গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলায় শারদীয় দুর্গাপূজাকে ঘিরে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপে দিন-রাত জেগে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিমা তৈরির কারিগররা। প্রতিমা নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। এখন চলছে প্রতিমায় রং করা, সাজসজ্জা ও ডেকোরেশনের কাজ। আগামী এক-দুই দিনের মধ্যে প্রতিমায় শাড়ি, অলংকারসহ অন্যান্য সাজসজ্জার কাজও শেষ হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সরেজমিনে উপজেলার চাপাইর, খালপার, নামাশুলাই ও শিমুলতলী এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন পূজামণ্ডপে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। কোথাও প্রতিমায় রং-তুলির কাজ চলছে, আবার কোথাও মণ্ডপ সাজানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন আয়োজকরা। সব মিলিয়ে পুরো এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এবার কালিয়াকৈর উপজেলায় মোট ১৪৫টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। পূজাকে কেন্দ্র করে প্রতিটি মণ্ডপে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। পূজার প্রয়োজনীয় সামগ্রী থেকে শুরু করে আলোকসজ্জা ও অন্যান্য সাজসজ্জার কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে।
দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা। প্রতিটি পূজামণ্ডপে গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী, পুলিশ প্রশাসন, র্যাব ও ভ্রাম্যমাণ টহল দলের মাধ্যমে নিরাপত্তা নিশ্চিতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিটি মণ্ডপকে সিসি ক্যামেরার আওতায় রাখা হয়েছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কোনো ধরনের নাশকতা বা অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে, সেজন্য সার্বক্ষণিক নজরদারি থাকবে। পূজামণ্ডপ ও আশপাশের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন।
মণ্ডপগুলো ঘুরে দেখা গেছে, দুর্গাপূজাকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। পূজার পাশাপাশি নতুন পোশাক কেনাকাটা এবং পূজার বিভিন্ন সামগ্রী সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন স্থানীয়রা। দর্শনার্থীরা যাতে নির্বিঘ্নে পূজামণ্ডপে যাতায়াত করতে পারেন, সে বিষয়টিও বিবেচনায় নিয়ে অনেক মণ্ডপ প্রশস্ত রাস্তার পাশে স্থাপন করা হয়েছে।
কালিয়াকৈর উপজেলা হিন্দু মহাজোটের সাধারণ সম্পাদক অর্জুন চন্দ্র সরকার বলেন, অন্যান্য বছরের মতো এবারও উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপন হবে বলে তারা আশা করছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা ও নিরাপত্তার আশ্বাস পাওয়ায় পূজা উদযাপন নিয়ে তারা আশাবাদী।
কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম ফখরুল ইসলাম থানা প্রশাসন, পূজা উদযাপন কমিটি এবং বিভিন্ন হিন্দু সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন। এ সময় তিনি পূজা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তার পূর্ণ আশ্বাস দিয়েছেন।
সব মিলিয়ে প্রতিমায় রং-তুলির শেষ আঁচড়, মণ্ডপের সাজসজ্জা ও নিরাপত্তা প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন সংশ্লিষ্টরা। এখন শুধু অপেক্ষা বহুল প্রতীক্ষিত শারদীয় দুর্গোৎসবের।