কুমিল্লায় গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) বিশেষ অভিযানে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্র ও বিভিন্ন সরঞ্জাম, একটি পিকআপ গাড়ি এবং একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়।
সোমবার (১৭ আগস্ট ২০২৬) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে কুমিল্লা-নোয়াখালী মহাসড়কের সদর দক্ষিণ থানার লালমাই বাজার এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করে ডিবি কুমিল্লার একটি বিশেষ আভিযানিক দল।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ডিবির বিশেষ দল লালমাই বাজার এলাকায় অবস্থান নেয়। এ সময় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে একটি পিকআপ গাড়ি থেকে দুইজনকে আটক করা হয়। একই সময়ে গ্রেফতার এড়াতে মোটরসাইকেলযোগে পালানোর চেষ্টা করলে আরও তিনজনকে আটক করে পুলিশ।
পরে আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, ওই রাতে তারা সদর দক্ষিণ থানার পদুয়ার বাজার এলাকায় একত্রিত হয়ে কুমিল্লা-চাঁদপুর মহাসড়কের পরানপুর বাজার এলাকায় ডাকাতির উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন। তবে ডিবির বিশেষ টিমের তৎপরতায় ডাকাতি সংঘটনের আগেই তাদের আটক করা সম্ভব হয়।
ডিবি পুলিশ আরও জানায়, গ্রেফতার ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন জেলার বিভিন্ন থানা এলাকায় সংঘবদ্ধভাবে ডাকাতির সঙ্গে জড়িত বলে প্রাথমিকভাবে তথ্য পাওয়া গেছে। গ্রেফতারদের মধ্যে জহিরুল ইসলাম প্রধানিয়া ফারুক (৫৩)-কে চক্রটির সর্দার হিসেবে উল্লেখ করেছে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে চাঁদপুর জেলার বিভিন্ন থানায় পাঁচটি নিয়মিত মামলা রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন—
১. জহিরুল ইসলাম প্রধানিয়া ফারুক (৫৩)—পিতা: মৃত কারী শহিদুল্লাহ, মাতা: মততাজ বেগম। সাং-হোসেনপুর (প্রধানিয়া বাড়ি), থানা-সদর, জেলা-চাঁদপুর। বর্তমানে কুমিল্লা নগরীর টমছম ব্রিজ এলাকার ছন্দু হোটেলের পশ্চিম পাশে হাবিবের বাড়ির ভাড়াটিয়া।
২. মো. মামুন মিজী (৪৫)—পিতা: মৃত কালাম মিজী, মাতা: মৃত হালিমা বেগম। সাং-ঢড্ডা (মিজী বাড়ি), থানা-হাজীগঞ্জ, জেলা-চাঁদপুর। বর্তমানে কচুয়া চৌমুহনী (তালতলা), থানা-সদর দক্ষিণ, জেলা-কুমিল্লা।
৩. মো. কবির ভূঁইয়া (৪০)—পিতা: মৃত বাচ্চু মিয়া, মাতা: ফাতেমা বেগম। সাং-সাচইনমেঘ, নোয়াব আলী মুন্সী বাড়ি, থানা-ফরিদগঞ্জ, জেলা-চাঁদপুর।
৪. মো. রবিউল আলম (৩৫)—পিতা: মৃত ধুলুবারি, মাতা: ফাতেমা বেগম। সাং-মদনা, থানা-সদর, জেলা-চাঁদপুর।
৫. মো. নজরুল ইসলাম (৩৫)—পিতা: আবুল বাশার, মাতা: মনি বেগম। সাং-ভাটিয়ালপুর (গাজী বাড়ি), থানা-ফরিদগঞ্জ, জেলা-চাঁদপুর। বর্তমানে শিবপুর (লালমাই বাজার সংলগ্ন ডাক্তার বাড়ি), থানা-সদর দক্ষিণ, জেলা-কুমিল্লা।
অভিযানে গ্রেফতারদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়—
- ১টি লোহার বোল্ট কাটার
- ১টি সেলাই রেঞ্জ
- ১টি প্লাস
- ১টি লোহার রড
- ২টি কাঠের বাটযুক্ত কিরিজ
- ১টি কাঠের বাটযুক্ত হাসুয়া
- ১টি কালো রঙের কাপড়ের ব্যাগ
- ১টি নীল রঙের পিকআপ গাড়ি
- ১টি কালো রঙের ডিসকভার মোটরসাইকেল
ডিবি পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে তাদের সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।