• বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ০৩:৪৫ অপরাহ্ন
Headline
মহাস্থানে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১, আহত ১ কচুয়ায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হামরোগে উপসর্গে ১৩ মাসের ১ শিশুর মৃত্যু সোনামসজিদ সীমান্তে বিজিবি’র সফল অভিযান ১৮৫ বোতল ভারতীয় নেশাজাতীয় সিরাপ উদ্ধার হামে শিশুমৃত্যু, থামছেনা হাজারো মায়ের কান্না।        চা শিল্পে রেকর্ড গড়েছে, শ্রমিকদের ভাগ্য বদলায়নি  সরাইলে অভিনব কায়দায় বালিশের ভেতর গাঁজা বহন; ০১ মাদক কারবারী গ্রেফতার। নাসিরনগরে নিজ বাবার লালসার শিকার ১৫ বছরের কিশোরী, অভিযুক্ত বাবা আটক, চাঁপাইনবাবগঞ্জে অবৈধ সীসা কারখানায় অভিযান, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন ও জরিমানা মধুপুরে সড়ক ভাঙ্গনরুধে ব্লক বসানোর ১৫ দিনের মধ্যেই ভেঙ্গে চুরমার দীর্ঘদিনের স্বপ্নের পূরন হতে চলছে ঠাকুরগাঁও বাঁশির জন্য।

হামে শিশুমৃত্যু, থামছেনা হাজারো মায়ের কান্না।       

নিজস্ব প্রতিবেদক  / ১৮ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক 

 

একটি সরকারের মৌলিক দায়িত্ব হলো নাগরিকদের অন্ন বস্ত্র বাসস্থান শিক্ষা চিকিৎসার দায়িত্ব পালন করা। বেকারত্ব দূর করা। নাগরিকদের জীবনমান উন্নত করা। দুনীতি, লুটপাট ও চাঁদাবাজি বন্ধ করা। শিক্ষাঙ্গনে শিক্ষার সুষ্ঠ পরিবেশ নিশ্চিত করা। স্বাধীনতার ৫৪ বছরেও কোন সরকার একটি ইন্ডিকেটরের ৯০% বাস্তবায়ন করতে পারে নাই। সংবিধান মোতাবেক দেশের মালিক জনগণ। আজকে জনগণ তার প্রিয় সন্তানকে হাম ও হামের উপসর্গ থেকে বাঁচাতে পারছেনা। অথচ সরকারের সাবেক মন্ত্রী এয়ায় এ্যাম্বুলেন্সে সিংগাপুরে চিকিৎসা নিচ্ছেন। প্রেসিডেন্ট শাহাবুদ্দীন লন্ডনে চিকিৎসা নিচ্ছেন। একটি সরকারের অগ্রাধিকারথিত্তিক কাজ হওয়া উচিত ছিলো শিশুদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নাগরিকদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। দোষারোপের রাজনীতির কারনে এদেশে যেন জনবান্ধন এবং জবাবদিহিমুলক সরকার নাগরিকরা দেখতে পেলো না। হাম ও হামের উপসর্গ সম্পর্কে মাননীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছেন “বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় হামের টিকার কোনো মজুত ছিল না বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, ২০২০ সালের ডিসেম্বরের পর দেশে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি না হওয়া এবং টিকার তীব্র ঘাটতি বর্তমান হামের প্রাদুর্ভাবের মূল কারণ। মন্ত্রী আরও বলেন, ‘২০২০ সালে ডিসেম্বরে সর্বশেষ হয়েছে, তারপরে ২৬ পর্যন্ত আমরা শুরু করার আগপর্যন্ত মিজেলসের (হাম) কোনো টিকা দেওয়া হয় নাই। এমনকি মিজেলসের একটা টিকা আমাদের হাতে ছিল না।

একজন স্বাস্থ্যমন্ত্রীর অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত চিলো হাম ও হামের উপসর্গ রোধের জন্য ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন (হু) এর নিকট থেকে বিশেষজ্ঞ কনসালটেন্ট এনে হাম থেকে শিশুদের সুরক্ষা দেওয়া। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি হাম ও হামের উপসর্গ রোধের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির অবহেলার জন্য শাস্তির ব্যবস্থা করুন, পাশাপাশি ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন (হু) থেকে টীকা আনুন এবং দেশের প্রতিটি হাসপাতালে হাম ও হামের উপসর্গ রোধের জন্য বিশেষায়িত ইউনিট চালু করুন। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্য কতটুকু গ্রহণযোগ্য আপনার তরফ খেকে রিভিউ করে দেখুন।

 

সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৭৫ জনে। এর মধ্যে ৭৭ জনের মৃত্যু নিশ্চিতভাবে হামে হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ১৯মে তারিখের প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। একই সময়ে দেশে সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ২৬৪ জন। হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ১১৫ জন এবং ছাড়পত্র পেয়েছে ১ হাজার ১১০ জন। এছাড়া নতুন করে ৭৩ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি ৫৪৪ জন সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে ঢাকা বিভাগে। এরপর রয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগে ২৩০ জন এবং বরিশাল বিভাগে ১৪৭ জন। নিশ্চিত হাম শনাক্তের সংখ্যাও সবচেয়ে বেশি ঢাকা বিভাগে, যেখানে ৫৪ জন আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে । (সুত্র: দৈনিক ইত্তেফাক)।

 

হামের কারণে শিশুমৃত্যু থামছেনা, হাজারো মায়ের কান্না থামানো যাচ্ছে না। হাম সমস্যা নতুন সরকারের একটি ব্যর্থতার দলিল কিনা? প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অবশ্যই হাম সমস্যা রিভিউ করে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। বিশ্বে হাম টীকার ল্যবরেটরী বন্ধ কি? স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, ২০২০ সালের ডিসেম্বরের পর দেশে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি না হওয়া এবং টিকার তীব্র ঘাটতি বর্তমান হামের প্রাদুর্ভাবের মূল কারণ। তিনি কি হাম সমস্যার দায়ভার ড. ইউনুস সরকারের উপর চাপিয়ে দিতে চান? যাদের সন্তান মারা গেছে তারাতো বর্তমান তারেক রহমান সরকারের উপর দায়ভার চাপাবেই। এটাই বাস্তবতা। একজন সিনিয়র সিটিজেন ও সাধারণ নাগরিক হিসেবে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নিকট জানতে চাই, আপনি কি প্রদক্ষেপ নিয়েছেন। হামে শিশুমৃত্যু থামছেনা, হাজারো মায়ের কান্না থামানোর দায়িত্ব আপনার এবং স্বাস্থ্য মহাপরিচালকের।

 

একটি বাস্তব ঘটনা দেখুন, প্রথম আলো রিপোর্ট করেছে: রাজধানীর বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রের (আইসিইউ) সামনে তখন অদ্ভুত নীরবতা, নীরবতার ভেতর ছড়িয়ে ছিল এক মায়ের উৎকণ্ঠা। বারবার দরজার দিকে তাকাচ্ছিলেন রাবেয়া বেগম। কিছুক্ষণ আগেও তাঁর ৯ মাস ৫ দিন বয়সী ছেলে মেহমেদ বিন জিয়া মায়ের দিকে তাকিয়ে হাসছিল। তার কিছুক্ষণের মধ্যেই হাম ও হাম–পরবর্তী নানা জটিলতায় আইসিইউতে থেমে যায় শিশুটির শ্বাস। কিন্তু কেন অনুমতি ছাড়াই শিশুটিকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হলো এবং আইসিইউর গেটে তালা দেওয়া হয়েছিল কেন? এই প্রশ্নের উত্তর চাইছেন মা রাবেয়া বেগম। রাবেয়া বেগম প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি এবং ছেলের বাবা হাসপাতালে উপস্থিত ছিলাম। আইসিইউ থেকে দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক আমাকে বাইরে যেতে বলেন। তখনো তিনি আমার ছেলেকে যে লাইফ সাপোর্ট দেওয়া হবে, তা জানাননি। ওই চিকিৎসক আমার ছেলেকে লাইফ সাপোর্টে রেখে বাইরে চলে যান। তখনই আমার মনে কেমন যেন লাগতে থাকে। ১৫ মে রাতে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের আইসিইউতে মেহমেদের পাশে ছিলেন মা রাবেয়া বেগম ও বাবা মো. জিয়াউল ইসলাম। আইসিইউর দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক তাঁদের বাইরে যেতে বলেছিলেন। কিন্তু তাঁদের সন্তানকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হচ্ছে, এটা তাঁদের জানানো হয়নি বলে জানান রাবেয়া। রাবেয়া বেগম একজন স্বাস্থ্যকর্মী। তিনি রাজধানীর মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট হিসেবে কাজ করেন। শিশুটির বাবা মো. জিয়াউল ইসলাম আশুলিয়ায় একটি ব্যাংকে কর্মরত।’

