• মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬, ০৫:৩৪ অপরাহ্ন
Headline
রামগঞ্জে আগুনে পুড়ে বসতঘর ছাই ডাংঙ্গা ইউনিয়নবাসীকে ঈদুল আযহার অগ্ৰীম ঈদ শুভেচ্ছা জানিয়েছেন হাজ্বী শফিকুল ইসলাম স্বপন  আলীকদমে বিজিবির মেডিকেল ক্যাম্পেইন: ১৫০ রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ঔষধ বিতরণ কচুয়ায় ৩ পিস ইয়াবাসহ মাদকসেবী আটক, স্থানীয় যুবকদের ধাওয়ায় পাকড়াও পাঁচবিবিতে ভূমিসেবা মেলার উদ্বোধন  সাইবার সুরক্ষায় অবদানে সম্মাননা পেলেন জেএ টিভির সোস্যাল এডমিন ফজলুল কবির ব্রাহ্মণবাড়িয়া শেখ হাসিনা রাস্তায় শিমরাইলকান্দি-বিজয়নগর সড়কের স্পিডব্রেকারে রং করার কার্যক্রম পরিচালনা হচ্ছে।  মেলান্দহে প্রধান শিক্ষকের ল্যাপটপ এটিও ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার  চাঁপাইনবাবগঞ্জের নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দ চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ লাইন্সে জেলা পুলিশের সদস্যদের অংশগ্রহণে মাস্টার প্যারেড অনুষ্ঠিত।

রামগঞ্জে টুং টাং শব্দে মুখরিত কামারপাড়া গভীর রাত পর্যন্ত ব্যস্ত কামাররা

মাসুদ রানা মনি লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি / ৩৬ Time View
Update : সোমবার, ১৮ মে, ২০২৬

মাসুদ রানা মনি লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে টুং টাং শব্দে মুখরিত হয়ে উঠেছে কামার পাড়া। ঈদের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই তাদের ব্যস্ততা বেড়েই চলেছে।সকাল হতে গভীর রাত পর্যন্ত চলে তাদের এই ব্যস্ততা। মনে হয় যেন এই ঈদটির জন্য তারা সারাটি বছর বসে থাকে। নিরব পরিবেশে হঠাৎ করে ভেসে আসছে টুংটাং শব্দ। নিঃশব্দ পরিবেশটাকে ছাপিয়ে চলছে কামারের হাতুড়ি আর হাপরের আওয়াজ। মনে হয় যেন তারা জানান দিচ্ছে ঈদ এসে গেছে আর বেশি দেরি নেই। রামগঞ্জের বয়োবৃদ্ধ কামার স্বপন কুমার বলেন, আমাদের বেচাকেনা এখনো শুরু হয়নি। মূলত গরু বিক্রি করার ওপরই নির্ভর করে আমাদের বেচা কিনা। গরু কেনা যখন জমে ওঠে তখনই মানুষ ছোরা চাপাতি এবং আনুষঙ্গিক জিনিসপত্র কিনতে ভিড় জমায়।অনেকে আবার পুরাতন ছোরা শান দিতে আনেন। আর জবাই করার ছোরা সাধারণত হুজুররাই কেনেন বেশি। এবার সবকিছুর দাম বেশি তাই দা ছোরা চাপাতির দামো একটু বেশি। সাধারণত গরু জবাইয়ের ছোরা প্রতি পিস বিক্রি করা হয় ৮০০ থেকে ১২০০ টাকা পর্যন্ত। গাড়ির স্প্রিং এর লোহার তৈরি চাপাতি বিক্রি হচ্ছে ১০০০ হতে ১৫০০ টাকা পর্যন্ত।এছাড়া বটি বিক্রি করা হচ্ছে ৬০০ টাকা হতে এক হাজার টাকা পর্যন্ত। চাইনিজ চাপাতি বিক্রি হচ্ছে ৮০০ হতে ১২শো টাকা পর্যন্ত। ছোট দা বিক্রি হচ্ছে ৪০০ হতে ৬০০ টাকা পর্যন্ত এবং বড়দা বিক্রি হচ্ছে ৫০০ হতে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত। এছাড়াও গরুর চামড়া ছড়ানোর জন্য ছোট ছোরাবিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকা হতে ৪০০ টাকা পর্যন্ত। রামগঞ্জ উপজেলার টিউরি বাজার, ভাটরা বাজার, দলটা বাজার লক্ষ্মীধর পাড়া বাজার, সমিতির বাজার, সোনাপুর বাজার সহ বেশ কয়েকটি বাজার ঘুরে গৌতম কর্মকার, সঞ্জয় কর্মকার, পলাশ কর্মকার,রমেশ কর্মকার, জসিম কর্মকার সহ বেশ কয়েকজনের সাথে আলাপ করে জানা গেছে কামার শিল্পের অতি প্রয়োজনীয় জ্বালানি কয়লার দাম অত্যন্ত বেড়ে গেছে। লোহার দামো অনেক বাড়তি। লোহা ও কয়লার দাম বাড়লেও সে তুলনায় কামারদের উৎপাদিত পণ্যের দাম বাড়েনি। কয়লার সংকটের কারণে ঠিকমতো কাজ করতে পারছি না। বিভিন্ন হোটেল থেকে প্রতি বস্তা কয়লা ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা ক্রয় করে আনতে হয়। কাজের অবস্থা খুবই খারাপ। আগে প্রতিদিন ১০০ টির মত কাস্তে তৈরি করতে পারতাম এখন ১০ হতে ১৫ টিতে দাঁড়িয়েছে। কামারের কাজ করে এখন সংসার চালানো বড় কঠিন। ছেলে মেয়েদের লেখাপড়া সহ সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। বড় কষ্টেই আমাদের দিন অতিবাহিত করতে হচ্ছে।আমাদের বাপ-দাদার পেশা হিসেবে শিল্প টিকে টিকিয়ে রেখেছি এখনো । এ পর্যন্ত কামার শিল্পের সাহায্যে কেউ এগিয়ে আসেনি। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা না পেলে অচিরেই এ শিল্প বিলীন হয়ে যাবে। এ ব্যাপারে রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাজী আতিকুর রহমান বলেন কামার শিল্পঅতি প্রাচীন শিল্প এ শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে হবে। এ শিল্প বাংলার ঐতিহ্য। আমরা অবশ্যই চেষ্টা করব এ শিল্প কিভাবে টিকিয়ে রাখা যায।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা