মোঃ মিজু সরকার হৃদয় কিশোরগঞ্জ ,নীলফামারী প্রতিনিধি :
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ আমলি আদালতে চাঞ্চল্যকর এক ঘটনার সৃষ্টি হয়েছে। চাঁদাবাজি ও অপহরণসংক্রান্ত একটি মামলায় মূল আসামির পরিবর্তে বহিরাগত এক ব্যক্তি আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে নিজেকে আসামি পরিচয় দিয়ে হাজির হন। পরে আদালতের হাজতখানায় নাম-ঠিকানা যাচাইয়ের সময় ঘটনাটি ধরা পড়ে। বিষয়টি জানাজানি হলে আদালতপাড়ায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
আদালত সূত্র ও মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, কিশোরগঞ্জ থানার মামলা নং-৯, তারিখ ১৪ অক্টোবর ২০২৫, জি.আর নং-২৭৪/২০২৫ (কিশোরগঞ্জ), পেনাল কোডের ৩৪২/৩৮৬/৩৮৭ ধারায় দায়ের হওয়া মামলায় সোমবার (১৮ মে) অভিযোগপত্র গ্রহণ ও জামিন শুনানির দিন ধার্য ছিল।
মামলার বাদী মো. মনির হোসেন মিয়া (৫৩), চাঁদপুর জেলার মতলব উত্তর উপজেলার নচিন্তপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং মেসার্স এম এস কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড কোম্পানির স্বত্বাধিকারী। তিনি এজাহারে উল্লেখ করেন, এলজিইডির আওতাধীন প্রায় দুই কোটি টাকার উন্নয়নকাজ বাস্তবায়নে নীলফামারীর কয়েকজন ব্যক্তি শ্রমিক সরবরাহের দায়িত্বে ছিলেন। কিন্তু শ্রমিকদের প্রায় ১৮ লাখ ৯০ হাজার টাকা বকেয়া রেখে তারা কাজ বন্ধ করে দেন এবং পরবর্তীতে আরও অতিরিক্ত অর্থ দাবি করেন।
এজাহারে বলা হয়, ২০২৫ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর শ্রমিক সরবরাহ সংক্রান্ত অর্থ নিয়ে আলোচনার জন্য বাদী মনির হোসেন নীলফামারীতে গেলে অভিযুক্তরা তাকে কিশোরগঞ্জ উপজেলার নিতাই গাংবের এলাকায় নিয়ে যায়। সেখানে তাকে ও তার সহযোগীকে জিম্মি করে ভয়ভীতি দেখিয়ে নগদ ১১ লাখ ৩১ হাজার টাকা ও চারটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
ঘটনার পর কিশোরগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের হলে তদন্ত শেষে এসআই আমিনুল ইসলাম অভিযোগের সত্যতা পেয়ে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।
মামলার বাদী মনির মিয়া বলেন, আমি মামলা দায়ের করে নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে আছি, আমাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে । আমি এখন বিচার চাই, প্রশাসনের সহায়তা চাই।
সোমবার মামলার আসামিরা আইনজীবী মো. মোরসালিন রায়হান (কাকন)-এর মাধ্যমে আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক মো. মাহমুদুল হাসান, আমলি আদালত, কিশোরগঞ্জ, নীলফামারী ন্যায়বিচারের স্বার্থে সকল আসামির জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাদের সি-ডব্লিউ মূলে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এরপর আদালতের হাজতখানায় আসামিদের নাম-ঠিকানা রেজিস্টারে অন্তর্ভুক্ত করার সময় এক ব্যক্তি কান্নাকাটি শুরু করেন। দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, তার নাম মো. সুমন। তিনি এ মামলার আসামি নন। প্রকৃত আসামি তার খালাতো ভাই মো. মাসুদের অনুরোধে তিনি আদালতে ‘প্রক্সি’ হিসেবে দাঁড়িয়েছিলেন।
পরে তাকে পুনরায় আদালতে হাজির করা হলে বিচারকের জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেন, আমি এই মামলার কিছুই জানি না। খালাতো ভাইয়ের কথায় সরল বিশ্বাসে আদালতে দাঁড়িয়েছিলাম।
একপর্যায়ে তার বক্তব্যে অসংগতি ধরা পড়লে আদালত তাকেও জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দেন।
এ বিষয়ে মামলার বাদী মনির হোসেন মিয়া বলেন, “আসামিরা প্রতারণা ও ভয়ভীতি দেখিয়ে আমার নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়েছে। এতে আমি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। আমি আদালতের কাছে সুষ্ঠু বিচার প্রত্যাশা করছি।
আসামিপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ মোরসালিন রায়হান কাকন বলেন, “আসামিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী হাজিরা ও জামিন আবেদন প্রস্তুত করা হয়েছিল। আদালত জামিন নামঞ্জুরের পরই আমরা জানতে পারি, মাসুদের পরিবর্তে সুমন আদালতে উপস্থিত ছিলেন।