কাপাসিয়া (গাজীপুর) প্রতিনিধি: গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার টোক ইউনিয়নের নয়াসাঙ্গুন এলাকায় দীর্ঘদিনের ভোগদখলীয় জমিতে অনধিকার প্রবেশ করে মেহগনিসহ বিভিন্ন গাছ কেটে ফেলা এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কয়েকজনের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় নয়াসাঙ্গুন গ্রামের মৃত ইদ্রিস আলীর ছেলে মো. শামিম মিয়া (৩৯) টোক নয়ন বাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নয়াসাঙ্গুন মৌজার ৮৭ নম্বর দাগে ১০.৭৭৫ শতাংশ জমি পৈতৃক সূত্রে প্রায় ৩৫ বছর ধরে ভোগদখল ও ব্যবহার করে আসছেন শামিম মিয়া। গত ১৮ আগস্ট ২০২৬ তারিখে অভিযুক্তরা তাকে জমিতে যাওয়ার জন্য খবর দেন। সেখানে গেলে জমির মালিকানা ও অধিকার নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। শামিম মিয়া বিষয়টি কাগজপত্র ও দলিলাদি যাচাই করে শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানের প্রস্তাব দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, পরদিন সকালে শামিম জানতে পারেন, অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধভাবে তার ভোগদখলীয় জমিতে প্রবেশ করে নিজ হাতে রোপণ করা বড় বড় মেহগনি গাছসহ কয়েকটি গাছ কেটে ফেলেছেন। এতে তার উল্লেখযোগ্য আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
শামিম মিয়ার অভিযোগ, গাছ কাটার বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্তরা তাকে, তার চাচা ও স্ত্রীকে প্রাণনাশের হুমকি দেন এবং ভবিষ্যতে ওই জমিতে গেলে আরও বড় ধরনের ক্ষতি করার ভয়ভীতি দেখান। এতে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করেছেন।
ঘটনার পর তিনি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, ইউপি সদস্য মো. রিয়াজ উদ্দিন ও এলাকাবাসীকে বিষয়টি অবহিত করেন। পরে ঘটনাস্থল সরেজমিনে দেখানোর জন্য সাংবাদিকদেরও নিয়ে যান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযুক্তরা হলেন—মো. বাক্কার (৫০), আবু তাহের, আব্দুস সাত্তার, আব্দুল খালেক, আব্দুল জাব্বার ও আব্দুল হামিদ নয়ন। তাদের মধ্যে প্রথম পাঁচজনের পিতা মৃত শুক্কুর আলী এবং আব্দুল হামিদ নয়নের পিতা আবুল হাসেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে শামিম মিয়া টোক নয়ন বাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে অভিযোগ দিয়ে ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তার ও পরিবারের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।