দেশকে অস্থিতিশীল করার পরিকল্পিত সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের অভিযোগের বিরুদ্ধে পটুয়াখালী জেলা বিএনপির উদ্যোগে বিশাল সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে পটুয়াখালী পৌর শহরের ঝাউতলায় এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলা পরিষদ প্রশাসক স্নেহাংশু সরকার কুট্টি। সমাবেশে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. মজিবুর রহমান টোটন, জেলা বিএনপি নেতা ও সাবেক পৌর মেয়র মোশতাক আহমেদ পিনুসহ জেলা ও উপজেলা বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা বক্তব্য দেন।
সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, গত ৫ আগস্টের পর দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে কিছু রাজনৈতিক দল ব্যক্তিস্বার্থে পরিস্থিতি কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছিল। তাদের দাবি, সাধারণ জনগণ এসব প্রচেষ্টা প্রত্যাখ্যান করেছে এবং জনগণ ভোটের মাধ্যমে বিএনপিকে সংখ্যাগরিষ্ঠতা দিয়ে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে।
বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, পরাজিত ও সুযোগসন্ধানী রাজনৈতিক গোষ্ঠী পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র করছে। বিএনপি ও সাধারণ জনগণ এ ধরনের কর্মকাণ্ড মেনে নেবে না বলেও তারা বক্তব্য দেন। চলমান সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য বন্ধ না হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে তা প্রতিহত করার হুঁশিয়ারি দেন নেতারা।
সমাবেশে দলীয় সাংগঠনিক কার্যক্রম নিয়েও নেতারা বক্তব্য দেন। তারা জানান, সারা দেশে বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কমিটি পুনর্গঠন চলছে। দলীয় কমিটিতে ‘হাইব্রিড নেতা’, মাদকসেবী বা মাদক ব্যবসায়ীদের স্থান না দেওয়ার কথা উল্লেখ করেন তারা।
আন্দোলন-সংগ্রামে নির্যাতিত, নিপীড়িত ও ত্যাগী নেতাকর্মীদের যোগ্য মূল্যায়ন করা হবে বলেও নেতারা জানান। একই সঙ্গে সমাজ ও দেশকে মাদকমুক্ত করতে দলের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অব্যাহত রাখার কথা বলেন তারা।
সমাবেশকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই পটুয়াখালী শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা ঝাউতলায় জড়ো হতে থাকেন। আয়োজকদের দাবি, জেলার আটটি উপজেলা থেকে প্রায় ১০ হাজার নেতাকর্মী সমাবেশে অংশ নেন। এতে সমাবেশস্থল জনসমাগমে পরিণত হয়।
সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এ সময় সন্ত্রাস, নৈরাজ্য ও মাদকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন অংশগ্রহণকারীরা।