• রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬, ১২:৫৮ পূর্বাহ্ন
Headline
পেট্রোলসদ্যৃশ তরল ঢেলে শ্রমিক সর্দারকে পুড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা, রাজশাহী মেডিক্যালে ভর্তি কালীগঞ্জে এক বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামী গ্রেফতার সুসুয়া চরে এইচসিআই -এর অর্থায়নে চাইল্ড স্পনসরশিপ প্রোগ্রামের সহায়তা সামগ্রী বিতরণ রাউজান প্রেস ক্লাবের সাংগঠনিক সভা অনুষ্ঠিত নদী বাঁচাও, দেশ বাঁচাও একজন জেলা প্রশাসক থেকে শিক্ষকেরা শিখবে কি? সাবেক শিবির কর্মী-সাথী ও সদস্যদের নিয়ে জামায়াতের সমাবেশ রাজনীতিতে উদারতা না থাকায় গণতন্ত্রের আড়ালে স্বৈরতন্ত্র নিজের ঘরে নিজে আগুন লাগিয়ে চাচাতো ভাই সহ ১২ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা কাপাসিয়ায় গাছ কাটার অভিযোগ, প্রাণনাশের হুমকির দাবি

রাজনীতিতে উদারতা না থাকায় গণতন্ত্রের আড়ালে স্বৈরতন্ত্র

Reporter Name / ১৩ Time View
Update : শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬

ডেস্ক রিপোর্ট

১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর স্বৈরাচারী শাসক জেনারেল এরশাদের পতন বাংলাদেশকে গণতন্ত্রিক দেশ গঠনের সুযোগ করে দিয়েছিল। স্বাধীন বাংলাদেশের জন্য একটা সুন্দর রাজনৈতিক পরিবেশ করতে রাজনৈতিক দল সমুহের মধ্য ঐক্য তৈরি হয়েছিল। কেয়ারটেকার সরকার পদ্ধতিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন করার জন্য সকল রাজনৈতিক দল ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধি একমত হয়েছিলো। প্রধান বিচারপতি সাহাবউদ্দিনের অধিনে জাতীয় ঐক্যমতের ভিত্তিতে একটা সুষ্ঠু নিরপেক্ষ ও গ্রহনযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠান হয়েছিলো। বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃতাধীন বিএনপি একক সংখ্যা গরিষ্ঠ আসন না পেলেও সর্বাধিক আসন পেয়ে বিজয়ী হয়। বিএনপিকে সরকার গঠন করার জন্য আরো ১১ আসনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়।
জামায়াত ইসলামী সরকার গঠনে বিএনপিকে সমর্থন না দিলে দীর্ঘ ৯ বছরের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের সফলতা ও গণতন্ত্র বৃথা হয়ে যায় ।

আওয়ামীগের নেতৃত্বে দ্বিতীয় বৃহত্তম দল হিসাবে এরশাদের জাতীয় পাটি, জামায়াতের ইসলামী ও অন্যান্য ছোট ছোট রাজনৈতিক দল সমর্থন নিয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সরকার গঠনের সুযোগ ছিল। জামায়াতের ১৮ আসন, আওয়ামী লীগ ৮৮, জাতীয় পার্টি ৩৫, বাকশাল ৫, গনতান্ত্রিক পার্টি ১, কমিউনিস্ট ৫, ন্যাপ ১ ও অন্যান্য মিলে মোট ১৫১ আসন হয়ে যেতো। বিএনপি ও আওয়ামী লীগ নিজস্ব জোট তৈরি করে জামায়াতের সমর্থন আদায়ের জন্য সরকার গঠন করার পক্রিয়া শুরু হয়ে যায়। জামায়াত সে দিন কারো প্রলোভনে পড়েনি। সে দিন জাময়াত ছিলো সরকার গঠনে ডিসাইসিব ফ্যাক্টর। অর্থাৎ যাকে সমর্থন দিবে সেই সরকার গঠন করবে।

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে মহাসচিব ব্যারিস্টার আব্দুস সালাম তালুকদার লিখিতভাবে জামায়াতে ইসলামীর সমর্থন কামনা করে অধ্যাপক গোলাম আজমকে চিঠি দিয়েছিল। বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বোভৌমত্ব, গনতান্ত্রিক মুল্যবোধ, স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের ফলাফলকে ভেস্তে যেতে না দিয়ে লোভ লালসার উর্ধে উঠে জামায়াত নিঃশর্তভাবে বিএনপিকে সরকার গঠন করার সুযোগ করে দিয়েছিল। এই উদারতা বাঙ্গালির চিরায়ত বৈশিষ্ট্যের আলোকে বিএনপি মুল্যায়ন করেনি। ক্ষমতায় বসেই কেয়ারটেকার সরকার পদ্ধতিতে নির্বাচিত হয়ে ঐ পদ্ধতির সুফল লাভ বেমালুম ভুলে গিয়েছিল।

শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ নির্বাচনে নিশ্চিত বিজয়ী হওয়ার আশায় ছিলেন। নির্বাচনে অনিয়ম বা জালিয়াতির আশ্রয় নিতে না পারায় এবং জামায়াতের সমর্থন না পেয়ে রাগে দু:খে ক্ষোভে খালেদা জিয়ার সরকারকে এক মিনিট ও শান্তিতে থাকতে না দেওয়ার ঘোষণা দেন। খালেদা জিয়া প্রশাসনের মাধ্যমে মাগুরার উপনির্বাচন জোর করে বিএনপি প্রাথী কাজী সলিমুল হককে বিজয়ী করেন। যা মাগুরার ক্ষত হিসাবে আন্তর্জাতিক বিশ্বে পরিচিত। শেষ হাসিনা দেখলেন জামায়াতের প্রস্তাবকৃত কেয়ারটেকার সরকার ব্যবস্হা সংবিধানে সংযোজন করার দাবী রাজনৈতিক মাঠে হটকেক। শেষ হাসিনার যেই কথা সেই কাজ। তিনি জাতীয় পাটি এবং জামায়াতে ইসলামীকে নিয়ে ব্যাপক ধংস্বাত্বক আন্দোলন শুরু করলেন।

জাময়াতে ইসলামী বেগম খালেদা জিয়াকে বুঝাইতে চাইলো যে কেয়ারটেকার সরকার ব্যবস্থা জামায়তের ব্রেইনচাইন্ড, সেহেতু জাময়াতের পক্ষে এই রাজনৈতিক আন্দোলন থেকে দুরে থাকা কঠিন, তাই সংসদে কেয়ারটেকার বিল আনুন। কেয়ারটেকার সরকার বিল পাস করান, তাহলে শেখ হাসিনা আন্দোলনের সুযোগ পাবেনা। হাসিনা ও খালেদা দুজনেই জিদের কাঁঠাল কুত্বারে খাওয়াইতে অভ্যস্ত। খালেদা জিয়া জাময়াতের সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করলে ও জাময়াতের কথাকে পাত্তাই দিলেন না। উল্টো বিএনপির বামপন্থীদের চাপে কেয়ারটেকার সরকার ব্যবস্থার রুপকার জামায়াত আমীর অধ্যাপক গোলাম আযম কে জেলে ভরলেন।

জামায়াতের বিএনপিকে সমর্থনের রাজনৈতিক শাস্তি হিসেবে ঘাতক দালাল নির্মুল কমিটি গঠন করে জামায়াত আমীর গোলাম আযমের ফাঁসি দাবী করে জাহানারা ইমামকে দিয়ে মাঠ গরম করে রাখলেন।
অপর দিকে খালেদা জিয়া তার তথাকথিত আপোষহীন ভাবমূর্তি ধরে রাখার জন্য কেয়ারটেকার সরকার ব্যবস্থার সমালোচনা করতে গিয়ে বলে বসলেন “পাগল আর শিশু ছাড়া আর কেউই নিরপেক্ষ নয়” রাজনৈতিক ময়দানে আগুনে ঘি ঢেলে দিলেন!প্রতিহিংসার আগুন দেশগড়ার স্বপ্নকে জ্বালিয়ে দিয়ে ক্ষমতা চর্চা করতে লাগলেন হাসিনা খালেদা দুজনে।

১৯৯৪ সালের মাগুরা উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি জোরালো হয়। তীব্র আন্দোলনের মুখে ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি বিএনপির একতরফা নির্বাচন হলেও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা চলে। পরে বাধ্য হয়ে বিএনপি সরকার নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংবিধানে যুক্ত করে। ১৯৯৬ সালের ২৬ মার্চ দীর্ঘ আওয়ামী লীগ জামায়াতে ইসলামী ও জাতির পাটির আন্দোলনের মুখে বাংলাদেশের সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে নির্বাচনকালীন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিল পাস হয়। ষষ্ঠ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে বিলটি ২৬৮-০ ভোটে পাস হওয়ার পর ২৮ মার্চ রাষ্ট্রপতির সম্মতিতে আইন হিসেবে কার্যকর হয়।

ক্ষমতা দখল চিরস্থায়ী বন্দোবস্তে পরিণত করার জন্য ২০১১ সালে শেখ হাসিনার সরকারের সময়ে সংবিধানে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করা হয়। ২০১১ সালের ৩০ জুন পাস হওয়া এই সংশোধনীর ফলে নির্বাচনকালীন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি পুরোপুরি উঠে যায় এবং দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার বিধান চালু করে ফ্যাসিবাদের শাসন কায়েম করা হয়েছিল।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে ‘বিরোধী দলবিহীন সংসদ নির্বাচন’ বলতে প্রধান বিরোধী দলগুলোর বয়কট বা অংশগ্রহণ না করার মাধ্যমে অনুষ্ঠিত একতরফা নির্বাচন। ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। যেখানে দেশের বড় রাজনৈতিক দলগুলো অংশ নেয়নি এবং গৃহপালিত বিরোধীদের নিয়ে সংসদ গঠিত হয়। নির্বাচন প্রতিযোগিতাপূর্ণ দেখানোর জন্য ক্ষমতাসীনরা স্বতন্ত্র প্রার্থী কিংবা নামসর্বস্ব বা ‘গৃহপালিত’ বিরোধী দলগুলোকে সংসদে নিয়ে আসে।

২০২৬ সালের সংসদ নির্বাচনে ইলেকশান ইঞ্জিনিয়ারিং করে বিএনপি ২১২ আসন নিয়ে সংখ্যাগরিষ্টতা পেয়ে সরকার গঠন করে। সংসদে সংখ্যাগরিষ্টতার জোরে জুলাই বিপ্লবের অংশীদার রাজনৈতিক দল বিএনপি জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫ এর সাংবিধানিক স্বীকৃতি মানছে না। গুম ও মানবাধিকার অধ্যাদেশ বাতিল, বিচারপতি নিয়োগের স্বাধীন কমিশন গঠন বাতিল। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের সংস্কার ইত্যাদি ১৬টি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ বাতিল। সংবিধানে দোহাই দিয়ে জুলাই বিপ্লবের বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণ করার প্রায়শ্চিত্ত বিএনপিকে ভোগ করতে হবে। সংসদ নির্বাচনে দেশের মালিকেরা স্বাধীনভাবে ভোট দিলেও ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং হয়ে যায়। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের কারণে সংসদ সদস্যরা স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারেনি। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের নামে জাতির সাথে নাটক করেছে সরকার!!

এক নেতার একদেশ বংগবন্ধুর বাংলাদেশ। সংখ্যাগরিষ্টতার জোরে ১৯৭৫ সালে বাকশাল টিকে থাকতে পারেনি। ১৯৫২ সালে সালাম রফিক শফিককে খুন করে ভাষা আন্দোলন ঠেকানো যায়নি। সংবিধান সংবিধান কান্নাকাটি করে ১৯৯৪ সালে কেয়ারটেকার সরকার বিল পাশ না করে খালেদা জিয়ার সরকার টিকিয়ে রাখতে পারেনি। ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ প্রধান বিচারপতির বয়স বাড়িয়েও লগিবৈঠার তান্ডব ঠেকাতে পারেন নাই। শেখ হাসিনার সংবিধান সংবিধান কান্নাকাটি করা মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত কেয়ারটেকার সরকার পদ্ধতি সংবিধান থেকে বাতিল করে ১৫ বছর পরে পালিয়ে গেছেন। ১৯৯৪ সালে মাগুরা উপনির্বাচনের মতো ২০২৬ সালে বগুড়া ও শেরপুরে প্রশ্নবোধক উপনির্বাচন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাউদ্দীন আহমেদ সংবিধান সংবিধান কান্নাকাটি করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কে কোথায় নিয়ে যায়, জাতি শেষ পরিনতি দেখার অপেক্ষায় আছে?

ড. খন্দকার নাজমুল হক
প্রাবন্ধিক ও উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা