
মোহাম্মদ উল্লাহ, নোয়াখালী প্রতিনিধি
নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলায় অবৈধ মাটি কাটার কাজে ব্যবহৃত একটি ভেকুর অসাবধানতায় বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে গুরুতর আহত হয়েছে কয়েকজন শিশু। তাদের মধ্যে তামজিদ হোসেন (১৪) নামের এক কিশোর মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে। এ ঘটনায় এলাকায় চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
রোববার (১১ মে) সকাল সাতটার দিকে উপজেলার উত্তর কাদরা এলাকার রহিমার নতুন বাড়ি সংলগ্ন জাফর আহমদ চৌধুরী ফ্যাক্টরির পাশে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহত তামজিদ ওই এলাকার বাসিন্দা মজিবুল হকের ছেলে।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে বাড়ির পাশে কয়েকজন সমবয়সী শিশুর সঙ্গে খেলাধুলা করছিল তামজিদ। এ সময় সেখানে অবৈধভাবে মাটি কাটার কাজে নিয়োজিত একটি ভেকু আসে। ভেকুর বুম ওপরে তোলার সময় অসাবধানতাবশত পাশ দিয়ে যাওয়া বৈদ্যুতিক তারে জড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে তারটি ছিঁড়ে মাটিতে পড়ে যায় এবং পুরো এলাকায় বিদ্যুৎ ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনার ভয়াবহতা বুঝতে না পেরে খেলায় মগ্ন শিশুরা ভেকু ও ছিঁড়ে পড়া তারের সংস্পর্শে এলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়। এতে কয়েকজন আহত হলেও তামজিদের শরীরে গুরুতর বৈদ্যুতিক শক লাগে। স্থানীয় লোকজন দ্রুত তাকে উদ্ধার করে প্রথমে সেনবাগ সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান।
সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তার শারীরিক অবস্থার অবনতি দেখে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠান। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, তামজিদের অবস্থা আশঙ্কাজনক। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে দ্রুত ঢাকায় স্থানান্তরের পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকেরা।
এদিকে ঘটনার পর অভিযুক্ত ভেকুচালক কোনো ধরনের সহযোগিতা না করে ঘটনাস্থল থেকে ভেকুসহ পালিয়ে যান বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, চালকের নাম সুজন এবং তিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় অবৈধ মাটি কাটার কাজে জড়িত।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জানান, তামজিদের পরিবার অত্যন্ত দরিদ্র। উন্নত চিকিৎসার ব্যয় বহন করা তাদের পক্ষে প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তারা প্রশাসনের কাছে শিশুটির চিকিৎসায় সহায়তা এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় একটি প্রভাবশালী চক্র অবৈধভাবে মাটি কেটে আসছে। একাধিক অভিযোগ ও প্রতিবাদের পরও রহস্যজনক কারণে তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। প্রশাসনের কিছু অসাধু ব্যক্তি ও স্থানীয় প্রভাবশালীদের ছত্রচ্ছায়ায় এসব কর্মকাণ্ড চলমান রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। সচেতন মহল বলছে, অবৈধ মাটি কাটা ও ভারী যন্ত্রপাতির অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের কারণে জননিরাপত্তা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।