২০২৬ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে মৌলভীবাজার জেলায় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫৫ দশমিক ৯২ শতাংশ। এ বছর জেলার সাতটি উপজেলা থেকে মোট ১৯ হাজার ৮৫৬ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১১ হাজার ১০৩ জন। জেলায় মোট ৭২৫ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে।
সিলেট শিক্ষা বোর্ডের অধীনে প্রকাশিত ফলাফলে মৌলভীবাজার জেলার সার্বিক পাসের হার গতানুগতিক সাফল্যের তুলনায় কিছুটা হতাশাজনক হলেও জিপিএ-৫ অর্জনের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের মেধার স্বাক্ষর স্পষ্ট হয়েছে। ফল প্রকাশের পর জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কৃতী শিক্ষার্থীদের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা গেছে।
জেলা শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, মৌলভীবাজারের বিভিন্ন উপজেলার ফলাফলে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। জেলা সদর ও পৌর এলাকার শীর্ষস্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বরাবরের মতোই ভালো ফলাফল করেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ জিপিএ-৫ অর্জন করেছে।
শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ উপজেলায় পরীক্ষার্থীর সংখ্যা তুলনামূলক বেশি। চা-বাগান ও সীমান্তবর্তী এলাকার শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণও রয়েছে উল্লেখযোগ্য। এসব এলাকায় পাসের হারে মিশ্র চিত্র দেখা গেলেও চা-বাগান এলাকার কিছু শিক্ষার্থীর ভালো ফলাফল স্থানীয়ভাবে প্রশংসা কুড়িয়েছে।
কুলাউড়া, জুড়ী ও বড়লেখা উপজেলার একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শতভাগ পাসের সাফল্য অর্জন করেছে। বিশেষ করে জিপিএ-৫ পাওয়ার ক্ষেত্রে কুলাউড়া ও বড়লেখার কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভালো ফলাফল করেছে। এতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে।
রাজনগর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামীণ ও মফস্বল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাও ভালো ফলাফল করেছে। পাসের হার ও জিপিএ-৫—দুই ক্ষেত্রেই বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান নিজেদের সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে।
ফল প্রকাশের পর কৃতী শিক্ষার্থীরা নিজেদের সাফল্যের জন্য শিক্ষক ও অভিভাবকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে। শিক্ষার্থীদের অনেকেই ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষায় ভালো করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে।
তবে মৌলভীবাজার জেলায় সার্বিক পাসের হার ৫৫ দশমিক ৯২ শতাংশ হওয়ায় স্থানীয় শিক্ষাবিদদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাদের মতে, ইংরেজি ও গণিতের মতো আবশ্যিক বিষয়ে অনেক শিক্ষার্থী কাঙ্ক্ষিত ফল করতে না পারায় সামগ্রিক পাসের হার কমেছে।
শিক্ষাবিদরা মনে করছেন, উপজেলা পর্যায়ে পিছিয়ে থাকা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো চিহ্নিত করে বিশেষ পাঠদান, নিয়মিত মূল্যায়ন, শিক্ষকদের তদারকি এবং দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা একাডেমিক সহায়তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এসব উদ্যোগ কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে আগামী বছর মৌলভীবাজারের এসএসসি ফলাফলে আরও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।