 

শিশুটির মামা মো. সোহেল আকন বলেন, চিকিৎসক পরে শুধু বলেন—‘ঘুমের ইনজেকশন ও লাইফ সাপোর্ট’ দেওয়া হয়েছে। এরপর চিকিৎসক দ্রুত সেখান থেকে চলে যান। এরপর পরিবারের সদস্যরা আইসিইউতে ঢুকে পড়েন। তাঁদের দাবি, সেখানে কোনো চিকিৎসককে দেখা যাচ্ছিল না, শুধু দুজন নার্স ছিলেন। নার্সেরা তাঁদের বাইরে বের হতে বলেন। এরপরই আইসিইউর গেটে তালা লাগানো হয়। আইসিইউর গেটে তালা লাগানোর ভিডিওটি সোহেল আকন ফেসবুকে পোস্ট করলে তা আলোচনায় আসে। শিশুটির মা রাবেয়া বলেন, ‘পরে ডাকাডাকি করলে ওই চিকিৎসক মাস্ক পরে কোথা থেকে যেন আসেন। তিনি আসার পর গেটের তালা খোলা হয়। ততক্ষণে আমার ছেলে আর পৃথিবীতে নেই।’ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, শিশুটির শারীরিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে স্বজনের অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন নেই। এ ছাড়া রোগীর স্বজন হাসপাতালে ‘মব’ সৃষ্টি করায় আইসিইউর গেটে তালা লাগানো হয়েছিল। রাবেয়া বেগম বলেন, ‘আমি চিকিৎসক না হলেও মেডিক্যালের কিছু বিষয় বুঝতে পারি। লাইফ সাপোর্টে নেওয়ার আগেও আমার ছেলে হেসেছে, খেলেছে। কখনো মনে হয়নি ওর লাইফ সাপোর্টের দরকার ছিল। তারপরও যদি নিতেই হয়, অনুমতি তো নিতে হবে।

 

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ২১ মে পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৭৫ জনে। এর মধ্যে ৭৭ জনের মৃত্যু নিশ্চিতভাবে হামে হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ১৯মে তারিখের প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। একই সময়ে দেশে সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ২৬৪ জন। হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ১১৫ জন এবং ছাড়পত্র পেয়েছে ১ হাজার ১১০ জন। এছাড়া নতুন করে ৭৩ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছেন, ২০২০ সালের ডিসেম্বরের পর দেশে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি না হওয়া এবং টিকার তীব্র ঘাটতি বর্তমান হাম প্রাদুর্ভাবের মূল কারণ। তিনি কি হাম সমস্যার দায়ভার বিগত ড. ইউনুস সরকারের উপর চাপিয়ে দিতে চান? যাদের সন্তান মারা গেছে তারাতো বর্তমান তারেক রহমান সরকারের উপর হামের দায়ভার চাপাবেন, এটাই স্বাভাবিক! একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নিকট জানতে চাই, আপনি কি কি প্রদক্ষেপ নিয়েছেন, এতে জাতী সন্তুষ্ট কি? আপনার সরকারের সময় হাম প্রাদুর্ভাবে শিশুমৃত্যু থামছেনা, হাজারো মায়ের কান্না থামানোর দায়িত্ব আপনার এবং মহাপরিচালকের। হামে শিশুমৃত্যু, থামছেনা হাজারো মায়ের কান্না।

 

ড. খন্দকার নাজমুল হক

প্রাবন্ধিক ও উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা