• শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ০১:১৬ অপরাহ্ন
Headline
মামলা তুলে না নেওয়ায় ইসলামি যুব আন্দোলন নেতাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ ভুরুংগামারীতে পুলিশ-বিজিবির অভিযানে ভারতীয় ১৩ লাখ টাকার মোবাইলসহ যুবক আটক নামাজের প্রতি আমৃত্যু অনুরাগ-শুক্রবার ভোরে না ফেরার দেশে মোঃ মজিবর রহমান(বৈশাখু) মৌলভীবাজারের বাবার হৃদয়বিদারক আর্তনাদ-“আমার মতো ভুল করবেন না” পীরগাছায় বাড়িতে ঢুকে বিধবা নারী ও ছেলেকে পিটিয়ে জখম, শ্লীলতাহানির অভিযোগ বিজিবির অভিযানে বেনাপোল সীমান্তে ১২ লাখ টাকার ভারতীয় মালামাল আটক সিংড়ায় টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজে অভিভাবক সমাবেশ মনোহরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাস্থ্যসেবার মান ও পরিবেশ পর্যবেক্ষণে ইউএনও নীলফামারীতে ১৬ জন সরকারি প্রাথমিক শিক্ষকের বদলি কালীগঞ্জে শোকের ছায়া, সাবেক জেলা পরিষদ সদস্য নান্নুর দাফন সম্পন্ন

সালথায় ৮ বিঘা জমিতে বাণিজ্যিক আনারস চাষ, কৃষক মিলনের চোখে ৮০ লাখ টাকার স্বপ্ন

Reporter Name / ৩১ Time View
Update : মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২৬

মো: শাহীন হাওলাদার স্টাফ রিপোর্টার

ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় প্রথমবারের মতো বৃহৎ পরিসরে বাণিজ্যিকভাবে আনারস চাষ করে আলোচনায় এসেছেন কৃষি উদ্যোক্তা মিলন ফকির। উপজেলার যদুনন্দী ইউনিয়নের যদুনন্দী গ্রামে ৮ বিঘা জমিতে প্রায় ৮০ হাজার আনারসের চারা রোপণ করে তিনি গড়ে তুলেছেন একটি বিশাল আনারস বাগান। সফল ফলনের মাধ্যমে প্রায় ৮০ লাখ টাকা আয় করার স্বপ্ন দেখছেন তিনি।

স্থানীয় কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, সালথায় এই প্রথম এত বড় পরিসরে আনারসের বাণিজ্যিক চাষ হচ্ছে। কৃষকদের জন্য এটি একটি নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষের সঙ্গে যুক্ত মিলন ফকির গত বছর শখের বশে নিজের বাড়ির ছাদে কয়েকটি আনারস গাছ লাগান। সেখানে আশাতীত সফলতা পাওয়ার পর তিনি বাণিজ্যিকভাবে আনারস চাষের পরিকল্পনা করেন। পরে টাঙ্গাইলের মধুপুর থেকে ক্যালেন্ডার ও জলডুগু জাতের প্রায় ৮০ হাজার চারা সংগ্রহ করে ৮ বিঘা জমিতে রোপণ করেন।

কৃষি উদ্যোক্তা মিলন ফকির বলেন, “ছাদে আনারস চাষে ভালো ফল পাওয়ার পর আমার আত্মবিশ্বাস বেড়ে যায়। তখনই বড় পরিসরে আনারস চাষের পরিকল্পনা করি। বর্তমানে ৮ বিঘা জমিতে আনারসের বাগান করেছি। চারা সংগ্রহ, জমি প্রস্তুত ও পরিচর্যাসহ এ পর্যন্ত প্রায় ১৬ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। আগামী বছর ফল সংগ্রহ শুরু হবে। ফলন ভালো হলে প্রায় ৮০ লাখ টাকার আনারস বিক্রি করা সম্ভব হবে বলে আশা করছি।”

তিনি আরও বলেন, “আনারস বিক্রির পাশাপাশি চারা উৎপাদন ও বিক্রির পরিকল্পনাও রয়েছে। আমার উদ্যোগ সফল হলে এলাকার অন্যান্য কৃষকরাও আনারস চাষে আগ্রহী হবেন।”

সোমবার (১ জুন) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে সারিবদ্ধভাবে লাগানো হয়েছে আনারসের চারা। পরিচ্ছন্ন ও সুশৃঙ্খলভাবে গড়ে তোলা বাগানটি ইতোমধ্যে স্থানীয় কৃষকদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকা থেকে কৃষকরা বাগান দেখতে আসছেন এবং আনারস চাষের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে খোঁজখবর নিচ্ছেন।

স্থানীয় কৃষক রফিক মোল্যা বলেন, “আমাদের এলাকায় আগে কখনো আনারসের বাণিজ্যিক চাষ দেখিনি। মিলন ভাইয়ের বাগান দেখে খুব ভালো লাগছে। তিনি সফল হলে আমরাও ভবিষ্যতে আনারস চাষের কথা ভাববো।”

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা রেজাউল করিম বলেন, “সালথায় প্রথমবারের মতো ৮ বিঘা জমিতে বাণিজ্যিকভাবে আনারস চাষ করা হয়েছে। এটি এ অঞ্চলে ফল চাষের নতুন সম্ভাবনার সূচনা করেছে। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে নিয়মিত কারিগরি পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। আমরা আশা করছি, এই উদ্যোগ সফল হলে আরও অনেক কৃষক লাভজনক ফল চাষে এগিয়ে আসবেন।”

স্থানীয়দের মতে, প্রচলিত ধান ও সবজি চাষের বাইরে গিয়ে মিলন ফকিরের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ সফল হলে ফরিদপুর অঞ্চলে আনারস চাষের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। একই সঙ্গে কৃষকদের জন্য সৃষ্টি হবে আয়ের নতুন ক্ষেত্র এবং কৃষিতে আসবে নতুন বৈচিত্র্য।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা