দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় গ্রেফতার হয়ে কারাগারে গেছেন বান্দরবান সদর ও রোয়াংছড়ি উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা সাবেক উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মিলটন দস্তিদার। গ্রেফতারের পর আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে তিনি চাঁদপুর জেলা কারাগারে রয়েছেন।
কারাগারে যাওয়ার পর বাংলাদেশ সার্ভিস রুলসের (বিএসআর) পার্ট-১-এর ৭৩ নম্বর বিধির নোট-২ অনুযায়ী তাকে সরকারি চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এদিকে রোয়াংছড়ি উপজেলায় প্রায় ২৪ কোটি টাকার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম, দুর্নীতি ও সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে অভিযুক্ত এই কর্মকর্তাকে নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
অভিযোগ রয়েছে, উপজেলা ত্রাণ ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে মিলটন দস্তিদারের সময়ে টেস্ট রিলিফ (টিআর), কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা), কাজের বিনিময়ে টাকা (কাবিটা) এবং বিভিন্ন গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে কাজ সম্পন্ন না করেই বরাদ্দের অর্থ ও খাদ্যশস্য উত্তোলন করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর, ঢাকা এবং জেলা কর্ণধার কমিটির অনুমোদনের পর বান্দরবান জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ত্রাণ ও পুনর্বাসন শাখা থেকে এসব প্রকল্পে উপ-বরাদ্দ দেওয়া হয়। বরাদ্দ সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও প্রশাসকদের অনুকূলে দেওয়া হয়েছিল।
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রোয়াংছড়ি উপজেলায় কাবিটা ও কাবিখার প্রথম, দ্বিতীয় ও বিশেষ বরাদ্দের আওতায় ২৫টি প্রকল্পে নগদ ৭৭ লাখ ৪৬ হাজার ২৭৮ টাকা, ছয়টি প্রকল্পে ৪৬ দশমিক ১৬৯৯ মেট্রিক টন চাল এবং পাঁচটি প্রকল্পে সমপরিমাণ গম বরাদ্দ দেওয়া হয়।
এ ছাড়া টিআর কর্মসূচির প্রথম ধাপে ১৬টি প্রকল্পে ৪৪ লাখ ২৫ হাজার ৯১২ টাকা এবং দ্বিতীয় ধাপে ১৯টি প্রকল্পে ৪৪ লাখ ৮১ হাজার ৯৮৭ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। একই কর্মসূচির আওতায় পাঁচটি প্রকল্পে ২৬ দশমিক ৭৩ মেট্রিক টন চাল এবং পাঁচটি প্রকল্পে সমপরিমাণ গম বরাদ্দ দেওয়া হয়।
বরাদ্দের হিসাব অনুযায়ী, বিভিন্ন প্রকল্পে নগদ অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ১ কোটি ৬৬ লাখ ৫৪ হাজার ১৭৭ টাকা ৬০ পয়সা। এর বাইরে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ খাদ্যশস্যও বরাদ্দ দেওয়া হয়।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, সরকারি নথিপত্রে বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন দেখানো হলেও বাস্তবে এসব প্রকল্পের সিংহভাগ কাজ বাস্তবায়িত হয়নি। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে।
সরকারি অর্থের অপব্যবহার ও আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের দায়ের করা মামলার বিচারিক কার্যক্রমের মধ্যেই মিলটন দস্তিদারকে গ্রেফতার করা হয়। পরে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
তবে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।