্যানেজার যোগেশ চন্দ্র সাহা তা বাতিল করে দেন। এছাড়া বিশেষ করে নারী শ্রমিকদের সঙ্গে তিনি অনাকাঙ্ক্ষিত ও কুরুচিপূর্ণ ভাষায় কথা বলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
কারখানাটির সাবেক লাইন চিফ ‘জয়’ অভিযোগ করে জানান, নিয়ম অনুযায়ী চাকরি থেকে পদত্যাগ করার পরও তাঁর পাওনা বেতন পরিশোধ করা হয়নি। বকেয়া বেতনের বিষয়ে যোগাযোগ করলে তাঁকে অফিসে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে বেতন পরিশোধ না করে তাঁর সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও মারমুখী আচরণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
জয়ের আরও অভিযোগ, বিষয়টির প্রতিবাদ করতে গেলে ওই কর্মকর্তা তাঁকে ভয়ভীতি দেখান এবং প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করেন। এ সময় তিনি নিজেকে ‘ইসকনের সদস্য’ পরিচয় দিয়ে ‘আমি ইসকনের সদস্য, তোরা যা পারিস কর’—এমন মন্তব্য করেছেন বলেও অভিযোগ করেন জয়। তবে এ বক্তব্যের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নারী শ্রমিক বলেন, “তার আচরণ এতটাই নিম্নমানের যে মুখে বলা সম্ভব নয়। শুধু পেটের তাগিদে ও চাকরির প্রয়োজনে আমরা নীরব নির্যাতন সহ্য করে কাজ করে যাচ্ছি।”
এদিকে, ওই কর্মকর্তার পূর্ববর্তী কর্মস্থল নিয়েও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
শ্রমিকদের দাবি, এর আগে তিনি গাজীপুরের ‘লিজ ফ্যাশন’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন এবং সেখানে নারীঘটিত অনিয়ম ও অসদাচরণের অভিযোগে চাকরি হারিয়েছিলেন। তবে এ অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
শ্রমিকদের অভিযোগ, এ ধরনের আচরণের কারণে কারখানায় স্বাভাবিক কর্মপরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে। তারা অভিযোগগুলো তদন্ত করে সত্যতা যাচাই এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
কারখানার সুষ্ঠু কর্মপরিবেশ নিশ্চিত এবং প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি রক্ষায় ডি এন্ড এস প্রিটি ফ্যাশন লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী শ্রমিকরা।
অভিযোগের বিষয়ে এডমিন ম্যানেজার যোগেশ চন্দ্র সাহার বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।