পটুয়াখালীর মহিপুরে পূর্ববিরোধের জেরে ব্যবসায়ী মো. ইদ্রিস আকনকে (৩৬) কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করার ঘটনায় মামলার প্রধান আসামি মো. আল রুমান ওরফে সাব্বিরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুরে আলীপুর মাছ বাজার এলাকা থেকে মহিপুর থানা পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত আল রুমান ওরফে সাব্বির আলীপুর মৎস্য বন্দরের ব্যবসায়ী মো. আবুল হোসেন কাজী ওরফে আবুল কোম্পানির ছেলে।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ জুলাই সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে মহিপুর থানাধীন লতাচাপলী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের দুলাল জোমাদ্দারের বাড়ির সামনে একটি মুদি দোকানের সামনে ইদ্রিস আকনের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।
মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, আলীপুর মৎস্য বন্দরের ব্যবসায়ী মো. আবুল হোসেন কাজী ওরফে আবুল কোম্পানির নির্দেশ ও অংশগ্রহণে তার ছেলে আল রুমান ওরফে সাব্বিরসহ কয়েকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ইদ্রিস আকনের ওপর হামলা চালায়।
এ সময় হামলাকারীরা চায়নিজ কুড়াল, হাতুড়ি, ধারালো দা ও লোহার রডসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে। এতে ইদ্রিস আকনের বাম হাতের কনুই ও কব্জির মাঝামাঝি অংশ, গোড়ালি ও পাঁজরে গুরুতর আঘাত লাগে। এছাড়া তার মাথায় কাটা রক্তাক্ত জখমসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখমের সৃষ্টি হয়।
হামলার ভিডিও ও ঘটনার খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
পরে স্থানীয়রা আহত ইদ্রিস আকনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। তিনি ২৬ জুলাই থেকে ৩০ জুলাই পর্যন্ত বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
চিকিৎসা শেষে আহত ইদ্রিস আকন মহিপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় আল রুমান ওরফে সাব্বিরসহ চারজনের নাম উল্লেখ করা হয় এবং অজ্ঞাত আরও ৩-৪ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামীম হাওলাদার জানান, মামলা হওয়ার পর থেকেই আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান শুরু হয়। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার দুপুর ১টা ৫ মিনিটে আলীপুর মাছ বাজার এলাকা থেকে মামলার প্রধান আসামি মো. আল রুমান ওরফে সাব্বিরকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, গ্রেফতার আসামিকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।