লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে স্ত্রী ও প্রতিবন্ধী সন্তানসহ প্রবাসী মনির হোসেনের মৃত্যুর ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (৩০ আগস্ট) উপজেলার ভোলাকোট ইউনিয়নের আথাকরা বাজারে স্থানীয় এলাকাবাসী ও নিহতের স্বজনদের উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া স্থানীয়রা দ্রুত মামলার তদন্ত শেষ করে ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
নিহত মনির হোসেন রামগঞ্জ উপজেলার ভোলাকোট ইউনিয়নের দেহলা গ্রামের ছেরাজুল হক বেপারী বাড়ির আব্দুল মান্নানের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন প্রবাসে ছিলেন।
নিহতের পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৮ জুন মনির হোসেন তাঁর প্রতিবন্ধী ছেলে নাঈম (১৮) ও অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (৩৬) চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে যান। চিকিৎসকের সিরিয়াল না পাওয়ায় ওই রাতে স্ত্রী-সন্তানসহ রাজধানীর মগবাজার এলাকার একটি হোটেলে অবস্থান করেন তারা।
পরিবারের অভিযোগ, ওই হোটেলে অবস্থানকালে মনিরের বাড়ির কেয়ারটেকার মোহাম্মদ রফিক মিয়া (৫৫) তাদের জন্য খাবার সরবরাহ করেন। খাবার খাওয়ার পর তিনজনই অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরদিন তাদের রাজধানীর আদ্-দীন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে সকালে স্বপ্না আক্তার, কিছুক্ষণ পর ছেলে নাঈম এবং দুপুরের দিকে মনির হোসেন মারা যান।
পরিবারের দাবি, খাদ্যে বিষক্রিয়ার কারণে তাদের মৃত্যু হয়েছে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও ঘটনায় কারা জড়িত—তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার বিষয়।
এ ঘটনায় ২০২৫ সালের ১ জুলাই নিহত মনিরের ভাই প্রবাসী নুরুল আমিন বাদী হয়ে রাজধানীর রমনা থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।
নিহতের আরেক ভাই রুহুল আমিন অভিযোগ করেন, মোহাম্মদ রফিক মিয়া পরিকল্পিতভাবে তাঁর ভাই, ভাবি ও ভাতিজাকে হত্যা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, রফিক মনিরের অর্থ-সম্পদ আত্মসাৎ করেছেন। মামলায় গ্রেপ্তারের পর জামিনে মুক্ত হয়ে রফিক তাদের হুমকি দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এদিকে মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) ডিএমপির ঢাকা দক্ষিণের পরিদর্শক কামরুজ্জামান শিকদার সম্প্রতি রামগঞ্জ উপজেলার দেহলা গ্রামে নিহত মনিরের বাড়িতে যান। তিনি স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং মামলার বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করেন।
পিবিআই ডিএমপির ঢাকা দক্ষিণের পরিদর্শক কামরুজ্জামান শিকদার বলেন, মনির হোসেন, তাঁর স্ত্রী ও ছেলেকে হত্যার ঘটনায় রফিক নামে একজনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছিল। পরে তিনি জামিনে মুক্ত হন। তদন্তের স্বার্থে তাকে একাধিকবার জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। মামলার তদন্তের জন্য মনিরের গ্রামের বাড়িতে এসেছেন জানিয়ে তিনি বলেন, তদন্ত চলমান রয়েছে। মনির ও তাঁর স্ত্রী-সন্তানের মৃত্যুর ঘটনায় জড়িতদের শাস্তি হওয়াই তাদেরও প্রত্যাশা।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, তিনজনের মৃত্যুর ঘটনায় পরিবার দীর্ঘদিন ধরে ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় রয়েছে। দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার রহস্য উদঘাটন করে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তারা।
নিহত পরিবারের সদস্যরা মামলার তদন্ত দ্রুত শেষ করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি নিরাপত্তারও দাবি জানিয়েছেন।